ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর যৌন নির্যাতন অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে

  গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর যৌন নির্যাতন অভিযোগ  

জেটিভি নিউজ বাংলা, সাভার প্রতিনিধি

  ঢাকার সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক মো. লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও বিভিন্ন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক নারী শিক্ষার্থী। অভিযোগে বলা হয়েছে—তিনি ক্লাসে অশালীন কথা বলাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—প্রভাষক লিমন নারী শিক্ষার্থীদের কেবিনে ডেকে অশোভন মন্তব্য করেন এবং ব্যক্তিগত জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত কথাবার্তা শোনান। ফেসবুকে পাঠানো বার্তায় তিনি নিজের দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত তথ্যসহ যৌনতা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন, যা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে অত্যন্ত বিব্রত করে। অপরদিকে, আইন বিভাগের আরও কিছু শিক্ষার্থী পাঁচ দফা অভিযোগ উত্থাপন করে জানান—লিমন হোসেন ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের থানায় গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন, যা গুরুতর অবহেলার শামিল। এছাড়া ক্লাস পরিচালনার সময় তিনি জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রবেশ করে প্রকাশ্যে হেয় করতেন, যা শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। অভিযোগে আরও বলা হয়—তিনি স্বজনপ্রীতি ও বিভেদ সৃষ্টির আচরণ প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভাজন তৈরি করতেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন—অভিযুক্ত শিক্ষক ক্যাম্পাসে অতীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি অপরাধচক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত এবং বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী রোববার ক্যাম্পাসের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভাষক লিমন হোসেন বলেন—তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে। যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান ড. ওয়াহিদা জামান লস্কর জানিয়েছেন—প্রশাসন থেকে তাকে সেলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই। এদিকে ধর্ষণ মামলায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকালীন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম ও প্রভাষক লিমন হোসেনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। তদন্ত কমিটির সভাপতি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু রায়হান।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর যৌন নির্যাতন অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

  গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর যৌন নির্যাতন অভিযোগ  

জেটিভি নিউজ বাংলা, সাভার প্রতিনিধি

  ঢাকার সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক মো. লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও বিভিন্ন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক নারী শিক্ষার্থী। অভিযোগে বলা হয়েছে—তিনি ক্লাসে অশালীন কথা বলাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—প্রভাষক লিমন নারী শিক্ষার্থীদের কেবিনে ডেকে অশোভন মন্তব্য করেন এবং ব্যক্তিগত জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত কথাবার্তা শোনান। ফেসবুকে পাঠানো বার্তায় তিনি নিজের দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত তথ্যসহ যৌনতা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন, যা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে অত্যন্ত বিব্রত করে। অপরদিকে, আইন বিভাগের আরও কিছু শিক্ষার্থী পাঁচ দফা অভিযোগ উত্থাপন করে জানান—লিমন হোসেন ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের থানায় গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন, যা গুরুতর অবহেলার শামিল। এছাড়া ক্লাস পরিচালনার সময় তিনি জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রবেশ করে প্রকাশ্যে হেয় করতেন, যা শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। অভিযোগে আরও বলা হয়—তিনি স্বজনপ্রীতি ও বিভেদ সৃষ্টির আচরণ প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভাজন তৈরি করতেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন—অভিযুক্ত শিক্ষক ক্যাম্পাসে অতীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি অপরাধচক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত এবং বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী রোববার ক্যাম্পাসের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভাষক লিমন হোসেন বলেন—তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে। যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান ড. ওয়াহিদা জামান লস্কর জানিয়েছেন—প্রশাসন থেকে তাকে সেলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই। এদিকে ধর্ষণ মামলায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকালীন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম ও প্রভাষক লিমন হোসেনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। তদন্ত কমিটির সভাপতি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু রায়হান।