ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

রায়ের দিন নির্ধারণ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

 

📰 রায়ের দিন নির্ধারণ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

জেটিভি নিউজ বাংলা | ডেস্ক রিপোর্ট চব্বিশ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী

⚖️ প্রসিকিউশন ও মামলার অগ্রগতি

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। মামলার আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে পলাতক। অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন কারাগারে আটক আছেন এবং তিনি পরে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হন।

📜 মামলার পটভূমি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের প্রথম মামলা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

📚 অভিযোগের বিবরণ

প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ আনায়। গত ১২ মে তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যার দৈর্ঘ্য ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি ৪ হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা, এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা ট্রাইব্যুনাল সেদিনই আমলে নেয়। এরপর ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

🗣️ রাজসাক্ষীর স্বীকারোক্তি ও চূড়ান্ত যুক্তি

বিচার চলাকালে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন। পরে ঘটনার সত্যতা উদ্‌ঘাটনে তিনি বিস্তারিত সাক্ষ্য দেন। গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান তার সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। পরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ হিসেবে ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে। ওই দিনই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
🖋️ প্রিন্ট সংস্করণ: জেটিভি নিউজ বাংলা তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ সংবাদদাতা: জেটিভি ডেস্ক

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

রায়ের দিন নির্ধারণ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

আপডেট সময় ১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
 

📰 রায়ের দিন নির্ধারণ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

জেটিভি নিউজ বাংলা | ডেস্ক রিপোর্ট চব্বিশ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী

⚖️ প্রসিকিউশন ও মামলার অগ্রগতি

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। মামলার আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে পলাতক। অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন কারাগারে আটক আছেন এবং তিনি পরে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হন।

📜 মামলার পটভূমি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের প্রথম মামলা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

📚 অভিযোগের বিবরণ

প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ আনায়। গত ১২ মে তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যার দৈর্ঘ্য ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি ৪ হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা, এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা ট্রাইব্যুনাল সেদিনই আমলে নেয়। এরপর ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

🗣️ রাজসাক্ষীর স্বীকারোক্তি ও চূড়ান্ত যুক্তি

বিচার চলাকালে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন। পরে ঘটনার সত্যতা উদ্‌ঘাটনে তিনি বিস্তারিত সাক্ষ্য দেন। গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান তার সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। পরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ হিসেবে ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে। ওই দিনই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
🖋️ প্রিন্ট সংস্করণ: জেটিভি নিউজ বাংলা তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ সংবাদদাতা: জেটিভি ডেস্ক