ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৬ মে ২০২৬ ইং | সময়: ০৯:৩৩ মিনিট

মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যক্তি যত বড় পদেই থাকুন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, অপরাধীকে শুধুমাত্র অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। সর্বশেষ গত ১০ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী আবারও একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছেও মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহি করতে হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের সভার মাধ্যমে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, অনিয়ম ও সরকারের উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কী প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে বিশ্লেষণ। ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে নির্বাচিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাৎ হোসেন সেলিম বলেন, সংসদীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং যেকোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন। তিনি বলেন, “কাউকেই জবাবদিহির বাইরে রাখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। ফলে আমরাও এখন যেকোনও কাজের আগে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি।” অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতারা সরকারের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, অতীতের প্রায় সব সরকারই শুরুতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ছিল। তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব চাইতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে সরকার পরিষ্কার অবস্থান দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কও সামনে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সরকার যেহেতু ছয় মাস সময় চেয়েছে, তাই আরও কিছু সময় দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, অতীতেও সরকারপ্রধানরা মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির বিষয়ে নানা কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য বাস্তবে কার্যকর হবে বলে তারা বিশ্বাস করতে চান। অন্যথায় জনগণ আগের সরকারগুলোর সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য খুঁজতে শুরু করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিভিন্ন সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপির প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে। দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধেই নন, পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছেন এবং সরকার সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, “কোনও অনিয়ম ও অন্যায়কারীকেই প্রধানমন্ত্রী ছাড় দেবেন না।”      

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

আপডেট সময় ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৬ মে ২০২৬ ইং | সময়: ০৯:৩৩ মিনিট

মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যক্তি যত বড় পদেই থাকুন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, অপরাধীকে শুধুমাত্র অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। সর্বশেষ গত ১০ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী আবারও একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছেও মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহি করতে হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের সভার মাধ্যমে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, অনিয়ম ও সরকারের উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কী প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে বিশ্লেষণ। ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে নির্বাচিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাৎ হোসেন সেলিম বলেন, সংসদীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং যেকোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন। তিনি বলেন, “কাউকেই জবাবদিহির বাইরে রাখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। ফলে আমরাও এখন যেকোনও কাজের আগে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি।” অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতারা সরকারের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, অতীতের প্রায় সব সরকারই শুরুতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ছিল। তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব চাইতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে সরকার পরিষ্কার অবস্থান দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কও সামনে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সরকার যেহেতু ছয় মাস সময় চেয়েছে, তাই আরও কিছু সময় দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, অতীতেও সরকারপ্রধানরা মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির বিষয়ে নানা কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য বাস্তবে কার্যকর হবে বলে তারা বিশ্বাস করতে চান। অন্যথায় জনগণ আগের সরকারগুলোর সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য খুঁজতে শুরু করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিভিন্ন সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপির প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে। দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধেই নন, পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছেন এবং সরকার সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, “কোনও অনিয়ম ও অন্যায়কারীকেই প্রধানমন্ত্রী ছাড় দেবেন না।”      

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....