ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ডেস্ক রিপোর্ট | জেটিভি নিউজ বাংলা,ছবি সংগ ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৯:৩০ পিএম   ইরানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণবিক্ষোভের পেছনে একটি সুসংগঠিত ও ব্যাপক ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গবেষণায়। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কার ও হারেৎজ-এর যৌথ অনুসন্ধানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েল সরকারের পরোক্ষ অর্থায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে একটি গোপন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য—ইরানি জনগণের মধ্যে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন তৈরি করা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা। অনুসন্ধানে বলা হয়, এই নেটওয়ার্কটি নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে হামলার সময় এই চক্রটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইরানি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগেই হাজার হাজার ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিস্ফোরণের খবর, এআই-নির্মিত ‘ডিপফেক’ ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সাধারণ জনগণকে ব্যাংক লুট, কারাগার ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার মতো উগ্র ও সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ২০২৩ সালে রেজা পাহলভির ইসরায়েল সফর এই প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সফরকালে ইসরায়েলের বর্তমান বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে প্রকাশ্যে ‘ইরানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সিটিজেন ল্যাবের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই প্রচারণার সময়সূচির সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিস্ময়কর মিল লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের মতে, ইসরায়েল সরকার সরাসরি অথবা তাদের কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তবে গবেষক রাজ জিম্মত মনে করছেন, এই প্রকাশ্য বিদেশি হস্তক্ষেপ উল্টোভাবে ইরানের বর্তমান খামেনি সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির এই উসকানি ইরানি জনগণের মধ্যে অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে। যদিও রেজা পাহলভি বিদেশে বসে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছেন, তবুও বহু ইরানি তাকে তার পিতার দমন-পীড়নমূলক শাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখেন। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর এ ধরনের অনৈতিক ও গোপন ডিজিটাল প্রচারণা দীর্ঘমেয়াদে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় ০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ডেস্ক রিপোর্ট | জেটিভি নিউজ বাংলা,ছবি সংগ ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৯:৩০ পিএম   ইরানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণবিক্ষোভের পেছনে একটি সুসংগঠিত ও ব্যাপক ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গবেষণায়। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কার ও হারেৎজ-এর যৌথ অনুসন্ধানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েল সরকারের পরোক্ষ অর্থায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে একটি গোপন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য—ইরানি জনগণের মধ্যে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন তৈরি করা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা। অনুসন্ধানে বলা হয়, এই নেটওয়ার্কটি নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে হামলার সময় এই চক্রটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইরানি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগেই হাজার হাজার ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিস্ফোরণের খবর, এআই-নির্মিত ‘ডিপফেক’ ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সাধারণ জনগণকে ব্যাংক লুট, কারাগার ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার মতো উগ্র ও সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ২০২৩ সালে রেজা পাহলভির ইসরায়েল সফর এই প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সফরকালে ইসরায়েলের বর্তমান বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে প্রকাশ্যে ‘ইরানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সিটিজেন ল্যাবের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই প্রচারণার সময়সূচির সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিস্ময়কর মিল লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের মতে, ইসরায়েল সরকার সরাসরি অথবা তাদের কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তবে গবেষক রাজ জিম্মত মনে করছেন, এই প্রকাশ্য বিদেশি হস্তক্ষেপ উল্টোভাবে ইরানের বর্তমান খামেনি সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির এই উসকানি ইরানি জনগণের মধ্যে অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে। যদিও রেজা পাহলভি বিদেশে বসে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছেন, তবুও বহু ইরানি তাকে তার পিতার দমন-পীড়নমূলক শাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখেন। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর এ ধরনের অনৈতিক ও গোপন ডিজিটাল প্রচারণা দীর্ঘমেয়াদে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।