ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

একাধিক বিয়ে, যাঁর কাবিন বাণিজ্য! একাধিক স্বামীর মামলা—

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

৮ মার্চ ২০২৬ | রবিবার | ফরিদপুর,

সময়,রাত ১১:৩০ মিনিট।

একাধিক বিয়ে, যাঁর কাবিন বাণিজ্য! একাধিক স্বামীর মামলা—সংবাদ সম্মেলনে ইমামের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করে কাবিননামাকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী মো. আরিফ বিল্লাহ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বিল্লাহ বলেন, তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মসজিদের ইমাম। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে সদরপুর উপজেলার লখারকান্দি গ্রামের লাবিবা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান রয়েছে— ওমায়ের (৬), আবদুল্লাহ (৫) এবং মোহাম্মদ উল্লাহ (৪)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে সেই সুযোগে তার স্ত্রী লাবিবা আক্তার বাসা থেকে চলে যান। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি চলে গেছেন। এ সময় তাদের ছোট সন্তানরা ঘরে একা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। আরিফ বিল্লাহ জানান, ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে দুটি যৌতুক মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা এসপি-৮১/২২ এবং অপরটি দণ্ডবিধির ১০০ ধারায় করা হয়। আদালতে শুনানি শেষে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাবিবা আক্তার এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ মার্চ নগরকান্দা উপজেলার গজগাহ গ্রামের মো. মনির হোসেনের সঙ্গে লাবিবার বিয়ে হয় এবং ওই সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে ২০১৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া রাজবাড়ী জেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা তারিকুল ইসলামের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন আরিফ বিল্লাহ। তার অভিযোগ, তাকে জোরপূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর করিয়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করা হয় এবং পরে বিভিন্ন দেনদরবারের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আরিফ বিল্লাহ আরও দাবি করেন, এভাবে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং সেই অর্থ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সুদে বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় রোকছানা বেগমের কাছে প্রায় ৯ লাখ টাকা এবং হান্নান মোল্যার কাছে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর আদালতে দ্বিতীয়বারের মতো একটি সিআর মামলা (নং-২৩৩) করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় তাকে ছাড়াও তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট ভাইদের আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। আরিফ বিল্লাহ অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার পরিবারের মানহানিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। এ ঘটনায় তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

একাধিক বিয়ে, যাঁর কাবিন বাণিজ্য! একাধিক স্বামীর মামলা—

আপডেট সময় ১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

৮ মার্চ ২০২৬ | রবিবার | ফরিদপুর,

সময়,রাত ১১:৩০ মিনিট।

একাধিক বিয়ে, যাঁর কাবিন বাণিজ্য! একাধিক স্বামীর মামলা—সংবাদ সম্মেলনে ইমামের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করে কাবিননামাকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী মো. আরিফ বিল্লাহ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বিল্লাহ বলেন, তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মসজিদের ইমাম। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে সদরপুর উপজেলার লখারকান্দি গ্রামের লাবিবা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান রয়েছে— ওমায়ের (৬), আবদুল্লাহ (৫) এবং মোহাম্মদ উল্লাহ (৪)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে সেই সুযোগে তার স্ত্রী লাবিবা আক্তার বাসা থেকে চলে যান। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি চলে গেছেন। এ সময় তাদের ছোট সন্তানরা ঘরে একা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। আরিফ বিল্লাহ জানান, ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে দুটি যৌতুক মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা এসপি-৮১/২২ এবং অপরটি দণ্ডবিধির ১০০ ধারায় করা হয়। আদালতে শুনানি শেষে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাবিবা আক্তার এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ মার্চ নগরকান্দা উপজেলার গজগাহ গ্রামের মো. মনির হোসেনের সঙ্গে লাবিবার বিয়ে হয় এবং ওই সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে ২০১৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া রাজবাড়ী জেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা তারিকুল ইসলামের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন আরিফ বিল্লাহ। তার অভিযোগ, তাকে জোরপূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর করিয়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করা হয় এবং পরে বিভিন্ন দেনদরবারের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আরিফ বিল্লাহ আরও দাবি করেন, এভাবে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং সেই অর্থ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সুদে বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় রোকছানা বেগমের কাছে প্রায় ৯ লাখ টাকা এবং হান্নান মোল্যার কাছে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর আদালতে দ্বিতীয়বারের মতো একটি সিআর মামলা (নং-২৩৩) করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় তাকে ছাড়াও তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট ভাইদের আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। আরিফ বিল্লাহ অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার পরিবারের মানহানিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। এ ঘটনায় তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....