জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা, বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো নির্মাণাধীন ক্যাম্প
জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২৫ মে ২০২৬ ইং, সময়: সন্ধ্যা ০৭:২০ মিনিট। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত এই হামলায় অংশ নেয় সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ জন সশস্ত্র সদস্য। হামলায় ব্যবহার করা হয় রামদা, দেশীয় অস্ত্র এবং অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেলসহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র। হামলার সময় বুলডোজার ব্যবহার করে আলীনগর স্কুলসংলগ্ন নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল ব্যাহত করতে মূল সড়ক থেকে বিভিন্ন অংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয় যোগাযোগব্যবস্থা। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অন্তত ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হামলা কিংবা পরবর্তী অভিযানে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব জানিয়েছে, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে এবং হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আগামী ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসার কথা রয়েছে। যে ক্যাম্পটি সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেটি উদ্বোধনেরও পরিকল্পনা ছিল ওই সফরে। র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, রবিবার রাত ১টার দিকে ইয়াসিন বাহিনীর ২৫০ থেকে ৩০০ জন সশস্ত্র সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। তাদের হাতে রামদা, দেশীয় অস্ত্র এবং একে-৪৭ রাইফেলের মতো আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তিনি বলেন, হামলাকারীরা বুলডোজার দিয়ে আলীনগর স্কুলে অবস্থানরত যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পেছনের দেয়াল ভেঙে ফেলে। স্কুলের শেষ প্রান্তে নতুন একটি অস্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণাধীন ছিল, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। হামলাকারীরা সেটির প্রায় পুরো অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত রাখে এবং সেই সুযোগে ভাঙচুর চালায়। পাহাড়ে নির্মিত কয়েকটি নতুন টিনের ঘরের ভেতর থেকে টিন ফুটো করে বন্দুকের নল বের করে গুলিও ছোড়া হয়। র্যাব-৭ অধিনায়ক আরও বলেন, ইয়াসিন ও তার সহযোগীরা আলীনগর সংলগ্ন পাহাড়ি ও জঙ্গলে অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকে। মূল সড়ক থেকে আলীনগরে পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে এবং রাস্তা ভেঙে দেওয়ার কারণে দ্রুত অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার আরও সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে যত ঝাঁকুনি দিক, আমাদের পিছু হটার সুযোগ নেই। ইয়াসিন, রোকন বা যারাই জড়িত থাকুক, সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।” পুলিশ সুপার জানান, হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। হামলার আগে ভেকু মেশিন দিয়ে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে এলাকা বিচ্ছিন্ন করা হয়। একইসঙ্গে নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প ছিল—একটি প্রবেশমুখে এবং অন্যটি আলীনগর এলাকায়। নতুন যে অস্থায়ী ক্যাম্পটি নির্মাণ করা হচ্ছিল, সেটিই ছিল হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্য। উদ্দেশ্য ছিল সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান নিতে না পারে। এসপি মাসুদ আলম জানান, আলীনগর স্কুলে র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা চেয়েছিল বাহিনীর সদস্যরা যেন ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারেন। এজন্য তারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। পাল্টা প্রতিরোধে যৌথ বাহিনীর সদস্যরাও শটগান, চাইনিজ রাইফেল ও গ্যাস গান ব্যবহার করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মোট ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কঠোর প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা ক্যাম্পে প্রবেশ করতে পারেনি এবং বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি। তবে ভেকু মেশিন দিয়ে ক্যাম্পের কিছু অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। রাস্তা কেটে দেওয়ার কারণে অনেক সদস্যকে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে। শেষরাতে হামলাকারীরা পাহাড়ি এলাকায় সরে যায়। এর আগে রবিবার (২৪ মে) রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়। পরে র্যাব সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে যৌথ বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল থেকে এলাকাজুড়ে অভিযান এবং দুপুরে ঘটনাস্থল ঘিরে তল্লাশিও চালানো হয়।” জেটিভি নিউজ বাংলাসত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি 




















