ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও নৃশংসতা—আশরাফুল হত্যার বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য র‌্যাবের সামনে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২৯ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা।

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও নৃশংসতা—আশরাফুল হত্যার বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য র‌্যাবের সামনে

  রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হানি ট্র্যাপে ফেলে ঢাকায় এনে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর। র‌্যাবের কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে তিনি জানান, এই পরিকল্পনার মূল নায়ক ছিলেন নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজ মিয়া। শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব-৩ এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ইউনিটটির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

পরিকল্পিত ফাঁদে ঢাকায় ডেকে আনা

র‌্যাব জানায়, প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে থাকা জরেজের নির্দেশে এক মাস আগে থেকে শামীমা নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলে আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকায় আসতে রাজি করান। ১১ নভেম্বর জরেজ ও আশরাফুল রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা হন এবং পরদিন শনির আখড়ার নূরপুর এলাকার ভাড়া করা বাসায় শামীমার সঙ্গে ওঠেন।

অচেতন করে ভিডিও ধারণ, এরপর নির্মম হত্যা

পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে শামীমা-আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে জরেজ। জবানবন্দি অনুযায়ী, এরপর জরেজ তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে মুখ কসটেপ দিয়ে আটকে দেয়। অতিরিক্ত ইয়াবা সেবন করে উন্মত্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। শ্বাসরোধে ঘটনাস্থলেই মারা যান আশরাফুল। শামীমা দাবি করেছেন, তিনি হত্যাকাণ্ড ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এতে জরেজ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও মারধর করেন।

মরদেহের পাশে রাত কাটানো ও সম্পর্ক

হত্যার পর একই ঘরে মরদেহ রেখে রাত কাটান জরেজ ও শামীমা। এমনকি সেই রাতেই তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে শামীমার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পরদিন মরদেহ গুম করতে স্থানীয় বাজার থেকে চাপাতি ও ড্রাম কেনা হয়। এরপর মরদেহ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে অটোরিকশাযোগে জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা দুজন।

পালানোর পরিকল্পনাও ছিল

জরেজের মালয়েশিয়া পালানোর পরিকল্পনা ছিল এবং পাসপোর্ট তৈরির কাজও চলছিল। তবে এর আগেই র‌্যাব তাদের গ্রেফতার করে। শামীমার তথ্য মতে শনির আখড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রশি, কসটেপ, চাপাতি ও রক্তমাখা পোশাক।

র‌্যাবের আশঙ্কা—এখানে আরও আছে লুকানো উদ্দেশ্য

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, শামীমা দাবি করলেও যে অর্থ হাতানোই ছিল লক্ষ্য, হত্যার নৃশংসতায় পূর্বশত্রুতা বা ক্ষোভের বিষয়ও থাকতে পারে। মূল আসামি জরেজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসবে।

নিহতের পরিচয় ও মামলা

২৬ টুকরো লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, নিহত আশরাফুল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার ১০ বছরের এক মেয়ে ও ৭ বছরের এক ছেলে রয়েছে। ঘটনার পর নিহতের বোন আনজিরা বেগম শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও নৃশংসতা—আশরাফুল হত্যার বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য র‌্যাবের সামনে

আপডেট সময় ০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
জেটিভি নিউজ বাংলা নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা।

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও নৃশংসতা—আশরাফুল হত্যার বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য র‌্যাবের সামনে

  রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হানি ট্র্যাপে ফেলে ঢাকায় এনে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর। র‌্যাবের কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে তিনি জানান, এই পরিকল্পনার মূল নায়ক ছিলেন নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজ মিয়া। শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব-৩ এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ইউনিটটির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

পরিকল্পিত ফাঁদে ঢাকায় ডেকে আনা

র‌্যাব জানায়, প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে থাকা জরেজের নির্দেশে এক মাস আগে থেকে শামীমা নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলে আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকায় আসতে রাজি করান। ১১ নভেম্বর জরেজ ও আশরাফুল রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা হন এবং পরদিন শনির আখড়ার নূরপুর এলাকার ভাড়া করা বাসায় শামীমার সঙ্গে ওঠেন।

অচেতন করে ভিডিও ধারণ, এরপর নির্মম হত্যা

পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে শামীমা-আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে জরেজ। জবানবন্দি অনুযায়ী, এরপর জরেজ তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে মুখ কসটেপ দিয়ে আটকে দেয়। অতিরিক্ত ইয়াবা সেবন করে উন্মত্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। শ্বাসরোধে ঘটনাস্থলেই মারা যান আশরাফুল। শামীমা দাবি করেছেন, তিনি হত্যাকাণ্ড ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এতে জরেজ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও মারধর করেন।

মরদেহের পাশে রাত কাটানো ও সম্পর্ক

হত্যার পর একই ঘরে মরদেহ রেখে রাত কাটান জরেজ ও শামীমা। এমনকি সেই রাতেই তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে শামীমার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পরদিন মরদেহ গুম করতে স্থানীয় বাজার থেকে চাপাতি ও ড্রাম কেনা হয়। এরপর মরদেহ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে অটোরিকশাযোগে জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা দুজন।

পালানোর পরিকল্পনাও ছিল

জরেজের মালয়েশিয়া পালানোর পরিকল্পনা ছিল এবং পাসপোর্ট তৈরির কাজও চলছিল। তবে এর আগেই র‌্যাব তাদের গ্রেফতার করে। শামীমার তথ্য মতে শনির আখড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রশি, কসটেপ, চাপাতি ও রক্তমাখা পোশাক।

র‌্যাবের আশঙ্কা—এখানে আরও আছে লুকানো উদ্দেশ্য

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, শামীমা দাবি করলেও যে অর্থ হাতানোই ছিল লক্ষ্য, হত্যার নৃশংসতায় পূর্বশত্রুতা বা ক্ষোভের বিষয়ও থাকতে পারে। মূল আসামি জরেজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসবে।

নিহতের পরিচয় ও মামলা

২৬ টুকরো লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, নিহত আশরাফুল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার ১০ বছরের এক মেয়ে ও ৭ বছরের এক ছেলে রয়েছে। ঘটনার পর নিহতের বোন আনজিরা বেগম শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।