জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: ৮:৩০ মিনিট।ইতিহাস বিকৃতি ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর: তারেক রহমান
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিহাসের প্রতি অবিচার ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃত করা বা সংকীর্ণভাবে দেখার প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এর শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ২০২৪ সালসহ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে প্রাণ হারানো এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিও তিনি সম্মান জানান। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান, যা জাতির গৌরবের প্রতীক।তিনি বলেন,১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন।পাশাপাশি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অবদান রাখা জাতীয় নেতাদের যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। তিনি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য দেশের শক্তি, আর বিভাজন দুর্বলতা। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, দেশে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন,
সরকার দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কাজ করছে। তার মতে, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষা খাতে অতীতের ‘বিপর্যয়’ উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া দলীয় ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অতীতে সরকার পরিচালনায় তার দল এ বিষয়ে উদাহরণ স্থাপন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশবাসীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও আড়ম্বর পরিহারের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত ১৫ জন ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্তদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। তিনি বলেন, এসব গুণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তা সম্মানিত হবে।শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

Reporter Name 





















