ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

বাংলাদেশ–সৌদির মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ধস নেমেছে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বাজারে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা, ডেস্ক 


বাংলাদেশ–সৌদির মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ধস নেমেছে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বাজারে

  বারবার রফতানি নিষেধাজ্ঞা, বীজ পাচার ও প্রতিযোগী দেশগুলোর স্বনির্ভরতা—সব মিলিয়ে চরম সংকটে ভারতীয় চাষিরা ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বাজার ভয়াবহ মন্দায় পড়েছে। বহু বছর ধরে ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাংলাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বাজার সৌদি আরব এখন দেশটি থেকে প্রায় আর পেঁয়াজ আমদানি করছে না। ফলে বিকল্প সরবরাহকারীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে এ দুটি বড় ক্রেতা দেশ, যা ভারতের রফতানি বাজারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস-এর বরাতে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে ভারতের পেঁয়াজ চাষিদের অবস্থান এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জন্য দায়ী হচ্ছে ভারত সরকারের নিজেদের সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণের নামে বারবার রফতানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া।

বাংলাদেশ এখন স্বনির্ভরতার পথে, আমদানি কমেছে ৫৫ গুণের বেশি

একসময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রফতানির তিন-চতুর্থাংশ যেত বাংলাদেশে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরেও বাংলাদেশ ভারত থেকে ৭.২৪ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিল, যা ভারতের মোট রফতানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ আমদানি করেছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন—যা আগের তুলনায় ৫৫ গুণ কম। বাংলাদেশের স্থানীয় কৃষকদের রক্ষা এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের মনোযোগই ভারতীয় বাজারে এ বড় ধাক্কার কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সৌদি আরবের মোড় ঘোরা—কমদামের পেঁয়াজে ঝুঁকেছে ইরান–ইয়েমেনের দিকে

ভারতের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের দাবি, সৌদি আরব প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজের অনুমোদন দিচ্ছে না। কারণ, সৌদি এখন ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ সংগ্রহ করছে। ফলে ভারতের বাজার হঠাৎ করেই বড় ক্রেতা হারিয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট প্রায় এক বছর রফতানি নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এতে ভারতীয় রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরে গেলে ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজে নেয়। এ সময়েই পাকিস্তান, চীন, ইরান, ইয়েমেন নিজেদের বাজার শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে সতর্কতা এসেছে আরেক দিক থেকে—ভারতের পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। এসব দেশ সেই বীজ ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়িয়ে এখন স্বনির্ভরতা অর্জন করছে, ফলে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমছে দ্রুত।

রফতানিকারক অজিত শাহ ইকোনোমিক টাইমস-কে বলেন, “আগে মানের জন্য আমরা ভালো দাম পেতাম। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বাজার থেকে আমরা বাদ পড়ি। তখন ক্রেতারা অন্য সরবরাহকারী খুঁজে নেয়। এখন আর কেউ কোয়ালিটি দেখে না—কে কম দামে দিচ্ছে, সেটাই দেখে।”

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিল সদস্য পাশা প্যাটেল মন্তব্য করেছেন, “আমরা শুধু আমাদের ঐতিহ্যগত ক্রেতাদের হারাইনি; তারা এখন আমাদের বীজ ব্যবহার করে নিজেরাই স্বনির্ভর হচ্ছে।”
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

বাংলাদেশ–সৌদির মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ধস নেমেছে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বাজারে

আপডেট সময় ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

জেটিভি নিউজ বাংলা, ডেস্ক 


বাংলাদেশ–সৌদির মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ধস নেমেছে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বাজারে

  বারবার রফতানি নিষেধাজ্ঞা, বীজ পাচার ও প্রতিযোগী দেশগুলোর স্বনির্ভরতা—সব মিলিয়ে চরম সংকটে ভারতীয় চাষিরা ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বাজার ভয়াবহ মন্দায় পড়েছে। বহু বছর ধরে ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাংলাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বাজার সৌদি আরব এখন দেশটি থেকে প্রায় আর পেঁয়াজ আমদানি করছে না। ফলে বিকল্প সরবরাহকারীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে এ দুটি বড় ক্রেতা দেশ, যা ভারতের রফতানি বাজারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস-এর বরাতে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে ভারতের পেঁয়াজ চাষিদের অবস্থান এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জন্য দায়ী হচ্ছে ভারত সরকারের নিজেদের সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণের নামে বারবার রফতানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া।

বাংলাদেশ এখন স্বনির্ভরতার পথে, আমদানি কমেছে ৫৫ গুণের বেশি

একসময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রফতানির তিন-চতুর্থাংশ যেত বাংলাদেশে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরেও বাংলাদেশ ভারত থেকে ৭.২৪ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিল, যা ভারতের মোট রফতানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ আমদানি করেছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন—যা আগের তুলনায় ৫৫ গুণ কম। বাংলাদেশের স্থানীয় কৃষকদের রক্ষা এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের মনোযোগই ভারতীয় বাজারে এ বড় ধাক্কার কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সৌদি আরবের মোড় ঘোরা—কমদামের পেঁয়াজে ঝুঁকেছে ইরান–ইয়েমেনের দিকে

ভারতের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের দাবি, সৌদি আরব প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজের অনুমোদন দিচ্ছে না। কারণ, সৌদি এখন ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ সংগ্রহ করছে। ফলে ভারতের বাজার হঠাৎ করেই বড় ক্রেতা হারিয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট প্রায় এক বছর রফতানি নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এতে ভারতীয় রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরে গেলে ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজে নেয়। এ সময়েই পাকিস্তান, চীন, ইরান, ইয়েমেন নিজেদের বাজার শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে সতর্কতা এসেছে আরেক দিক থেকে—ভারতের পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। এসব দেশ সেই বীজ ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়িয়ে এখন স্বনির্ভরতা অর্জন করছে, ফলে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমছে দ্রুত।

রফতানিকারক অজিত শাহ ইকোনোমিক টাইমস-কে বলেন, “আগে মানের জন্য আমরা ভালো দাম পেতাম। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বাজার থেকে আমরা বাদ পড়ি। তখন ক্রেতারা অন্য সরবরাহকারী খুঁজে নেয়। এখন আর কেউ কোয়ালিটি দেখে না—কে কম দামে দিচ্ছে, সেটাই দেখে।”

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিল সদস্য পাশা প্যাটেল মন্তব্য করেছেন, “আমরা শুধু আমাদের ঐতিহ্যগত ক্রেতাদের হারাইনি; তারা এখন আমাদের বীজ ব্যবহার করে নিজেরাই স্বনির্ভর হচ্ছে।”