জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার ইং,সময়: বিকাল ০৫:০৩ মিনিট।ঋণের স্ট্যাম্প চুরি করতে গিয়ে আনোয়ারায় মা-মেয়েকে হত্যা, গ্রেফতার প্রধান আসামি
ঋণের এক লাখ ১৭ হাজার টাকার স্ট্যাম্প চুরি করতে গিয়ে আনোয়ারা উপজেলা-য় মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও নিহত এনি বড়ুয়ার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মাসুদ আলম। গ্রেফতার তেজু বড়ুয়া আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিহত এনি বড়ুয়ার চাচাতো দেবর এবং একই ইউনিয়নের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছর বয়সী আরেক শিশু আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যায়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের বারান্দা ও কক্ষ থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং স্থানীয়দের দেওয়া সূত্রের ভিত্তিতে রবিবার (১৪ জুন) রাতে পটিয়া এলাকা থেকে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, তেজু বড়ুয়ার সঙ্গে সুজন বড়ুয়ার আর্থিক লেনদেন ছিল। অটোরিকশা কেনার জন্য সুজনের কাছ থেকে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। এ ঋণের বিপরীতে স্ট্যাম্পে চুক্তি করা হয়েছিল এবং প্রতি মাসে সুদসহ কিস্তিতে টাকা পরিশোধের কথা ছিল। তবে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ঋণের টাকা পরিশোধ এড়াতে স্ট্যাম্প চুরির পরিকল্পনা করেন তেজু। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তিনি একটি ছুরি নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়ির পেছনে ওত পেতে থাকেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হলে তাকে দেখে চিৎকার করেন। এ সময় তেজু তাকে ছুরিকাঘাত করেন। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তী এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। পুলিশের দাবি, তেজুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীর বাড়ির পেছনের খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এনি বড়ুয়ার মোবাইল ফোন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সুজন বড়ুয়া আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় রিমন ওরফে তেজু বড়ুয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে....

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি 
























