ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

আতঙ্কে বন্দি ছিল সংবাদমাধ্যম—বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে উঠছে কঠিন প্রশ্ন, মিলবে কি মুক্তির পথ?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০৩ মে ২০২৬ ইং| সময়: ১০:৪১ মিনিট।

আতঙ্কে বন্দি ছিল সংবাদমাধ্যম—বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে উঠছে কঠিন প্রশ্ন, মিলবে কি মুক্তির পথ?

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস আজ পালিত হচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। অন্তর্বর্তী নোবেলজয়ী নেতৃত্বাধীন শাসনের অবসানের পর নির্বাচিত সরকারের আমলে এ দিনটি ঘিরে আলোচনা, লেখালেখি ও মতপ্রকাশের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, অতীতের সেই সময়ের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে অনেকেই সরব হচ্ছেন না। বর্তমান বিএনপি সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে এসেছে এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর তিন মাস পার করেছে। ফলে এবারের মূল্যায়নে মূলত আলোচনায় উঠে আসছে ২০২৪ সালের শেষাংশ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কাল—যে সময় দেশ পরিচালিত হয়েছে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়টিকে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংখ্যায় সময়টি স্বল্প হলেও এর ভেতরে জমা হয়েছে সহিংসতা, হামলা, ভয়ভীতি এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার গভীর অভিজ্ঞতা। সাংবাদিকদের জন্য কাজের পরিবেশ হয়ে ওঠে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় চাপ, রাজনৈতিক সহিংসতা, মব আক্রমণ, মামলা ও গ্রেফতারের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে সাংবাদিকতা পেশা অনেকের কাছে পরিণত হয় এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযাত্রায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের আত্মবিশ্বাস। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অন্তত ৩৮১টি হামলা, নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত ক্ষতি, পারিবারিক আতঙ্ক এবং সংবাদমাধ্যমে চাপা নীরবতা। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৫ সালে ২৮৯টি ঘটনায় মোট ৬৪১ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন নিহত, ২৯৫ জন আহত, ১৬৩ জন হুমকি বা লাঞ্ছনার শিকার এবং ১৭০ জন আইনি হয়রানিতে পড়েন। এছাড়া ৪৬টি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, একই বছরে ৩১৮টি ঘটনায় অন্তত ৫৩৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য ভিন্ন হলেও সামগ্রিক চিত্রে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নমুখী। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে গণমাধ্যম স্বাধীনতায় ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, যা আগের বছরের তুলনায় আরও অবনতি নির্দেশ করে। দেশে প্রায় ৩ হাজার প্রিন্ট মিডিয়া, ৩০টি রেডিও, ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেল এবং অসংখ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সক্রিয় থাকলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই বিশাল পরিসরে কতটা স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা সম্ভব হচ্ছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেও সাংবাদিকতার ওপর চাপ, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ভয়ের সংস্কৃতি তেমন বদলায়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা নিজেরাই ঝুঁকি বিবেচনা করে সংবাদ প্রকাশে সংযম দেখাতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মব আক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোনো প্রতিবেদন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের জেরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ডিসেম্বরে দেশের দুটি শীর্ষ পত্রিকা অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় এখন প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ এবং কার্যকর পদক্ষেপ। নইলে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত এই খাত আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের ওপর আস্থা পুনর্গঠন কঠিন হবে। ভবিষ্যতে এই সময়কাল দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।  

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

লেখক: সাংবাদিক

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

আতঙ্কে বন্দি ছিল সংবাদমাধ্যম—বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে উঠছে কঠিন প্রশ্ন, মিলবে কি মুক্তির পথ?

আপডেট সময় ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০৩ মে ২০২৬ ইং| সময়: ১০:৪১ মিনিট।

আতঙ্কে বন্দি ছিল সংবাদমাধ্যম—বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে উঠছে কঠিন প্রশ্ন, মিলবে কি মুক্তির পথ?

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস আজ পালিত হচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। অন্তর্বর্তী নোবেলজয়ী নেতৃত্বাধীন শাসনের অবসানের পর নির্বাচিত সরকারের আমলে এ দিনটি ঘিরে আলোচনা, লেখালেখি ও মতপ্রকাশের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, অতীতের সেই সময়ের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে অনেকেই সরব হচ্ছেন না। বর্তমান বিএনপি সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে এসেছে এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর তিন মাস পার করেছে। ফলে এবারের মূল্যায়নে মূলত আলোচনায় উঠে আসছে ২০২৪ সালের শেষাংশ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কাল—যে সময় দেশ পরিচালিত হয়েছে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়টিকে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংখ্যায় সময়টি স্বল্প হলেও এর ভেতরে জমা হয়েছে সহিংসতা, হামলা, ভয়ভীতি এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার গভীর অভিজ্ঞতা। সাংবাদিকদের জন্য কাজের পরিবেশ হয়ে ওঠে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় চাপ, রাজনৈতিক সহিংসতা, মব আক্রমণ, মামলা ও গ্রেফতারের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে সাংবাদিকতা পেশা অনেকের কাছে পরিণত হয় এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযাত্রায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের আত্মবিশ্বাস। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অন্তত ৩৮১টি হামলা, নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত ক্ষতি, পারিবারিক আতঙ্ক এবং সংবাদমাধ্যমে চাপা নীরবতা। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৫ সালে ২৮৯টি ঘটনায় মোট ৬৪১ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন নিহত, ২৯৫ জন আহত, ১৬৩ জন হুমকি বা লাঞ্ছনার শিকার এবং ১৭০ জন আইনি হয়রানিতে পড়েন। এছাড়া ৪৬টি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, একই বছরে ৩১৮টি ঘটনায় অন্তত ৫৩৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য ভিন্ন হলেও সামগ্রিক চিত্রে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নমুখী। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে গণমাধ্যম স্বাধীনতায় ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, যা আগের বছরের তুলনায় আরও অবনতি নির্দেশ করে। দেশে প্রায় ৩ হাজার প্রিন্ট মিডিয়া, ৩০টি রেডিও, ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেল এবং অসংখ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সক্রিয় থাকলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই বিশাল পরিসরে কতটা স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা সম্ভব হচ্ছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেও সাংবাদিকতার ওপর চাপ, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ভয়ের সংস্কৃতি তেমন বদলায়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা নিজেরাই ঝুঁকি বিবেচনা করে সংবাদ প্রকাশে সংযম দেখাতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মব আক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোনো প্রতিবেদন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের জেরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ডিসেম্বরে দেশের দুটি শীর্ষ পত্রিকা অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় এখন প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ এবং কার্যকর পদক্ষেপ। নইলে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত এই খাত আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের ওপর আস্থা পুনর্গঠন কঠিন হবে। ভবিষ্যতে এই সময়কাল দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।  

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

লেখক: সাংবাদিক