জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১৫ মে ২০২৬ ইং,সময় সকাল ১০২৪ মিনিট।দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনে আসক্ত ঢাকার শিশুরা, বাড়ছে ঘুমহীনতা ও মানসিক জটিলতা
মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ট্যাব কিংবা কম্পিউটারে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে ঢাকার শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। শিশুদের মধ্যে বাড়ছে ঘুমের ঘাটতি, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, স্থূলতা এবং আচরণগত জটিলতা। সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব উদ্বেগজনক তথ্য। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর পরিচালিত হয়। পরে গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় Journal of Medical Internet Research Human Factors-এ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজন প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে। গড়ে শিশুরা প্রতিদিন প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় কাটায় স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে। গবেষকরা জানান, যারা দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে তারা গড়ে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা ঘুমায়। অথচ শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথার অভিযোগ করছে। প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত। একইসঙ্গে প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা কিংবা আচরণগত সমস্যার মতো মানসিক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে কমে যাচ্ছে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম। পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা কমে যাওয়ায় শিশুদের মনোভাব ও আচরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গবেষণার প্রধান গবেষক এবং আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, “শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগ কমে যাওয়া, মাথাব্যথা কিংবা বাইরের খেলাধুলায় অনীহা— এসব লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব হতে পারে।” তিনি শিশুদের চোখের সুরক্ষায় ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে। আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে শিশুদের সুস্থতার জন্য স্ক্রিন ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত খেলাধুলা, পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম এবং ডিভাইসমুক্ত পারিবারিক সময় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। গবেষকরা মনে করছেন, শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার, স্কুল এবং জনস্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

এসএম শান্ত,ঢাকা 




















