জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,৩:৪১ পিএম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। জেলার মোট ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি আসনে—কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) ও কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর)—বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এতে ভোট বিভক্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার রাজনৈতিক সুফল পেতে পারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।
কিশোরগঞ্জ-১: বিএনপি বনাম বিদ্রোহী, সুবিধায় জামায়াত
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু, যিনি মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় রেজাউল করিম খান চুন্নুকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। অতীতে দুইবার এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এই নেতা এলাকায় পরিচিত মুখ। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে তার সমর্থকদের আন্দোলনের ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে তিনি ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যানজট নিরসনসহ নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, মাজহারুল ইসলাম বলেন, দলের ওপর আস্থা রেখে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। শুরুতে মতভেদ থাকলেও এখন দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, শেষ পর্যন্ত বিএনপি সমর্থকরা ধানের শীষকেই বেছে নেবেন।
এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই ১১ দলীয় জোটের পক্ষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হেদায়াতুল্লাহ হাদী রিকশা প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয়। তিনি জানান, আসনটি জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে দেওয়ায় সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এবং বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
কিশোরগঞ্জ-৫: স্থানীয় নেতৃত্ব বনাম কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত
হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি সম্প্রতি নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান, যা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
এই অসন্তোষের ফলেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সমর্থকদের চাপেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন এবং এলাকায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।
সৈয়দ এহসানুল হুদা স্বীকার করেন, শুরুতে কিছুটা বিভক্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাররা ধানের শীষকেই বেছে নেবেন বলে তিনি আশাবাদী।
এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আমির মো. রমজান আলী। তিনি নিকলী ও বাজিতপুরের হাওরাঞ্চল চষে বেড়িয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দ্বন্দ্বে নিজের ভোট ব্যাংক বাড়বে বলে প্রত্যাশা তার সমর্থকদের।
ভোট বিভক্তির শঙ্কা
ভোটারদের মতে, দুই আসনেই বিএনপির পুরনো ও পরিচিত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোট বিভক্তির ঝুঁকি স্পষ্ট। এতে বিএনপির মূল প্রার্থীরা চাপের মুখে পড়তে পারেন এবং জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট সুবিধা পেতে পারে।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৭ জন।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৭ জন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—কিশোরগঞ্জের এই দুই আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী, আর ফল নির্ধারণ করবে ভোট বিভক্তির অঙ্ক।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...