📰 জেটিভি নিউজ বাংলা | প্রিন্ট ভার্সন তারিখ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ডেস্ক রিপোর্ট
আওয়ামী লীগের করা প্রতিটি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে: মির্জা ফখরুল
নিজের জেলজীবনের অভিজ্ঞতা ও দলের কর্মীদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরে ইনসাফের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বানজেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক: ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে’— বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন একটি বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র আলোচনার ঝড়। তবে তিনি দাবি করেছেন, সারাদেশ নয়, কেবল নিজের এলাকার একটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে করা প্রতিহিংসামূলক মামলার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে ফখরুল লিখেছেন, “কথা নিয়ে অনেক রাজনীতি করা যায়, ফ্যাসিজমের সামনে দাঁড়িয়ে জেলে যেতে পারে না সবাই।” তিনি পোস্টে নিজের জেলজীবনের নানা স্মৃতি, শতাধিক মামলার আসামি হওয়া এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা লাখ লাখ মামলার কথা তুলে ধরেন।
জেলজীবনের স্মৃতি ও কষ্টের কথা
ফেসবুক পোস্টে তিনি একটি ব্যাগের ছবি শেয়ার করে লেখেন, “আমার মেয়ে যখন জেলে দেখা করতে এসেছিল, এই ব্যাগটা আমি ওকে দিয়েছিলাম। ব্যাগটা জেলের ভিতরে এক বন্দী বানিয়েছিল, আমি তার কাছ থেকে কিনেছিলাম। জানিনা, কাউকে কল্পনায় রেখে সে বানিয়েছিল কি না।” আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “গত পনেরো বছরে বাংলাদেশের জেলে লাখ লাখ কর্মী বন্দী ছিল মিথ্যা মামলায়। আমার নিজের জেলার হাজার ছেলের জীবন শেষ হয়ে গেছে জেলে। আমি নিজে ১১০টির বেশি মামলার আসামি ছিলাম। ময়লার গাড়ি পোড়ানো থেকে শুরু করে হত্যা মামলা—সবই মিথ্যা মামলা। আড়াই বছরের বেশি জেলে ছিলাম।” তিনি আরও বলেন, “জেলে দেখেছি, আমাদের ছেলেদের শরীরজুড়ে অত্যাচারের দাগ। অনেকের জীবন শেষ হয়ে গেছে জেলে। পড়াশোনা হয়নি, সংসার হয়নি। পরিবারগুলো সর্বস্বান্ত হয়েছে। যারা মাঠের রাজনীতি করে না, তারা এদের সংগ্রাম কখনও বুঝবে না।”বিএনপি মহাসচিব লিখেছেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের করা প্রতিটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। হাসিনার এবং তার মাফিয়া বাহিনীর প্রতিটি অপরাধের বিচার করতে হবে। আমরা প্রতিশোধে বিশ্বাসী নই; আমরা প্রকৃত অন্যায়কারীর বিরুদ্ধেই মামলা করবো এবং শাস্তি নিশ্চিত করবো।” তিনি আরও বলেন, “যে যেই অন্যায় করেনি, তাকে সেই অন্যায়ের জন্য হয়রানি কেন করা হবে? কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার নাম রাজনীতি নয়। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
মির্জা ফখরুলের পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার বক্তব্যকে “রাজনৈতিকভাবে সাহসী” বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন— “তিনি জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা দিয়েছেন।” বিএনপি সূত্র জানায়, ফখরুলের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল “মিথ্যা মামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে আইনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা”।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
“কথা নিয়ে অনেক রাজনীতি করা যায়, ফ্যাসিজমের সামনে দাঁড়িয়ে জেলে যেতে পারে না সবাই।” — মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সম্পাদনা: জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক

Reporter Name 




















