জেটিভি নিউজ বাংলা
jtvnewsbangla তারিখ: ১০ মে ২০২৬ ইং,সময়: রাত ১১:০৯মিনিট।জনসমক্ষে অনুপস্থিত মোজতবা খামেনিকে ঘিরে ইরানে ধোঁয়াশা ও অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলমান থাকলেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য অনুপস্থিতি তেহরানে নতুন সংকট তৈরি করেছে। জনসমক্ষে তার অনুপস্থিতি এবং শান্তি আলোচনা বিষয়ে নীরবতা দেশটির শাসক মহলের মধ্যেও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে এক বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার স্ত্রী, সন্তান এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মোজতবার পক্ষ থেকে কেবল কিছু লিখিত বার্তা ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, সেসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হতে পারে। তার অনুপস্থিতির কারণে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের সময় ঐক্য বজায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এখন মতভেদ তৈরি হয়েছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ আরশ আজিজির মতে, খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি তার কট্টরপন্থি সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা চলমান শান্তি আলোচনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং বিশেষ করে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতো মধ্যপন্থি নেতাদের সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অতিরিক্ত নতি স্বীকার করছেন। কট্টরপন্থিদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির কাছে অন্তত একটি অডিও বার্তা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তিনি আলোচনার প্রতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় জাতীয় নিরাপত্তার মতো বড় সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হয়। অতীতে তার দুই পূর্বসূরি জনসমক্ষে এসে মতভেদ নিরসন করেছেন। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধ অবসানের সময় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যাকে তিনি ‘বিষের পেয়ালা’ গ্রহণের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মোজতবার বাবা আলী খামেনিও ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আগে প্রকাশ্যে আলোচনার অনুমতি দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনির নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তার এক্স অ্যাকাউন্টের ছবি এবং তেহরানের রাজপথে স্থাপিত বড় বিলবোর্ডগুলোকেও এআই-নির্ভর বলে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তার কণ্ঠস্বর প্রকাশ না পাওয়ায় অনেক ইরানি নাগরিক তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তার কারণে তিনি নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। তাদের দাবি, ইসরায়েলের সম্ভাব্য ‘হিট লিস্টে’ তার নাম শীর্ষে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রথমবারের মতো জানান, তিনি খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার বৈঠক করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা জীবিত এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে আড়ালে আছেন—এটি স্পষ্ট করতেই পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য। শুক্রবার রাতে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবার পিঠ ও হাঁটুতে আঘাত লাগে। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে দাবি করা হয়েছে। মোজতবার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাজাহের হোসেনি বলেন, শত্রুরা তার অডিও বা ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করছে যাতে সেগুলো অপব্যবহার করা যায়। তিনি জানান, উপযুক্ত সময়ে মোজতবা নিজেই জনসমক্ষে কথা বলবেন। তবে সরকারি এসব বক্তব্যের পরও ধোঁয়াশা পুরোপুরি দূর হয়নি। পেজেশকিয়ানের বৈঠকের বিষয়বস্তুর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, এমনকি বৈঠক কোথায় এবং কবে হয়েছে সে সম্পর্কেও তথ্য জানানো হয়নি। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালজেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

জেটিভি নিউজ আন্তর্জাতিক বাংলা 




















