জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ০১ মার্চ ২০২৬ সময়: বিকেল ৩:৫৫মিনিটখামেনি হত্যাও টলাতে পারবে না ইরান, আঘাতের মূল অস্ত্র হতে পারে ড্রোন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি-কে হত্যা করা হলেও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব ডিফেন্স মাইকেল ম্যালরয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে তা ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ‘রেজিম টেকডাউন’ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ম্যালরয়ের ভাষায়, ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা মূলত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এবং তাঁর অধীনস্থ কাঠামো তুলনামূলক দুর্বল ছিল। কিন্তু ইরানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।তিনি বলেন, ইরানে শুধু সর্বোচ্চ নেতাই নন—বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান,
সামরিক বাহিনী, আইআরজিসি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলিয়ে একটি জটিল ও বহুমাত্রিক ক্ষমতার কাঠামো বিদ্যমান। ফলে একজন নেতাকে সরিয়ে দিলেই পুরো ব্যবস্থার পতন ঘটবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া: উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে ম্যালরয়ের মতে, খামেনিকে হত্যা করা হলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার বদলে বরং আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছাতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্য এক ধরনের সর্বাত্মক সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়বে।ড্রোন হতে পারে প্রধান আঘাতের অস্ত্র ম্যালরয়ের বিশ্লেষণে উঠে আসে, ইরানের হাতে থাকা ড্রোন প্রযুক্তিই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অস্ত্র। তাঁর দাবি, দুবাই ও বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনায় যে ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইরান ব্যাপক হারে ড্রোন উৎপাদনে সক্ষম এবং দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়াকেও এসব ড্রোন সরবরাহ করছে। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। যদিও সাধারণভাবে এসব ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা তুলনামূলক সহজ বলে মনে করা হয়, বাস্তবে দেখা গেছে—অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
ম্যালরয়ের ধারণা, ইরান একযোগে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলে দেয়। এত বেশি ড্রোন একসঙ্গে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যায়। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বোঝা যায়—একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়াই হতে পারে ইরানের বড় কৌশল। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো বহুমাত্রিক ও শক্তিশালী হওয়ায় শুধুমাত্র নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিকে নীতিগতভাবে বদলে দেওয়া কঠিন। বরং এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে, যেখানে ড্রোন প্রযুক্তিই হয়ে উঠতে পারে প্রধান আঘাতের মাধ্যম।— জেটিভি নিউজ বাংলা

Reporter Name 




















