ককরোচ জনতা পার্টির উত্থানে ভারতজুড়ে আলোচনা, পাঁচ দিনেই ১ কোটির বেশি অনুসারী
জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২১ মে ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার,সময় : বেলা ৩:০৪ মিনিট। ভারতের প্রধান বিচারপতির তরুণদের নিয়ে করা এক মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ, বিদ্রূপ ও অনলাইন রসবোধ থেকে জন্ম নেওয়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলা এই প্ল্যাটফর্ম মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই ১ কোটির বেশি অনুসারী অর্জন করে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকেও ফলোয়ারের সংখ্যায় পেছনে ফেলেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে @cockroachjantaparty হ্যান্ডেল থেকে পরিচালিত অ্যাকাউন্টটি ১ কোটির বেশি অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করে। অন্যদিকে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @bjp4india-এর অনুসারী সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮৭ লাখ। তবে এই দৌড়ে এখনও এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেসের @incindia অ্যাকাউন্ট, যার অনুসারী প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ। আর ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত আম আদমি পার্টির (আপ) অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখে। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের তালিকায় রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি রয়েছেন অরাজনৈতিক ও সমমনা ব্যক্তিরাও। এই তালিকায় আছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি, প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেতা মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদও এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দলটির দ্রুত জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চলমান নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আনার আহ্বান জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ককরোচ জনতা পার্টি মাত্র চার দিনে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৩ লাখ অনুসারী পেয়েছে, যা বিজেপির চেয়েও বেশি। তাঁর ভাষায়, বুদ্ধি ও কল্পনাশক্তি দিয়ে এটি পরিচালনা করা গেলে এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে। প্রশান্ত ভূষণ আরও বলেন, সিজেপির উচিত নিট প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সামনে এনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের জবাবদিহিতা দাবি করা। পাশাপাশি তিনি কর্মসংস্থানের অধিকারের দাবিতে সরব হওয়ারও আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এখন কর্মসংস্থানের অধিকার আইন প্রণয়নের দাবি তোলার সময় এসেছে। ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রতিটি নাগরিকের ন্যূনতম মজুরিতে কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় তাদের জন্য বেকার ভাতার ব্যবস্থা রাখতে হবে। তবে সিজেপির এই অভাবনীয় অনলাইন জনপ্রিয়তার মধ্যেও বিশ্লেষকদের একটি সতর্কবার্তা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল অনুসারী অর্জন এবং একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্যভিত্তিক সাংগঠনিক শক্তি—এই দুই বিষয় এক নয়। কোনও রাজনৈতিক দলের প্রকৃত মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি ও কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে তাদের সক্রিয় সদস্যসংখ্যা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

জেটিভি নিউজ আন্তর্জাতিক বাংলা 




















