ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ডেস্ক রিপোর্ট | জেটিভি নিউজ বাংলা,ছবি সংগ ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৯:৩০ পিএম   ইরানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণবিক্ষোভের পেছনে একটি সুসংগঠিত ও ব্যাপক ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গবেষণায়। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কার ও হারেৎজ-এর যৌথ অনুসন্ধানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েল সরকারের পরোক্ষ অর্থায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে একটি গোপন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য—ইরানি জনগণের মধ্যে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন তৈরি করা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা। অনুসন্ধানে বলা হয়, এই নেটওয়ার্কটি নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে হামলার সময় এই চক্রটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইরানি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগেই হাজার হাজার ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিস্ফোরণের খবর, এআই-নির্মিত ‘ডিপফেক’ ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সাধারণ জনগণকে ব্যাংক লুট, কারাগার ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার মতো উগ্র ও সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ২০২৩ সালে রেজা পাহলভির ইসরায়েল সফর এই প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সফরকালে ইসরায়েলের বর্তমান বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে প্রকাশ্যে ‘ইরানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সিটিজেন ল্যাবের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই প্রচারণার সময়সূচির সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিস্ময়কর মিল লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের মতে, ইসরায়েল সরকার সরাসরি অথবা তাদের কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তবে গবেষক রাজ জিম্মত মনে করছেন, এই প্রকাশ্য বিদেশি হস্তক্ষেপ উল্টোভাবে ইরানের বর্তমান খামেনি সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির এই উসকানি ইরানি জনগণের মধ্যে অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে। যদিও রেজা পাহলভি বিদেশে বসে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছেন, তবুও বহু ইরানি তাকে তার পিতার দমন-পীড়নমূলক শাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখেন। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর এ ধরনের অনৈতিক ও গোপন ডিজিটাল প্রচারণা দীর্ঘমেয়াদে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় ০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ডেস্ক রিপোর্ট | জেটিভি নিউজ বাংলা,ছবি সংগ ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৯:৩০ পিএম   ইরানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণবিক্ষোভের পেছনে একটি সুসংগঠিত ও ব্যাপক ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গবেষণায়। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কার ও হারেৎজ-এর যৌথ অনুসন্ধানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েল সরকারের পরোক্ষ অর্থায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে একটি গোপন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য—ইরানি জনগণের মধ্যে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন তৈরি করা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা। অনুসন্ধানে বলা হয়, এই নেটওয়ার্কটি নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে হামলার সময় এই চক্রটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইরানি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগেই হাজার হাজার ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিস্ফোরণের খবর, এআই-নির্মিত ‘ডিপফেক’ ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সাধারণ জনগণকে ব্যাংক লুট, কারাগার ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার মতো উগ্র ও সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ২০২৩ সালে রেজা পাহলভির ইসরায়েল সফর এই প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সফরকালে ইসরায়েলের বর্তমান বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে প্রকাশ্যে ‘ইরানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সিটিজেন ল্যাবের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই প্রচারণার সময়সূচির সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিস্ময়কর মিল লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের মতে, ইসরায়েল সরকার সরাসরি অথবা তাদের কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তবে গবেষক রাজ জিম্মত মনে করছেন, এই প্রকাশ্য বিদেশি হস্তক্ষেপ উল্টোভাবে ইরানের বর্তমান খামেনি সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির এই উসকানি ইরানি জনগণের মধ্যে অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে। যদিও রেজা পাহলভি বিদেশে বসে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছেন, তবুও বহু ইরানি তাকে তার পিতার দমন-পীড়নমূলক শাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখেন। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর এ ধরনের অনৈতিক ও গোপন ডিজিটাল প্রচারণা দীর্ঘমেয়াদে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।