ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা আসতে পারে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৩ জুন ২০২৬ ইং সময়: সকাল ১০:২৭ মিনিট।  

মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা আসতে পারে

  মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের এই সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, তা নিয়ে গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি প্রথম সফরের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। এর পরপরই তিনি চীন সফরে যাবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ থেকে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরের সূচি নির্ধারিত রয়েছে। তবে কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি ঢাকায় ফিরে চীন সফরে যাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে অভিবাসন ও জনশক্তি রপ্তানি বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত বড় কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করেই সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনাই প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম বড় উপলক্ষ হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন—এ তথ্য নিশ্চিত। তবে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। তবে সফরকে কেন্দ্র করে এ বিষয়ে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০ থেকে ১৫ দিন কিংবা এক মাসের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।” প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। ওই বছর মালয়েশিয়া সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, পূর্ব অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ মে’র মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় আর কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে নতুন কোনো বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার চেষ্টা করেও বাজারটি পুনরায় খুলতে সক্ষম হয়নি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এরপর বিভিন্ন সময় তারা শ্রমবাজার দ্রুত চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথমবার বন্ধ হয় ২০০৮ সালে। পরে ২০১৬ সালে বাজারটি পুনরায় চালু হলেও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ২০২২ সালে পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ এবং ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ৩১ মে বন্ধ হওয়ার পর এখনো বাজারটি পুনরায় চালু হয়নি। যদিও দুই বছর পর শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তবে রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী পাঠানো হলে পুরোনো সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হতে পারে। কারণ, ওই চুক্তিতে যোগ্য এজেন্সি নির্বাচন করার ক্ষমতা মালয়েশিয়ার হাতে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সমঝোতা স্মারক সংশোধন না করা হলে আবারও সিন্ডিকেটের দখলে চলে যেতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বারবার বলে আসছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটকে সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমি যদি মন্ত্রী থাকি, এখানে কোনো সিন্ডিকেট হবে না। জিরো টলারেন্স।” ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি চিঠি দিয়ে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চায়। পরে বাংলাদেশ অন্তত তিনটি শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানায়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—গত পাঁচ বছরে অন্তত ৩ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর অভিজ্ঞতা, নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা এবং গত তিন বছর ধরে কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুটের স্থায়ী অফিস পরিচালনা করা। এছাড়া অন্তত পাঁচ বছরের বৈধ লাইসেন্স, কমপক্ষে তিনটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, গুড কন্ডাক্ট সার্টিফিকেট এবং মানবপাচার বা বলপূর্বক শ্রমে জড়িত থাকার কোনো রেকর্ড না থাকার শর্তও রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ২ হাজার ৫০০ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। এর মধ্যে ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, শ্রমবাজার খোলা প্রয়োজন। তবে সেটি যেন টেকসই হয়। অতীতে যে কারণে বাজার বন্ধ হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে নতুনভাবে চুক্তিগুলো সাজিয়ে বাজার খুললে তা দীর্ঘমেয়াদে সবার জন্য উপকারী হবে। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে প্রথম ২৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যান। দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক জনশক্তি নিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯২ সালে। ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যান। তবে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে শ্রমবাজারটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুয়ালালামপুর সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার অন্তত দুইজন মন্ত্রীও তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। এক কর্মকর্তা জানান, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকারে থাকলেও বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, কৃষি, হালাল খাদ্যশিল্প, সুনীল অর্থনীতি, আসিয়ান সহযোগিতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও আলোচনা হতে পারে। উল্লেখ্য, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৫ সালের আগস্টে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা আসতে পারে

আপডেট সময় ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৩ জুন ২০২৬ ইং সময়: সকাল ১০:২৭ মিনিট।  

মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা আসতে পারে

  মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের এই সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, তা নিয়ে গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি প্রথম সফরের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। এর পরপরই তিনি চীন সফরে যাবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ থেকে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরের সূচি নির্ধারিত রয়েছে। তবে কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি ঢাকায় ফিরে চীন সফরে যাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে অভিবাসন ও জনশক্তি রপ্তানি বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত বড় কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করেই সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনাই প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম বড় উপলক্ষ হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন—এ তথ্য নিশ্চিত। তবে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। তবে সফরকে কেন্দ্র করে এ বিষয়ে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০ থেকে ১৫ দিন কিংবা এক মাসের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।” প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। ওই বছর মালয়েশিয়া সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, পূর্ব অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ মে’র মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় আর কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে নতুন কোনো বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার চেষ্টা করেও বাজারটি পুনরায় খুলতে সক্ষম হয়নি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এরপর বিভিন্ন সময় তারা শ্রমবাজার দ্রুত চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথমবার বন্ধ হয় ২০০৮ সালে। পরে ২০১৬ সালে বাজারটি পুনরায় চালু হলেও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ২০২২ সালে পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ এবং ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ৩১ মে বন্ধ হওয়ার পর এখনো বাজারটি পুনরায় চালু হয়নি। যদিও দুই বছর পর শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তবে রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী পাঠানো হলে পুরোনো সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হতে পারে। কারণ, ওই চুক্তিতে যোগ্য এজেন্সি নির্বাচন করার ক্ষমতা মালয়েশিয়ার হাতে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সমঝোতা স্মারক সংশোধন না করা হলে আবারও সিন্ডিকেটের দখলে চলে যেতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বারবার বলে আসছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটকে সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমি যদি মন্ত্রী থাকি, এখানে কোনো সিন্ডিকেট হবে না। জিরো টলারেন্স।” ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি চিঠি দিয়ে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চায়। পরে বাংলাদেশ অন্তত তিনটি শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানায়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—গত পাঁচ বছরে অন্তত ৩ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর অভিজ্ঞতা, নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা এবং গত তিন বছর ধরে কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুটের স্থায়ী অফিস পরিচালনা করা। এছাড়া অন্তত পাঁচ বছরের বৈধ লাইসেন্স, কমপক্ষে তিনটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, গুড কন্ডাক্ট সার্টিফিকেট এবং মানবপাচার বা বলপূর্বক শ্রমে জড়িত থাকার কোনো রেকর্ড না থাকার শর্তও রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ২ হাজার ৫০০ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। এর মধ্যে ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, শ্রমবাজার খোলা প্রয়োজন। তবে সেটি যেন টেকসই হয়। অতীতে যে কারণে বাজার বন্ধ হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে নতুনভাবে চুক্তিগুলো সাজিয়ে বাজার খুললে তা দীর্ঘমেয়াদে সবার জন্য উপকারী হবে। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে প্রথম ২৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যান। দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক জনশক্তি নিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯২ সালে। ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যান। তবে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে শ্রমবাজারটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুয়ালালামপুর সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার অন্তত দুইজন মন্ত্রীও তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। এক কর্মকর্তা জানান, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকারে থাকলেও বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, কৃষি, হালাল খাদ্যশিল্প, সুনীল অর্থনীতি, আসিয়ান সহযোগিতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও আলোচনা হতে পারে। উল্লেখ্য, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৫ সালের আগস্টে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....