ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখলেই নিরাপদ নয়, কতদিন ভালো থাকে জানুন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ ২৮ মে ২০২৬ ইং| সময় : বিকেল ৩:৫৯ মিনিট।  

কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখলেই নিরাপদ নয়, কতদিন ভালো থাকে জানুন

  কোরবানির ঈদে অনেক পরিবারের ফ্রিজ মাংসে ভরে যায়। এরপর সপ্তাহের পর সপ্তাহ, কখনও মাসের পর মাস সেই মাংস রান্না করে খাওয়া হয়। তবে শুধু ফ্রিজে রাখলেই মাংস নিরাপদ থাকবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল তাপমাত্রা, অনিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং বারবার গলিয়ে আবার জমিয়ে রাখার কারণে ভালো মাংসও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফ্রিজে কতদিন ভালো থাকে মাংস খাদ্য নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে কাঁচা গরু কিংবা খাসির মাংস সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। অন্যদিকে, ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলে মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, গরু বা খাসির মাংস ৪ থেকে ১২ মাস, কিমা করা মাংস ৩ থেকে ৪ মাস এবং রান্না করা মাংস ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত ফ্রিজে সাধারণত ভালো থাকে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে ধীরে ধীরে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান কমে যেতে পারে। কখন মাংস আর নিরাপদ থাকে না বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজে থাকলেই মাংস সবসময় নিরাপদ থাকে না। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সেই মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো। যেমন— টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ, পিচ্ছিল বা আঠালো অনুভূতি, রং কালচে, ধূসর বা সবুজাভ হয়ে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া বা বরফ জমে শক্ত হয়ে যাওয়া। তবে সবসময় নষ্ট মাংসে গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন দেখা যায় না। ভুল তাপমাত্রায় সংরক্ষণের ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে, যা খালি চোখে বোঝা সম্ভব নয়। গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে রাখা ঠিক নয় কোরবানির পর অনেকেই বড় পাত্রে গরম মাংস ভরে সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংস কিছুটা ঠান্ডা করে ছোট ছোট ভাগে আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করাই নিরাপদ। তবে দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় ফেলে রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার গলিয়ে আবার জমালে বাড়ে ঝুঁকি একবার ফ্রিজ থেকে বের করে পুরো মাংস গলানোর পর সেটি আবার জমিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কক্ষ তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় রেখে দিলে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু মাংস আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও কমে নিরাপত্তা ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকলে জমাট মাংস ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে অপ্রয়োজনে ফ্রিজ খোলা উচিত নয়। কী ধরনের অসুস্থতা হতে পারে ভুলভাবে সংরক্ষিত মাংস থেকে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। নিরাপদ রাখতে যা করবেন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী— ছোট ছোট ভাগে মাংস সংরক্ষণ করুন, এয়ারটাইট ব্যাগ বা ফুড গ্রেড কন্টেইনার ব্যবহার করুন, কাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখুন, প্যাকেটের গায়ে সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখুন, প্রয়োজন ছাড়া গলানো মাংস পুনরায় জমাবেন না এবং ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করা থেকে বিরত থাকুন।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখলেই নিরাপদ নয়, কতদিন ভালো থাকে জানুন

আপডেট সময় ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ ২৮ মে ২০২৬ ইং| সময় : বিকেল ৩:৫৯ মিনিট।  

কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখলেই নিরাপদ নয়, কতদিন ভালো থাকে জানুন

  কোরবানির ঈদে অনেক পরিবারের ফ্রিজ মাংসে ভরে যায়। এরপর সপ্তাহের পর সপ্তাহ, কখনও মাসের পর মাস সেই মাংস রান্না করে খাওয়া হয়। তবে শুধু ফ্রিজে রাখলেই মাংস নিরাপদ থাকবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল তাপমাত্রা, অনিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং বারবার গলিয়ে আবার জমিয়ে রাখার কারণে ভালো মাংসও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফ্রিজে কতদিন ভালো থাকে মাংস খাদ্য নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে কাঁচা গরু কিংবা খাসির মাংস সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। অন্যদিকে, ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলে মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, গরু বা খাসির মাংস ৪ থেকে ১২ মাস, কিমা করা মাংস ৩ থেকে ৪ মাস এবং রান্না করা মাংস ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত ফ্রিজে সাধারণত ভালো থাকে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে ধীরে ধীরে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান কমে যেতে পারে। কখন মাংস আর নিরাপদ থাকে না বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজে থাকলেই মাংস সবসময় নিরাপদ থাকে না। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সেই মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো। যেমন— টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ, পিচ্ছিল বা আঠালো অনুভূতি, রং কালচে, ধূসর বা সবুজাভ হয়ে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া বা বরফ জমে শক্ত হয়ে যাওয়া। তবে সবসময় নষ্ট মাংসে গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন দেখা যায় না। ভুল তাপমাত্রায় সংরক্ষণের ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে, যা খালি চোখে বোঝা সম্ভব নয়। গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে রাখা ঠিক নয় কোরবানির পর অনেকেই বড় পাত্রে গরম মাংস ভরে সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংস কিছুটা ঠান্ডা করে ছোট ছোট ভাগে আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করাই নিরাপদ। তবে দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় ফেলে রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার গলিয়ে আবার জমালে বাড়ে ঝুঁকি একবার ফ্রিজ থেকে বের করে পুরো মাংস গলানোর পর সেটি আবার জমিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কক্ষ তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় রেখে দিলে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু মাংস আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও কমে নিরাপত্তা ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকলে জমাট মাংস ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে অপ্রয়োজনে ফ্রিজ খোলা উচিত নয়। কী ধরনের অসুস্থতা হতে পারে ভুলভাবে সংরক্ষিত মাংস থেকে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। নিরাপদ রাখতে যা করবেন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী— ছোট ছোট ভাগে মাংস সংরক্ষণ করুন, এয়ারটাইট ব্যাগ বা ফুড গ্রেড কন্টেইনার ব্যবহার করুন, কাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখুন, প্যাকেটের গায়ে সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখুন, প্রয়োজন ছাড়া গলানো মাংস পুনরায় জমাবেন না এবং ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করা থেকে বিরত থাকুন।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....