ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বড় পরিবর্তনের পথে ইসি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ২৯ মে ২০২৬ ইং| সময়: বিকাল ০৪:০০ মিনিট। ফাইল ছবি

বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বড় পরিবর্তনের পথে ইসি

চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একগুচ্ছ বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে পোস্টার নিষিদ্ধ, ইভিএম ব্যবহার না করা, পোস্টাল ভোট বাতিল, দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে নির্দলীয় নির্বাচন আয়োজন, প্রার্থীদের জামানত বাড়ানো এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় নতুন কিছু নীতিগত পরিবর্তন।

বছরের শেষ দিকে ভোট আয়োজনের চিন্তা

গত ১৯ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে সরকারের এই সময়সূচির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয় নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বর থেকে ভোট আয়োজনের আলোচনা থাকলেও ইসি অক্টোবরের শেষ কিংবা নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার প্রভাব থাকায় ভোট আয়োজন কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগে আগস্ট মাসের কথা বলা হয়েছিল, পরে সেটি সেপ্টেম্বর হয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে বর্ষা থাকার কারণে দেশের অনেক এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা কঠিন হবে। মিঠামইন, বরিশাল কিংবা ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন বাস্তবসম্মত হবে না বলেই তিনি মনে করেন। তার মতে, নভেম্বরের আগে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং বছরের শেষ দিকেই ভোট আয়োজন বেশি বাস্তবসম্মত। আগামী এক বছরের মধ্যে পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলেও কোন নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচন আগে হবে সেটি বড় বিষয় নয়। আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে তার চেয়ে কীভাবে ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা যায়, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২১ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০ উপজেলা, ৬১ জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবে এই কাজে কমিশনের চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আশির দশকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বহু হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, হাসপাতাল আহত মানুষে ভরে যেত। তাই এবারের নির্বাচন সংঘাতমুক্ত করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়।

যেসব পরিবর্তন আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন প্রচারণা চালু হওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল, বিধিমালায় পরিবর্তন, দেশে ও দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণ না করা, ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে না দেওয়া, দলীয় প্রতীক বাতিল করে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজন, ইভিএম ব্যবহার না করা, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া, প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানো এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার পরিকল্পনা। এছাড়া সংসদ সদস্যরা যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়েও ভাবছে কমিশন। উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইভিএম এবং পোস্টাল ভোট—কোনোটিই থাকছে না। কমিশনের বৈঠকে আলোচিত বেশ কয়েকটি বিষয় প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ দলীয় প্রার্থী বা দলীয় প্রতীক থাকবে না এবং সবাই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন। এর ফলে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতাও থাকছে না। একই সঙ্গে ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগও বন্ধ করা হচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে জামানতের পরিমাণ কত হবে, তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের বসা নিয়ে কমিশন এখনও আলোচনা করছে। কারণ এটি বন্ধ করা হলে অনেক সংসদ সদস্য প্রশাসনিক সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরপিও অনুযায়ী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগীরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন না। সংসদ সদস্যরাও এই বিধানের আওতায় পড়েন। তারা কেবল ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দেওয়ার জন্য এলাকায় যাওয়া আইন অনুযায়ী বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সেনাবাহিনী মোতায়েনের আপাত পরিকল্পনা নেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের মতে, এটি একটি কৌশলগত নির্বাচন। সারা দেশে একদিনে ভোট না হওয়ায় প্রতিটি ধাপে নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তবে কোথাও বেশি সহিংসতা দেখা দিলে পরবর্তী ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে কমিশন আশা করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালার কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। ইসির পরিবর্তন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য এসব পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। ২০১৫ সালে সেটিকে দলীয় কাঠামোয় আনা হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও নির্দলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা উঠে আসে। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের শর্ত তুলে দেওয়াকে যৌক্তিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে ভোটারের গোপনীয়তা রক্ষা সহজ হবে, যদিও প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জামানত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা রাখতে পারে। পোস্টারবিহীন নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হলে সেনাবাহিনী ছাড়াও সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও মত তাদের। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নতুন কাঠামো ও নতুন বাস্তবতার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।      

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বড় পরিবর্তনের পথে ইসি

আপডেট সময় ০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ২৯ মে ২০২৬ ইং| সময়: বিকাল ০৪:০০ মিনিট। ফাইল ছবি

বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বড় পরিবর্তনের পথে ইসি

চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একগুচ্ছ বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে পোস্টার নিষিদ্ধ, ইভিএম ব্যবহার না করা, পোস্টাল ভোট বাতিল, দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে নির্দলীয় নির্বাচন আয়োজন, প্রার্থীদের জামানত বাড়ানো এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় নতুন কিছু নীতিগত পরিবর্তন।

বছরের শেষ দিকে ভোট আয়োজনের চিন্তা

গত ১৯ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে সরকারের এই সময়সূচির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয় নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বর থেকে ভোট আয়োজনের আলোচনা থাকলেও ইসি অক্টোবরের শেষ কিংবা নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার প্রভাব থাকায় ভোট আয়োজন কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগে আগস্ট মাসের কথা বলা হয়েছিল, পরে সেটি সেপ্টেম্বর হয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে বর্ষা থাকার কারণে দেশের অনেক এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা কঠিন হবে। মিঠামইন, বরিশাল কিংবা ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন বাস্তবসম্মত হবে না বলেই তিনি মনে করেন। তার মতে, নভেম্বরের আগে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং বছরের শেষ দিকেই ভোট আয়োজন বেশি বাস্তবসম্মত। আগামী এক বছরের মধ্যে পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলেও কোন নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচন আগে হবে সেটি বড় বিষয় নয়। আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে তার চেয়ে কীভাবে ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা যায়, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২১ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০ উপজেলা, ৬১ জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবে এই কাজে কমিশনের চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আশির দশকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বহু হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, হাসপাতাল আহত মানুষে ভরে যেত। তাই এবারের নির্বাচন সংঘাতমুক্ত করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়।

যেসব পরিবর্তন আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন প্রচারণা চালু হওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল, বিধিমালায় পরিবর্তন, দেশে ও দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণ না করা, ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে না দেওয়া, দলীয় প্রতীক বাতিল করে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজন, ইভিএম ব্যবহার না করা, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া, প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানো এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার পরিকল্পনা। এছাড়া সংসদ সদস্যরা যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়েও ভাবছে কমিশন। উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইভিএম এবং পোস্টাল ভোট—কোনোটিই থাকছে না। কমিশনের বৈঠকে আলোচিত বেশ কয়েকটি বিষয় প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ দলীয় প্রার্থী বা দলীয় প্রতীক থাকবে না এবং সবাই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন। এর ফলে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতাও থাকছে না। একই সঙ্গে ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগও বন্ধ করা হচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে জামানতের পরিমাণ কত হবে, তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের বসা নিয়ে কমিশন এখনও আলোচনা করছে। কারণ এটি বন্ধ করা হলে অনেক সংসদ সদস্য প্রশাসনিক সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরপিও অনুযায়ী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগীরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন না। সংসদ সদস্যরাও এই বিধানের আওতায় পড়েন। তারা কেবল ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দেওয়ার জন্য এলাকায় যাওয়া আইন অনুযায়ী বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সেনাবাহিনী মোতায়েনের আপাত পরিকল্পনা নেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের মতে, এটি একটি কৌশলগত নির্বাচন। সারা দেশে একদিনে ভোট না হওয়ায় প্রতিটি ধাপে নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তবে কোথাও বেশি সহিংসতা দেখা দিলে পরবর্তী ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে কমিশন আশা করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালার কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। ইসির পরিবর্তন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য এসব পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। ২০১৫ সালে সেটিকে দলীয় কাঠামোয় আনা হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও নির্দলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা উঠে আসে। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের শর্ত তুলে দেওয়াকে যৌক্তিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে ভোটারের গোপনীয়তা রক্ষা সহজ হবে, যদিও প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জামানত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা রাখতে পারে। পোস্টারবিহীন নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হলে সেনাবাহিনী ছাড়াও সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও মত তাদের। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নতুন কাঠামো ও নতুন বাস্তবতার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।      

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....