ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় নির্বাচনব্যবস্থা ছিল অচল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “ছাত্রসংসদের প্রতি জাতির অনেক প্রত্যাশা— তোমাদের হাত ধরেই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তোমাদের জাতির স্বপ্নসারথি হতে হবে।” জামায়াত আমির আরও বলেন, “ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুর মতো আগামীর বাংলাদেশও তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে। তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ আমাদের সবার কাম্য।” নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রত্যেকে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক এক্সিলেন্স, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও সততার পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করবে। গতানুগতিক সংস্কৃতির বাইরে এসে ভবিষ্যতের বৃহৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তোমরা যেমন নেতৃত্বে থেকে জগদ্দল পাথর সরিয়ে দিয়েছ, তেমনি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে সহযোগিতা করবে।” সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রসংসদ নির্বাচন ছিল ছাত্রসমাজের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত— এটি ছিল জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ইসলামী ছাত্রশিবির বরাবরই ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার থেকেছে ও আন্দোলন করেছে।” তিনি বলেন, “ছাত্রসংসদ শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চ হবে না, বরং এটি হবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশিক্ষণক্ষেত্র। প্রতিনিধিরা কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতিনিধি নয়; বরং সবার জন্য কাজ করবে।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্ব দিচ্ছে, আমরা তখনও পুরোনো ব্যবস্থায় আটকে আছি। আমাদের প্রয়োজন শিক্ষার্থীবান্ধব, বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণানির্ভর ছাত্রসংসদ।” ছাত্রশিবির সভাপতি জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের অবদান স্মরণ করেন। তিনি ডাকসু নির্বাচনের খবর সংগ্রহের সময় মৃত্যুবরণ করা সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম শিবলী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় মৃত্যুবরণ করা শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস এর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

Reporter Name 




















