জেটিভি নিউজ বাংলা
jtvnewsbangla তারিখ: রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ইং, সময়:০৬:০০ মিনিট।পুলিশ-জনগণ আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুললে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে: তারেক রহমান
রবিবার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেডে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হতে হবে আস্থা ও নির্ভরতার। যেকোনো বিপদে জনগণ যেন থানা-পুলিশকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করে। পুলিশ জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারলেই তার প্রকৃত সাফল্য অর্জিত হবে। পুলিশের সাফল্য মানে সরকারের সাফল্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ আইনি সহায়তার জন্য প্রথমেই থানায় আসেন। সেখানে এসে তারা যেন রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন—এটি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। তিনি বলেন, পুলিশ মাঠ পর্যায়ে সরকারের দূত হিসেবে কাজ করে এবং দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রথম দ্বার। তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অতীতে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি অতিক্রম করে এখন নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং তা ধরে রাখাই পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কমিউনিটি পুলিশিং ও ওপেন হাউস ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন। তারেক রহমান বলেন, অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি। লক্ষ্য হচ্ছে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ জরুরি। সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতি ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। মাদকের উৎস ও সরবরাহ চক্রকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সরকারের লক্ষ্য। গুম, অপহরণ বা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ডেস্ক রিপোর্ট 




















