জেটিভি নিউজ বাংলা | প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
বাগেরহাটে চারটি আসন পুনর্বহাল: আপিল বিভাগের রায়ে ইসির গেজেট অবৈধই থাকলো
বাগেরহাট, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫:
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। এর ফলে পূর্বের মতোই বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল থাকলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারীদের আইনজীবীরা।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি আসন কমানোর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে।
হরতাল, অবরোধ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যেও ইসি ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে চূড়ান্ত গেজেট, যাতে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি তীব্র আপত্তি জানান।
এরপর বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠন দুটি রিট দায়ের করে।
রিটের শুনানি শেষে ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট ইসির গেজেট অবৈধ ঘোষণা করেন এবং বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশেরও নির্দেশ দেয় আদালত।
এই রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করলে আজ তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে এবং চারটি আসন আগের মতোই কার্যকর থাকে।
- বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট
- বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া
- বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা
- বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা
১৯৬৯ সাল থেকে এ চার আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আদালতের রায়ের ফলে পুরোনো এই আসন কাঠামোই বজায় থাকছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন ঘটেছে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে। চারটি আসন বহাল থাকায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট জেলায় আগের কাঠামো অনুসারেই ভোটগ্রহণ হবে।