ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন ঘিরে তামিলনাড়ুতে সাংবিধানিক বিতর্ক, রাজ্যপালের ভূমিকায় প্রশ্ন

থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন ঘিরে তামিলনাড়ুতে সাংবিধানিক বিতর্ক, রাজ্যপালের ভূমিকায় প্রশ্ন

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৭ মে ২০২৬ ইং, সময়: ০৯:৪৬ মিনিট। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই চমক দেখিয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার Thalapathy Vijay। তার নেতৃত্বাধীন দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে এখনও ১০টি আসন পিছিয়ে রয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে বিজয় নিজেরসহ ১০৭ জন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে রাজ্যপাল R. N. Ravi-এর সঙ্গে দেখা করেন এবং মৌখিকভাবে পাঁচজন কংগ্রেস বিধায়কের সমর্থনের কথাও জানান। কিন্তু টানা দুই দিন অপেক্ষার পরও সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাননি তিনি। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের স্বাক্ষর নিয়েই আবার আসতে হবে। বর্তমান ডিএমকে সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজ্যপালের ক্ষমতা ও স্বেচ্ছাধীন এখতিয়ার নিয়ে নতুন করে সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো কি রাজ্যপালের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারেন? এ বিষয়ে ভারতের শীর্ষ সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। যদিও সবাই একমত যে, শেষ পর্যন্ত বিধানসভার ফ্লোর টেস্ট বা আস্থা ভোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের একমাত্র বৈধ পথ। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল Mukul Rohatgi মনে করেন, রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবে একক বৃহত্তম দলকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে বাধ্য। তিনি রাজ্যপালের বর্তমান অবস্থানকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, শপথের আগেই ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ চাওয়া সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রোহাতগি বলেন, রাজ্যপালের ভূমিকা এখানে সীমিত হওয়া উচিত এবং তিনি কেবল স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। অতীতে বহু সংখ্যালঘু সরকার গঠনের উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী Neeraj Kishan Kaul বলেন, ভারতের সংবিধানের ১৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যপালের কিছু স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা রয়েছে। একক বৃহত্তম দল নাকি নির্বাচন-পরবর্তী জোট—কাকে আগে আমন্ত্রণ জানানো হবে, সে বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট কোনও নির্দেশনা নেই। তবে তিনিও মনে করেন, সরকার গঠনের আগেই ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের লিখিত প্রমাণে অনড় থাকা ঠিক নয়। তিনি ১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক S. R. Bommai vs Union of India মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জায়গা রাজভবন নয়, বরং বিধানসভার ফ্লোর। পাশাপাশি তিনি ১৯৮৮ সালের সরকারিয়া কমিশন ও ২০১০ সালের পুঞ্চি কমিশনের সুপারিশের কথাও তুলে ধরেন। সরকারিয়া কমিশন প্রাক-নির্বাচনী জোটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও, পুঞ্চি কমিশন বলেছিল—যার সর্বাধিক সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, রাজ্যপাল তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। কংগ্রেস সাংসদ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী Abhishek Manu Singhvi রাজ্যপালের ভূমিকাকে ‘গণতান্ত্রিক প্রথার অবমাননা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, অন্য কোনও জোট সরকার গঠনের দাবি না করলে সাংবিধানিক নৈতিকতা ও প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী একক বৃহত্তম দলকেই আমন্ত্রণ জানানো উচিত। তিনি বলেন, সাত-আটটি আসনের ঘাটতি খুব বড় বিষয় নয় এবং ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই আস্থা ভোটের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব। সিংভি সতর্ক করে বলেন, প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক প্রথা থেকে বিচ্যুতি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও ফেডারেল নীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   সূত্র: India Today    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন ঘিরে তামিলনাড়ুতে সাংবিধানিক বিতর্ক, রাজ্যপালের ভূমিকায় প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন ঘিরে তামিলনাড়ুতে সাংবিধানিক বিতর্ক, রাজ্যপালের ভূমিকায় প্রশ্ন

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৭ মে ২০২৬ ইং, সময়: ০৯:৪৬ মিনিট। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই চমক দেখিয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার Thalapathy Vijay। তার নেতৃত্বাধীন দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে এখনও ১০টি আসন পিছিয়ে রয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে বিজয় নিজেরসহ ১০৭ জন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে রাজ্যপাল R. N. Ravi-এর সঙ্গে দেখা করেন এবং মৌখিকভাবে পাঁচজন কংগ্রেস বিধায়কের সমর্থনের কথাও জানান। কিন্তু টানা দুই দিন অপেক্ষার পরও সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাননি তিনি। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের স্বাক্ষর নিয়েই আবার আসতে হবে। বর্তমান ডিএমকে সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজ্যপালের ক্ষমতা ও স্বেচ্ছাধীন এখতিয়ার নিয়ে নতুন করে সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো কি রাজ্যপালের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারেন? এ বিষয়ে ভারতের শীর্ষ সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। যদিও সবাই একমত যে, শেষ পর্যন্ত বিধানসভার ফ্লোর টেস্ট বা আস্থা ভোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের একমাত্র বৈধ পথ। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল Mukul Rohatgi মনে করেন, রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবে একক বৃহত্তম দলকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে বাধ্য। তিনি রাজ্যপালের বর্তমান অবস্থানকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, শপথের আগেই ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ চাওয়া সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রোহাতগি বলেন, রাজ্যপালের ভূমিকা এখানে সীমিত হওয়া উচিত এবং তিনি কেবল স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। অতীতে বহু সংখ্যালঘু সরকার গঠনের উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী Neeraj Kishan Kaul বলেন, ভারতের সংবিধানের ১৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যপালের কিছু স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা রয়েছে। একক বৃহত্তম দল নাকি নির্বাচন-পরবর্তী জোট—কাকে আগে আমন্ত্রণ জানানো হবে, সে বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট কোনও নির্দেশনা নেই। তবে তিনিও মনে করেন, সরকার গঠনের আগেই ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের লিখিত প্রমাণে অনড় থাকা ঠিক নয়। তিনি ১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক S. R. Bommai vs Union of India মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জায়গা রাজভবন নয়, বরং বিধানসভার ফ্লোর। পাশাপাশি তিনি ১৯৮৮ সালের সরকারিয়া কমিশন ও ২০১০ সালের পুঞ্চি কমিশনের সুপারিশের কথাও তুলে ধরেন। সরকারিয়া কমিশন প্রাক-নির্বাচনী জোটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও, পুঞ্চি কমিশন বলেছিল—যার সর্বাধিক সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, রাজ্যপাল তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। কংগ্রেস সাংসদ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী Abhishek Manu Singhvi রাজ্যপালের ভূমিকাকে ‘গণতান্ত্রিক প্রথার অবমাননা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, অন্য কোনও জোট সরকার গঠনের দাবি না করলে সাংবিধানিক নৈতিকতা ও প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী একক বৃহত্তম দলকেই আমন্ত্রণ জানানো উচিত। তিনি বলেন, সাত-আটটি আসনের ঘাটতি খুব বড় বিষয় নয় এবং ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই আস্থা ভোটের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব। সিংভি সতর্ক করে বলেন, প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক প্রথা থেকে বিচ্যুতি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও ফেডারেল নীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   সূত্র: India Today    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....