ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে ‘ইলেকশন’ দাবিতে জোর, শেষ মেয়াদের পর শুরু তীব্র আলোচনা রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালে বিরোধীদের ওয়াকআউট, প্রশ্ন তুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া বহাল, লিভ টু আপিল খারিজ ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা নেই BMDC তবুও তিনি ডাক্তার  তেহরানে নতুন বিমান হামলা: আবাসিক এলাকায় ধ্বংসস্তূপ, নিহত অন্তত ৬ নেতানিয়াহু নিহতের গুঞ্জন: ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, নিশ্চিত নয় আন্তর্জাতিক মহল নারায়ণগঞ্জে এএসআইকে কুপিয়ে পিস্তল ছিনতাই, তিনজন আটক—উদ্ধার অস্ত্র ও গুলি

একাধিক বিয়ে, যাঁর কাবিন বাণিজ্য! একাধিক স্বামীর মামলা—

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

৮ মার্চ ২০২৬ | রবিবার | ফরিদপুর,

সময়,রাত ১১:৩০ মিনিট।

একাধিক বিয়ে, যাঁর কাবিন বাণিজ্য! একাধিক স্বামীর মামলা—সংবাদ সম্মেলনে ইমামের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করে কাবিননামাকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী মো. আরিফ বিল্লাহ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বিল্লাহ বলেন, তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মসজিদের ইমাম। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে সদরপুর উপজেলার লখারকান্দি গ্রামের লাবিবা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান রয়েছে— ওমায়ের (৬), আবদুল্লাহ (৫) এবং মোহাম্মদ উল্লাহ (৪)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে সেই সুযোগে তার স্ত্রী লাবিবা আক্তার বাসা থেকে চলে যান। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি চলে গেছেন। এ সময় তাদের ছোট সন্তানরা ঘরে একা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। আরিফ বিল্লাহ জানান, ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে দুটি যৌতুক মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা এসপি-৮১/২২ এবং অপরটি দণ্ডবিধির ১০০ ধারায় করা হয়। আদালতে শুনানি শেষে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাবিবা আক্তার এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ মার্চ নগরকান্দা উপজেলার গজগাহ গ্রামের মো. মনির হোসেনের সঙ্গে লাবিবার বিয়ে হয় এবং ওই সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে ২০১৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া রাজবাড়ী জেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা তারিকুল ইসলামের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন আরিফ বিল্লাহ। তার অভিযোগ, তাকে জোরপূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর করিয়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করা হয় এবং পরে বিভিন্ন দেনদরবারের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আরিফ বিল্লাহ আরও দাবি করেন, এভাবে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং সেই অর্থ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সুদে বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় রোকছানা বেগমের কাছে প্রায় ৯ লাখ টাকা এবং হান্নান মোল্যার কাছে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর আদালতে দ্বিতীয়বারের মতো একটি সিআর মামলা (নং-২৩৩) করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় তাকে ছাড়াও তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট ভাইদের আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। আরিফ বিল্লাহ অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার পরিবারের মানহানিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। এ ঘটনায় তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে ‘ইলেকশন’ দাবিতে জোর, শেষ মেয়াদের পর শুরু তীব্র আলোচনা

একাধিক বিয়ে, যাঁর কাবিন বাণিজ্য! একাধিক স্বামীর মামলা—

আপডেট সময় ১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

৮ মার্চ ২০২৬ | রবিবার | ফরিদপুর,

সময়,রাত ১১:৩০ মিনিট।

একাধিক বিয়ে, যাঁর কাবিন বাণিজ্য! একাধিক স্বামীর মামলা—সংবাদ সম্মেলনে ইমামের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করে কাবিননামাকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী মো. আরিফ বিল্লাহ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বিল্লাহ বলেন, তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মসজিদের ইমাম। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে সদরপুর উপজেলার লখারকান্দি গ্রামের লাবিবা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান রয়েছে— ওমায়ের (৬), আবদুল্লাহ (৫) এবং মোহাম্মদ উল্লাহ (৪)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে সেই সুযোগে তার স্ত্রী লাবিবা আক্তার বাসা থেকে চলে যান। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি চলে গেছেন। এ সময় তাদের ছোট সন্তানরা ঘরে একা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। আরিফ বিল্লাহ জানান, ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে দুটি যৌতুক মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা এসপি-৮১/২২ এবং অপরটি দণ্ডবিধির ১০০ ধারায় করা হয়। আদালতে শুনানি শেষে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাবিবা আক্তার এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ মার্চ নগরকান্দা উপজেলার গজগাহ গ্রামের মো. মনির হোসেনের সঙ্গে লাবিবার বিয়ে হয় এবং ওই সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে ২০১৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া রাজবাড়ী জেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা তারিকুল ইসলামের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন আরিফ বিল্লাহ। তার অভিযোগ, তাকে জোরপূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর করিয়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করা হয় এবং পরে বিভিন্ন দেনদরবারের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আরিফ বিল্লাহ আরও দাবি করেন, এভাবে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং সেই অর্থ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সুদে বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় রোকছানা বেগমের কাছে প্রায় ৯ লাখ টাকা এবং হান্নান মোল্যার কাছে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর আদালতে দ্বিতীয়বারের মতো একটি সিআর মামলা (নং-২৩৩) করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় তাকে ছাড়াও তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট ভাইদের আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। আরিফ বিল্লাহ অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার পরিবারের মানহানিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। এ ঘটনায় তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....