জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং| সময়: ০৮:৫৩ মিনিট।দশ বছর পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল: শীর্ষ নেতৃত্বে আসছে কি পরিবর্তন?
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে দীর্ঘ এক দশক পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। আগামী ঈদুল আজহা-এর পর এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার বিধান থাকলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে তা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। আসন্ন কাউন্সিলটি হবে দলের সপ্তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। বিগত সময়গুলোতে নানা প্রতিকূলতার কারণে দলের এই সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল সীমিত পরিসরে এবং আয়োজন ছিল সাদামাটা। তবে বর্তমান অনুকূল পরিস্থিতিতে এবারের কাউন্সিলকে ভিন্ন মাত্রায় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্য রয়েছে দলের। এই কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারা অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তারেক রহমান। পরে গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, দলের মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন ২০১৬ সালের কাউন্সিল থেকে। শীর্ষ এই দুই পদে পুরোনো নেতৃত্ব বহাল থাকবে নাকি নতুন মুখ আসবে—তা নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে স্থায়ী কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গেছে। যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ পূরণ করা হবে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অতীতের তুলনায় এবারের কাউন্সিল নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, বিগত সময়ের রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কাউন্সিলগুলো সাদামাটা ছিল। এবারের কাউন্সিলকে উৎসবমুখর করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে দলের সর্বস্তরে নতুন নেতৃত্ব আসবে। শিগগিরই কাউন্সিলের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।বিগত সময়ে শীর্ষ নেতৃত্ব
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়টি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১-২ সেপ্টেম্বর, যেখানে জিয়াউর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২৬-২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কাউন্সিলে চেয়ারম্যান হন আব্দুস সাত্তার। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের পর থেকে দলের নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। তৃতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৮৮ সালের ৩-৪ মার্চ, চতুর্থ ১৯৯৩ সালের ৪-৫ সেপ্টেম্বর এবং পঞ্চম কাউন্সিল ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এসব কাউন্সিলে বারবার চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ, যেখানে চেয়ারপারসন হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমৃত্যু চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলে ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়।স্থায়ী কমিটির শূন্যপদে সম্ভাব্য মুখ
আসন্ন কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন, জয়নুল আবেদীন ফারুক, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেল। এছাড়া পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।স্থায়ী কমিটির বর্তমান চিত্র
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ফোরাম হলো জাতীয় স্থায়ী কমিটি। ২০১৬ সালের কাউন্সিলের আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১৯টি। তবে নানা কারণে পূর্ণসংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী এ ফোরামে সদস্য ছিলেন ১৬ জন। বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে পদাধিকার বলে রয়েছেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছু সদস্য সক্রিয় নন। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং মির্জা আব্বাসও দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শীর্ষ দুই পদে পরিবর্তন আসবে? দলের আসন্ন কাউন্সিলে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অতীতে দলের প্রধান হিসেবে বিকল্প প্রার্থী না থাকলেও এবারও একই চিত্র থাকবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। একটি অংশ মনে করছে, মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুলই বহাল থাকতে পারেন। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানসহ সব শীর্ষ পদেই নতুন করে নির্বাচন হবে। তিনি জানান, অতীতের মতো এবারও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

Reporter Name 






















