ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ :১৪ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় ১১:১৮ মিনিট।  

ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পানির স্তর

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের কারণে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি, অর্থাৎ ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও জনদুর্ভোগ

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত: হাজার হাজার পরিবারের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদিপশুসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি: হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে আমন ধানের বীজতলা, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এবং চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ও খাদ্য সংকট: বন্যাকবলিত এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং শুকনো খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
“বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। শুকনো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

ভাঙন আতঙ্ক

পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি তিস্তার অববাহিকাজুড়ে নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবল স্রোতের কারণে বেশ কয়েকটি এলাকায় সিসি ব্লক এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত কমে না গেলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জেটিভি নিউজ বাংলা সংবাদে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আপডেট সময় ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ :১৪ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় ১১:১৮ মিনিট।  

ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পানির স্তর

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের কারণে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি, অর্থাৎ ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও জনদুর্ভোগ

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত: হাজার হাজার পরিবারের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদিপশুসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি: হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে আমন ধানের বীজতলা, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এবং চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ও খাদ্য সংকট: বন্যাকবলিত এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং শুকনো খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
“বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। শুকনো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

ভাঙন আতঙ্ক

পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি তিস্তার অববাহিকাজুড়ে নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবল স্রোতের কারণে বেশ কয়েকটি এলাকায় সিসি ব্লক এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত কমে না গেলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জেটিভি নিউজ বাংলা সংবাদে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।