ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

ব্যাংক খাতে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি; বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মারকলিপি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

 জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ইং,সময় : ০৫:৪১ মিনিট।

ব্যাংক খাতে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি; বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মারকলিপি

দেশের ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি করেছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। এ দাবিতে সংগঠনটির নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর দায়ভার এখন বহন করছেন সাধারণ আমানতকারীরা। পরে স্মারকলিপিটি গভর্নরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের কোঅর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যাংকের গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা তুলতে পারছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো অর্থই দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, একজন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলেও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মানবিক সংকটের বিষয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলেও তারা সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তবে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে বিভিন্ন ব্যাংকে, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকে, প্রভাব খাটিয়ে বসানো হয়। পরবর্তীতে ওই গোষ্ঠী ব্যাংকের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সংঘবদ্ধভাবে অর্থ লুটপাট এবং বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি সরকারের প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করা হয়। এরপর ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এরও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, আইনের কিছু ধারা অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানান তারা। বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান, যাতে আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারেন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়। স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

ব্যাংক খাতে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি; বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মারকলিপি

আপডেট সময় ০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

 জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ইং,সময় : ০৫:৪১ মিনিট।

ব্যাংক খাতে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি; বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মারকলিপি

দেশের ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি করেছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। এ দাবিতে সংগঠনটির নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর দায়ভার এখন বহন করছেন সাধারণ আমানতকারীরা। পরে স্মারকলিপিটি গভর্নরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের কোঅর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যাংকের গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা তুলতে পারছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো অর্থই দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, একজন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলেও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মানবিক সংকটের বিষয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলেও তারা সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তবে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে বিভিন্ন ব্যাংকে, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকে, প্রভাব খাটিয়ে বসানো হয়। পরবর্তীতে ওই গোষ্ঠী ব্যাংকের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সংঘবদ্ধভাবে অর্থ লুটপাট এবং বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি সরকারের প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করা হয়। এরপর ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এরও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, আইনের কিছু ধারা অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানান তারা। বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান, যাতে আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারেন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়। স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....