ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় শেখ হাসিনার রায় পড়া শুরু

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে

 

📰 জেটিভি নিউজ বাংলা – প্রিন্ট ভার্সন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় শেখ হাসিনার রায় পড়া শুরু

রায় ঘোষণার সময়সূচী ও বিচারিক প্যানেল:

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় পড়া শুরু করেন। রায়ের আগে সকাল ১১টার দিকে পড়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেরি হয়ে দেড় ঘণ্টা পর কার্যক্রম শুরু হয়। রায় সরাসরি সম্প্রচার করছে বিটিভিরয়টার্স, এছাড়া ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেইজ থেকেও সরাসরি দেখানো হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় রায় দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাহ্যিক পরিস্থিতি ও জনসমাগম:

ট্রাইব্যুনালের ভেতরে রায় চলাকালীন, বাইরের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ।
  • জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন সমবেত হয়েছেন।
  • সাধারণ জনতাও উপস্থিত হয়ে সাবেক স্বৈরশাসক হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শ্লোগান দিচ্ছেন।
গণঅধিকার পরিষদ হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করছে। বক্তারা বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে ফ্যাসিবাদী অপশক্তি চেষ্টা করছে। শ্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে:
“রশি লাগলে রশি নে—হাসিনারে ফাঁসি দে” “লীগ ধর-জেলে ভর”
বিভিন্ন সংগঠনও বলেছে, হাসিনাকে একবার নয়, ১৪০০ বার ফাঁসি দিতে হবে এবং তা দেশে উন্মুক্ত স্থানে কার্যকর করতে হবে।

নিহতদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীর প্রতিক্রিয়া:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব বলেন:
“আমার ছেলেকে তো আমি আর পাবো না। খুনি শেখ হাসিনার যেন ফাঁসি হয়, সেটা নিজের চোখে দেখতে এসেছি। দেশে যেন আর কোনো সরকার এমন করতে না পারে। এই বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহিতা তৈরি হবে।”
তিনি আরও জানান, তার ছেলে মিরাজ ৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। মিরাজ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আসামি ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য:

  • মামলার আসামি: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
  • তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।
  • আইনজীবী ও আসামির পক্ষের দাবি: নির্দোষ ও খালাস।
সাবেক আইজিপি আল-মামুনকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এ কারণে তিনি আদালতের সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি, তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাক্ষ্যপ্রদান ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম:

মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন:
  • আন্দোলনকারী ও আহতরা
  • প্রত্যক্ষদর্শী
  • চিকিৎসক
  • শহীদদের পরিবারের সদস্য
  • আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
  • দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান
দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা দেশবাসীর নজরদারির মধ্যে চলছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্র বা প্রধানমন্ত্রীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে দেখা যাচ্ছে।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় শেখ হাসিনার রায় পড়া শুরু

আপডেট সময় ০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
 

📰 জেটিভি নিউজ বাংলা – প্রিন্ট ভার্সন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় শেখ হাসিনার রায় পড়া শুরু

রায় ঘোষণার সময়সূচী ও বিচারিক প্যানেল:

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় পড়া শুরু করেন। রায়ের আগে সকাল ১১টার দিকে পড়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেরি হয়ে দেড় ঘণ্টা পর কার্যক্রম শুরু হয়। রায় সরাসরি সম্প্রচার করছে বিটিভিরয়টার্স, এছাড়া ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেইজ থেকেও সরাসরি দেখানো হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় রায় দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাহ্যিক পরিস্থিতি ও জনসমাগম:

ট্রাইব্যুনালের ভেতরে রায় চলাকালীন, বাইরের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ।
  • জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন সমবেত হয়েছেন।
  • সাধারণ জনতাও উপস্থিত হয়ে সাবেক স্বৈরশাসক হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শ্লোগান দিচ্ছেন।
গণঅধিকার পরিষদ হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করছে। বক্তারা বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে ফ্যাসিবাদী অপশক্তি চেষ্টা করছে। শ্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে:
“রশি লাগলে রশি নে—হাসিনারে ফাঁসি দে” “লীগ ধর-জেলে ভর”
বিভিন্ন সংগঠনও বলেছে, হাসিনাকে একবার নয়, ১৪০০ বার ফাঁসি দিতে হবে এবং তা দেশে উন্মুক্ত স্থানে কার্যকর করতে হবে।

নিহতদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীর প্রতিক্রিয়া:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব বলেন:
“আমার ছেলেকে তো আমি আর পাবো না। খুনি শেখ হাসিনার যেন ফাঁসি হয়, সেটা নিজের চোখে দেখতে এসেছি। দেশে যেন আর কোনো সরকার এমন করতে না পারে। এই বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহিতা তৈরি হবে।”
তিনি আরও জানান, তার ছেলে মিরাজ ৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। মিরাজ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আসামি ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য:

  • মামলার আসামি: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
  • তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।
  • আইনজীবী ও আসামির পক্ষের দাবি: নির্দোষ ও খালাস।
সাবেক আইজিপি আল-মামুনকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এ কারণে তিনি আদালতের সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি, তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাক্ষ্যপ্রদান ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম:

মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন:
  • আন্দোলনকারী ও আহতরা
  • প্রত্যক্ষদর্শী
  • চিকিৎসক
  • শহীদদের পরিবারের সদস্য
  • আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
  • দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান
দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা দেশবাসীর নজরদারির মধ্যে চলছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্র বা প্রধানমন্ত্রীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে দেখা যাচ্ছে।