ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও নৃশংসতা—আশরাফুল হত্যার বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য র‌্যাবের সামনে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা।

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও নৃশংসতা—আশরাফুল হত্যার বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য র‌্যাবের সামনে

  রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হানি ট্র্যাপে ফেলে ঢাকায় এনে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর। র‌্যাবের কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে তিনি জানান, এই পরিকল্পনার মূল নায়ক ছিলেন নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজ মিয়া। শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব-৩ এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ইউনিটটির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

পরিকল্পিত ফাঁদে ঢাকায় ডেকে আনা

র‌্যাব জানায়, প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে থাকা জরেজের নির্দেশে এক মাস আগে থেকে শামীমা নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলে আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকায় আসতে রাজি করান। ১১ নভেম্বর জরেজ ও আশরাফুল রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা হন এবং পরদিন শনির আখড়ার নূরপুর এলাকার ভাড়া করা বাসায় শামীমার সঙ্গে ওঠেন।

অচেতন করে ভিডিও ধারণ, এরপর নির্মম হত্যা

পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে শামীমা-আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে জরেজ। জবানবন্দি অনুযায়ী, এরপর জরেজ তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে মুখ কসটেপ দিয়ে আটকে দেয়। অতিরিক্ত ইয়াবা সেবন করে উন্মত্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। শ্বাসরোধে ঘটনাস্থলেই মারা যান আশরাফুল। শামীমা দাবি করেছেন, তিনি হত্যাকাণ্ড ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এতে জরেজ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও মারধর করেন।

মরদেহের পাশে রাত কাটানো ও সম্পর্ক

হত্যার পর একই ঘরে মরদেহ রেখে রাত কাটান জরেজ ও শামীমা। এমনকি সেই রাতেই তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে শামীমার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পরদিন মরদেহ গুম করতে স্থানীয় বাজার থেকে চাপাতি ও ড্রাম কেনা হয়। এরপর মরদেহ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে অটোরিকশাযোগে জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা দুজন।

পালানোর পরিকল্পনাও ছিল

জরেজের মালয়েশিয়া পালানোর পরিকল্পনা ছিল এবং পাসপোর্ট তৈরির কাজও চলছিল। তবে এর আগেই র‌্যাব তাদের গ্রেফতার করে। শামীমার তথ্য মতে শনির আখড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রশি, কসটেপ, চাপাতি ও রক্তমাখা পোশাক।

র‌্যাবের আশঙ্কা—এখানে আরও আছে লুকানো উদ্দেশ্য

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, শামীমা দাবি করলেও যে অর্থ হাতানোই ছিল লক্ষ্য, হত্যার নৃশংসতায় পূর্বশত্রুতা বা ক্ষোভের বিষয়ও থাকতে পারে। মূল আসামি জরেজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসবে।

নিহতের পরিচয় ও মামলা

২৬ টুকরো লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, নিহত আশরাফুল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার ১০ বছরের এক মেয়ে ও ৭ বছরের এক ছেলে রয়েছে। ঘটনার পর নিহতের বোন আনজিরা বেগম শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও নৃশংসতা—আশরাফুল হত্যার বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য র‌্যাবের সামনে

আপডেট সময় ০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
জেটিভি নিউজ বাংলা নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা।

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও নৃশংসতা—আশরাফুল হত্যার বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য র‌্যাবের সামনে

  রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হানি ট্র্যাপে ফেলে ঢাকায় এনে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর। র‌্যাবের কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে তিনি জানান, এই পরিকল্পনার মূল নায়ক ছিলেন নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজ মিয়া। শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব-৩ এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ইউনিটটির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

পরিকল্পিত ফাঁদে ঢাকায় ডেকে আনা

র‌্যাব জানায়, প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে থাকা জরেজের নির্দেশে এক মাস আগে থেকে শামীমা নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলে আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকায় আসতে রাজি করান। ১১ নভেম্বর জরেজ ও আশরাফুল রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা হন এবং পরদিন শনির আখড়ার নূরপুর এলাকার ভাড়া করা বাসায় শামীমার সঙ্গে ওঠেন।

অচেতন করে ভিডিও ধারণ, এরপর নির্মম হত্যা

পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে শামীমা-আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে জরেজ। জবানবন্দি অনুযায়ী, এরপর জরেজ তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে মুখ কসটেপ দিয়ে আটকে দেয়। অতিরিক্ত ইয়াবা সেবন করে উন্মত্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। শ্বাসরোধে ঘটনাস্থলেই মারা যান আশরাফুল। শামীমা দাবি করেছেন, তিনি হত্যাকাণ্ড ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এতে জরেজ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও মারধর করেন।

মরদেহের পাশে রাত কাটানো ও সম্পর্ক

হত্যার পর একই ঘরে মরদেহ রেখে রাত কাটান জরেজ ও শামীমা। এমনকি সেই রাতেই তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে শামীমার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পরদিন মরদেহ গুম করতে স্থানীয় বাজার থেকে চাপাতি ও ড্রাম কেনা হয়। এরপর মরদেহ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে অটোরিকশাযোগে জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা দুজন।

পালানোর পরিকল্পনাও ছিল

জরেজের মালয়েশিয়া পালানোর পরিকল্পনা ছিল এবং পাসপোর্ট তৈরির কাজও চলছিল। তবে এর আগেই র‌্যাব তাদের গ্রেফতার করে। শামীমার তথ্য মতে শনির আখড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রশি, কসটেপ, চাপাতি ও রক্তমাখা পোশাক।

র‌্যাবের আশঙ্কা—এখানে আরও আছে লুকানো উদ্দেশ্য

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, শামীমা দাবি করলেও যে অর্থ হাতানোই ছিল লক্ষ্য, হত্যার নৃশংসতায় পূর্বশত্রুতা বা ক্ষোভের বিষয়ও থাকতে পারে। মূল আসামি জরেজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসবে।

নিহতের পরিচয় ও মামলা

২৬ টুকরো লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, নিহত আশরাফুল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার ১০ বছরের এক মেয়ে ও ৭ বছরের এক ছেলে রয়েছে। ঘটনার পর নিহতের বোন আনজিরা বেগম শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।