জেটিভি নিউজ বাংলা
২০ মে ২০২৬ ইং | বুধবার,সময় :সন্ধ্যা ০৭:৫৪ মিনিট।তিন বছরের মধ্যে অর্গানিক মাংস রফতানির পরিকল্পনা বাংলাদেশের: কৃষিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কোনও ধরনের জেনেটিক পরিবর্তন ছাড়াই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ঘাস খাইয়ে উৎপাদিত অর্গানিক মাংস আগামী তিন বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২০ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সেমিনারটির আয়োজন যৌথভাবে করে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এবং অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটি (সিএসইউ)। এতে অর্থায়ন করে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তার মতে, জেনেটিকালি মডিফায়েড খাদ্য প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি দিতে পারেনি। তিনি জানান, গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন নেপিয়ার ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত কার্যকর খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও খরা-সহিষ্ণু ঘাস উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে উন্নতমানের প্রাণিখাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। ফলে মাংস উৎপাদনের ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মাংসের দামও তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হতে পারে। গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের কল্যাণে স্বাধীন গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে এবং প্রাণিসম্পদ ও কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে মাংস উৎপাদনের খরচও কমবে এবং সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে মাংস কিনতে পারবে। তিনি গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রাণিখাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, স্বাধীন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করা জরুরি। যোগ্যতা, দক্ষতা এবং দেশপ্রেমকে যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে ‘এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল লো-কস্ট বিফ প্রোডাকশন: প্র্যাকটিক্যাল সলুশনস অ্যান্ড পার্টনারশিপ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার। প্রবন্ধে প্রাণিসম্পদ খাতে গ্রিনহাউস গ্যাস ও মিথেন নিঃসরণ কমানোর বিভিন্ন কার্যকর উপায় তুলে ধরা হয়। গবেষকদের মতে, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ ঘাস উৎপাদন বৃদ্ধি, বায়োগ্যাস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্বন ব্যালেন্সিং পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রাণিসম্পদ খাত গড়ে তোলা সম্ভব। বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএলআরআইয়ের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গুলবালি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ড. ক্যামেরন ক্লার্ক। সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, প্রাণিসম্পদ খাতের পেশাজীবী এবং খামারিরা অংশ নেন।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ডেস্ক রিপোর্ট 




















