ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

অটোমান সুলতান সুলেমান ও হুররামের প্রেম: সাম্রাজ্যের ক্ষমতার আড়ালে ইতিহাসের এক অনন্য ভালোবাসার কাহিনি

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ | সময়: ১২:৩১ মিনিট। প্রতিকৃতি ছবি, সংগৃহিত

অটোমান সুলতান সুলেমান ও হুররামের প্রেম: সাম্রাজ্যের ক্ষমতার আড়ালে ইতিহাসের এক অনন্য ভালোবাসার কাহিনি

অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস মানেই যুদ্ধজয়, রাজনৈতিক কৌশল, রাজদরবারের ষড়যন্ত্র এবং বিস্তৃত এক সাম্রাজ্যের গল্প। তবে এই ক্ষমতার ইতিহাসের ভেতরে এমন একটি অধ্যায় রয়েছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। সেটি হলো সুলতান সুলেমান ও হুররাম সুলতানের প্রেমের কাহিনি—যা শুধু ভালোবাসার গল্প নয়, বরং রাজনীতি, বিশ্বাস ও প্রভাবেরও এক অসাধারণ অধ্যায়। সুলতান সুলেমান, যিনি ইতিহাসে ‘মহান সুলেমান’ নামেও পরিচিত, ছিলেন অটোমান সাম্রাজ্যের দশম সুলতান এবং অন্যতম সফল শাসক। ১৫২০ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর তার নেতৃত্বে সাম্রাজ্য ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তার আমলে অটোমান সাম্রাজ্য শুধু সামরিক শক্তিতেই নয়, আইন, সংস্কৃতি, শিল্প ও স্থাপত্যেও অভূতপূর্ব উন্নতি অর্জন করে। তাই তাকে অনেকেই অটোমান ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শাসকদের একজন হিসেবে বিবেচনা করেন। এই শক্তিশালী শাসকের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন হুররাম সুলতান। ইতিহাসবিদদের মতে, হুররামের জন্ম পূর্ব ইউরোপের রুথেনিয়া অঞ্চলে। তার প্রকৃত নাম নিয়ে ইতিহাসে ভিন্নমত থাকলেও অনেকের ধারণা, তার নাম ছিল আলেকজান্দ্রা বা আনাস্তাসিয়া। তরুণ বয়সে তিনি দাস ব্যবসায়ীদের হাতে বন্দি হন এবং পরে অটোমান প্রাসাদের হারেমে আনা হয়। হারেমে প্রবেশের পর থেকেই হুররাম অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে ওঠেন। তার বুদ্ধিমত্তা, ভাষাজ্ঞান, কূটনৈতিক আচরণ এবং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব দ্রুতই রাজপ্রাসাদের নজর কাড়ে। ‘হুররাম’ শব্দের অর্থই হলো ‘হাসিখুশি’ বা ‘প্রাণোচ্ছল’—যে নামটি তাকে দেওয়া হয়েছিল তার স্বভাবের কারণে। রাজপ্রাসাদের কঠোর নিয়ম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশে হুররামের উত্থান ছিল সহজ নয়। সে সময় হারেম শুধু নারীদের বসবাসের স্থান ছিল না; বরং তা ছিল প্রভাব ও ক্ষমতার এক জটিল কেন্দ্র। সেখানে টিকে থাকতে প্রয়োজন ছিল বুদ্ধি ও কৌশলের। হুররাম ধীরে ধীরে সেই পরিবেশে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন এবং একসময় সুলতান সুলেমানের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো—সুলতান সুলেমানের সঙ্গে হুররামের সম্পর্ক কীভাবে রাজদরবারের প্রচলিত রীতিকে বদলে দেয়। অটোমান সুলতানরা সাধারণত হারেমের নারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ করতেন না। কিন্তু সুলেমান দীর্ঘদিনের সেই প্রথা ভেঙে হুররামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনা ছিল অটোমান রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত এবং তা রাজদরবারে ব্যাপক আলোড়নের জন্ম দেয়। হুররামের প্রভাব কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, তিনি প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যোগাযোগ, দাতব্য কাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে রাজদরবারে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। তার উদ্যোগে মসজিদ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও জনকল্যাণমূলক স্থাপনাও নির্মিত হয়েছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। সুলতান সুলেমান ও হুররামের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাদের চিঠিপত্র। সামরিক অভিযানে সুলতান যখন দীর্ঘ সময় রাজধানীর বাইরে থাকতেন, তখন দুজনের মধ্যে নিয়মিত চিঠি আদান-প্রদান হতো। এসব চিঠিতে শুধু রাজনীতি নয়, বরং ব্যক্তিগত ভালোবাসা, উদ্বেগ ও একে অপরকে মিস করার অনুভূতির কথাও উঠে এসেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই চিঠিগুলো তাদের সম্পর্কের আন্তরিকতা ও গভীরতার অন্যতম প্রমাণ। তবে এই সম্পর্ক ছিল বিতর্কেরও কেন্দ্রবিন্দু। রাজদরবারে অনেকেই হুররামের উত্থানকে ভালোভাবে দেখতেন না। বিশেষ করে উত্তরাধিকার প্রশ্ন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র ও দ্বন্দ্বের কথাও ইতিহাসে পাওয়া যায়। হুররামের বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, তিনি নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতেন। যদিও এসব অভিযোগের অনেক বিষয় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে এখনো বিতর্ক রয়েছে। ১৫৫৮ সালে হুররাম সুলতানের মৃত্যু সুলতান সুলেমানের জীবনে গভীর শোক বয়ে আনে। দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী ও আস্থাভাজন মানুষটিকে হারিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। হুররামের মৃত্যুর পরও সুলতান তাকে বিশেষ মর্যাদায় স্মরণ করেন এবং আর কোনো নারী তার জীবনে একই অবস্থান লাভ করেননি বলে বহু ইতিহাসবিদ মত দিয়েছেন। ১৫৬৬ সালে সামরিক অভিযানের সময় সুলতান সুলেমানের মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর বহু শতাব্দী পরও তার ও হুররামের সম্পর্ক ইতিহাসের পাতা ছাড়িয়ে সাহিত্য, নাটক ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। অটোমান সাম্রাজ্যের ক্ষমতা ও রাজনীতির কঠোর বাস্তবতার মাঝেও সুলতান সুলেমান ও হুররামের সম্পর্ক আজও এক ব্যতিক্রমী ভালোবাসার প্রতীক—যেখানে রাজকীয় আড়ম্বরের পাশাপাশি ছিল গভীর আবেগ, বিশ্বাস ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য গল্প।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

অটোমান সুলতান সুলেমান ও হুররামের প্রেম: সাম্রাজ্যের ক্ষমতার আড়ালে ইতিহাসের এক অনন্য ভালোবাসার কাহিনি

আপডেট সময় ১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ | সময়: ১২:৩১ মিনিট। প্রতিকৃতি ছবি, সংগৃহিত

অটোমান সুলতান সুলেমান ও হুররামের প্রেম: সাম্রাজ্যের ক্ষমতার আড়ালে ইতিহাসের এক অনন্য ভালোবাসার কাহিনি

অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস মানেই যুদ্ধজয়, রাজনৈতিক কৌশল, রাজদরবারের ষড়যন্ত্র এবং বিস্তৃত এক সাম্রাজ্যের গল্প। তবে এই ক্ষমতার ইতিহাসের ভেতরে এমন একটি অধ্যায় রয়েছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। সেটি হলো সুলতান সুলেমান ও হুররাম সুলতানের প্রেমের কাহিনি—যা শুধু ভালোবাসার গল্প নয়, বরং রাজনীতি, বিশ্বাস ও প্রভাবেরও এক অসাধারণ অধ্যায়। সুলতান সুলেমান, যিনি ইতিহাসে ‘মহান সুলেমান’ নামেও পরিচিত, ছিলেন অটোমান সাম্রাজ্যের দশম সুলতান এবং অন্যতম সফল শাসক। ১৫২০ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর তার নেতৃত্বে সাম্রাজ্য ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তার আমলে অটোমান সাম্রাজ্য শুধু সামরিক শক্তিতেই নয়, আইন, সংস্কৃতি, শিল্প ও স্থাপত্যেও অভূতপূর্ব উন্নতি অর্জন করে। তাই তাকে অনেকেই অটোমান ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শাসকদের একজন হিসেবে বিবেচনা করেন। এই শক্তিশালী শাসকের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন হুররাম সুলতান। ইতিহাসবিদদের মতে, হুররামের জন্ম পূর্ব ইউরোপের রুথেনিয়া অঞ্চলে। তার প্রকৃত নাম নিয়ে ইতিহাসে ভিন্নমত থাকলেও অনেকের ধারণা, তার নাম ছিল আলেকজান্দ্রা বা আনাস্তাসিয়া। তরুণ বয়সে তিনি দাস ব্যবসায়ীদের হাতে বন্দি হন এবং পরে অটোমান প্রাসাদের হারেমে আনা হয়। হারেমে প্রবেশের পর থেকেই হুররাম অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে ওঠেন। তার বুদ্ধিমত্তা, ভাষাজ্ঞান, কূটনৈতিক আচরণ এবং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব দ্রুতই রাজপ্রাসাদের নজর কাড়ে। ‘হুররাম’ শব্দের অর্থই হলো ‘হাসিখুশি’ বা ‘প্রাণোচ্ছল’—যে নামটি তাকে দেওয়া হয়েছিল তার স্বভাবের কারণে। রাজপ্রাসাদের কঠোর নিয়ম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশে হুররামের উত্থান ছিল সহজ নয়। সে সময় হারেম শুধু নারীদের বসবাসের স্থান ছিল না; বরং তা ছিল প্রভাব ও ক্ষমতার এক জটিল কেন্দ্র। সেখানে টিকে থাকতে প্রয়োজন ছিল বুদ্ধি ও কৌশলের। হুররাম ধীরে ধীরে সেই পরিবেশে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন এবং একসময় সুলতান সুলেমানের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো—সুলতান সুলেমানের সঙ্গে হুররামের সম্পর্ক কীভাবে রাজদরবারের প্রচলিত রীতিকে বদলে দেয়। অটোমান সুলতানরা সাধারণত হারেমের নারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ করতেন না। কিন্তু সুলেমান দীর্ঘদিনের সেই প্রথা ভেঙে হুররামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনা ছিল অটোমান রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত এবং তা রাজদরবারে ব্যাপক আলোড়নের জন্ম দেয়। হুররামের প্রভাব কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, তিনি প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যোগাযোগ, দাতব্য কাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে রাজদরবারে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। তার উদ্যোগে মসজিদ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও জনকল্যাণমূলক স্থাপনাও নির্মিত হয়েছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। সুলতান সুলেমান ও হুররামের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাদের চিঠিপত্র। সামরিক অভিযানে সুলতান যখন দীর্ঘ সময় রাজধানীর বাইরে থাকতেন, তখন দুজনের মধ্যে নিয়মিত চিঠি আদান-প্রদান হতো। এসব চিঠিতে শুধু রাজনীতি নয়, বরং ব্যক্তিগত ভালোবাসা, উদ্বেগ ও একে অপরকে মিস করার অনুভূতির কথাও উঠে এসেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই চিঠিগুলো তাদের সম্পর্কের আন্তরিকতা ও গভীরতার অন্যতম প্রমাণ। তবে এই সম্পর্ক ছিল বিতর্কেরও কেন্দ্রবিন্দু। রাজদরবারে অনেকেই হুররামের উত্থানকে ভালোভাবে দেখতেন না। বিশেষ করে উত্তরাধিকার প্রশ্ন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র ও দ্বন্দ্বের কথাও ইতিহাসে পাওয়া যায়। হুররামের বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, তিনি নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতেন। যদিও এসব অভিযোগের অনেক বিষয় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে এখনো বিতর্ক রয়েছে। ১৫৫৮ সালে হুররাম সুলতানের মৃত্যু সুলতান সুলেমানের জীবনে গভীর শোক বয়ে আনে। দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী ও আস্থাভাজন মানুষটিকে হারিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। হুররামের মৃত্যুর পরও সুলতান তাকে বিশেষ মর্যাদায় স্মরণ করেন এবং আর কোনো নারী তার জীবনে একই অবস্থান লাভ করেননি বলে বহু ইতিহাসবিদ মত দিয়েছেন। ১৫৬৬ সালে সামরিক অভিযানের সময় সুলতান সুলেমানের মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর বহু শতাব্দী পরও তার ও হুররামের সম্পর্ক ইতিহাসের পাতা ছাড়িয়ে সাহিত্য, নাটক ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। অটোমান সাম্রাজ্যের ক্ষমতা ও রাজনীতির কঠোর বাস্তবতার মাঝেও সুলতান সুলেমান ও হুররামের সম্পর্ক আজও এক ব্যতিক্রমী ভালোবাসার প্রতীক—যেখানে রাজকীয় আড়ম্বরের পাশাপাশি ছিল গভীর আবেগ, বিশ্বাস ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য গল্প।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....