জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১৭ মে ২০২৬ | সময়: ০৭:৫৫ মিনিট।গণিতের শিক্ষক ইংরেজির প্রধান পরীক্ষক, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক বাংলা ২য় পত্রে—রায়পুরে পরীক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাপিলাতুলি এলাকায় পরীক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গণিত বিষয়ে পড়াশোনা ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও একজন হয়েছেন ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক। অন্যদিকে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হয়েও আরেকজন দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে। এ ঘটনায় বিব্রতবোধ করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনেক পরীক্ষক ও শিক্ষক। জানা গেছে, কাপিলাতুলি গ্রামের কেএস পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের (কেএসপি) প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও গণিত বিষয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেকে ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। এতে গণিত বিষয়ের মূল শিক্ষকরা অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। একইভাবে রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক ওমর ফারুক বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্য বিষয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানপ্রধান হওয়ার সুবিধা নিয়েই প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ই-টিআইএফ ফরমে তিনি গণিত বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে তথ্য দিলেও সেটি যাচাইয়ের দায়িত্বও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ওপর বর্তায়। কারণ কোন শিক্ষক কোন বিষয়ে নিয়োজিত—সেটি সবচেয়ে ভালো জানেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান। কিন্তু এখানে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠানপ্রধান হওয়ায় যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে, রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের সহযোগিতায় ওমর ফারুক বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়েছেন। গণিত বিষয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও কীভাবে ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কেএসপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন নিজেকে গণিতের শিক্ষক বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৭ বছর শিক্ষকতা করছি। ২০১৭ সাল থেকে খাতা দেখি। আমাদের সময় এসব (সাবজেক্ট নির্ধারণ) কোনও বিষয় ছিল না। ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত হই। তখন সাবজেক্টের নাম ছিল না। পরে আমাদের সমন্বয় করা হয়েছে। যারা প্রতিষ্ঠানে যে বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন, তারাই ওই বিষয়ে ওপর পরীক্ষক হতে পারবে।’ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী গণিত বিষয়ে বিএসসি শিক্ষক সনদ নিয়েছেন। এ বিষয়ে আবারও জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করালেই ওই বিষয়ের পরীক্ষক হওয়া যায়। বোর্ডের নিয়মেও বলা হয়। তাছাড়া সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসব ঘটনা ঘটছে।’ বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যখন পরীক্ষক হন তখন যিনি বা যারা তথ্য দেন, সেই আলোকেই তিনি পরীক্ষক হয়ে আসছেন। এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়।’ এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবীর উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের যে প্রোগ্রামিংটা করা হয়ে থাকে তা অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ঠিক করে দেন কে পরীক্ষক হবেন। এটা যদি হয়ে থাকে, সেজন্য শিক্ষা বোর্ড দায়ী নয়। যদি কেউ এমন অনিয়ম করে থাকেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক প্রায় ৪০০ জন, যার মধ্যে প্রধান পরীক্ষক ১৪৫ জন। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষক প্রায় ২৬৫ জন এবং এর মধ্যে প্রধান পরীক্ষক রয়েছেন ৯৬ জন। এদিকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বহীনতার অভিযোগে ইংরেজি বিষয়ের তিনজন এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্রের একজন পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চার শিক্ষককে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

Reporter Name 




















