ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

হকার কার্ড বিতর্কে উত্তপ্ত রাজধানী, উচ্ছেদ অভিযানেও ফিরল ফুটপাত দখলের পুরোনো চিত্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১০ মে ২০২৬, রবিবার সময়: ০৮:১৬ মিনিট।  

হকার কার্ড বিতর্কে উত্তপ্ত রাজধানী, উচ্ছেদ অভিযানেও ফিরল ফুটপাত দখলের পুরোনো চিত্র

  রাজধানী ঢাকা-এর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গত মাসে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং দুই সিটি করপোরেশন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় উচ্ছেদকৃত হকাররা আবারও ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসেছে। এতে যানজট ও জনভোগান্তি আগের মতোই ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর। হকার কার্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন হকারদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা “হকার কার্ড” চালু করেছে। ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি হকার এই কার্ড নিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসছেন। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া ফুটপাতে বসার অনুমতি দেওয়া নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত স্থান চিহ্নিত করে হকারদের বসার ব্যবস্থা করেছে ডিএসসিসি। সেখানে “হকার কার্ড” থাকলেই বসার সুযোগ মিলছে। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্ড পেতে হকারদের ২০–৩০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে এবং দৈনিক ২০০ টাকা চাঁদা দেওয়ার শর্ত মানতে হচ্ছে। অনেক হকারের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ছাড়া কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার জানান, আগে যেমন টাকা দিতে হতো, এখনো তেমনই দিতে হচ্ছে, শুধু এখন নিজেকে “বৈধ হকার” বলা যাচ্ছে। আরেক হকার সবুজ জানান, প্রায় ১২০০ জনের তালিকা করে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তার দাবি, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান— দুজনেই রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আলোচনা রয়েছে। এতে পুরো উদ্যোগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কার্যকর হয় না। তার মতে, হঠাৎ করে ফুটপাতে বসার অনুমতি দেওয়া নগর ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা বাড়াবে।

নগরবাসীর প্রতিক্রিয়া

উচ্ছেদের পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও গুলিস্তান, মতিঝিল ও মিরপুর এলাকায় আবারও হকারদের দখলে ফুটপাত চলে গেছে বলে অভিযোগ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, উচ্ছেদের পর যানজট কমলেও এখন আবার পরিস্থিতি আগের মতো হয়েছে। তিনি হকারদের জন্য নির্দিষ্ট বিকল্প জায়গা তৈরির দাবি জানান। শিক্ষক আজমল হোসেন এবং বংশালের বাসিন্দা সুরাইয়া বেগমও অভিযোগ করেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম বারবার “নাটক” হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং এতে জনগণের ভোগান্তি কমছে না। সিটি করপোরেশনের অবস্থান ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, স্বচ্ছতার জন্য কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল হকার কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হকার ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে, যা নগর শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, তালিকাভুক্ত ৮২৯ জন হকারের মধ্যে ২০২ জনকে ইতোমধ্যে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ধাপে ধাপে বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে।  

জেটিভি নিউজ বাংলা বিশেষ পর্যবেক্ষন

ফুটপাত দখল, হকার পুনর্বাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে রাজধানীর হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারও বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

   

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

হকার কার্ড বিতর্কে উত্তপ্ত রাজধানী, উচ্ছেদ অভিযানেও ফিরল ফুটপাত দখলের পুরোনো চিত্র

আপডেট সময় ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১০ মে ২০২৬, রবিবার সময়: ০৮:১৬ মিনিট।  

হকার কার্ড বিতর্কে উত্তপ্ত রাজধানী, উচ্ছেদ অভিযানেও ফিরল ফুটপাত দখলের পুরোনো চিত্র

  রাজধানী ঢাকা-এর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গত মাসে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং দুই সিটি করপোরেশন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় উচ্ছেদকৃত হকাররা আবারও ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসেছে। এতে যানজট ও জনভোগান্তি আগের মতোই ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর। হকার কার্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন হকারদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা “হকার কার্ড” চালু করেছে। ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি হকার এই কার্ড নিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসছেন। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া ফুটপাতে বসার অনুমতি দেওয়া নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত স্থান চিহ্নিত করে হকারদের বসার ব্যবস্থা করেছে ডিএসসিসি। সেখানে “হকার কার্ড” থাকলেই বসার সুযোগ মিলছে। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্ড পেতে হকারদের ২০–৩০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে এবং দৈনিক ২০০ টাকা চাঁদা দেওয়ার শর্ত মানতে হচ্ছে। অনেক হকারের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ছাড়া কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার জানান, আগে যেমন টাকা দিতে হতো, এখনো তেমনই দিতে হচ্ছে, শুধু এখন নিজেকে “বৈধ হকার” বলা যাচ্ছে। আরেক হকার সবুজ জানান, প্রায় ১২০০ জনের তালিকা করে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তার দাবি, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান— দুজনেই রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আলোচনা রয়েছে। এতে পুরো উদ্যোগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কার্যকর হয় না। তার মতে, হঠাৎ করে ফুটপাতে বসার অনুমতি দেওয়া নগর ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা বাড়াবে।

নগরবাসীর প্রতিক্রিয়া

উচ্ছেদের পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও গুলিস্তান, মতিঝিল ও মিরপুর এলাকায় আবারও হকারদের দখলে ফুটপাত চলে গেছে বলে অভিযোগ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, উচ্ছেদের পর যানজট কমলেও এখন আবার পরিস্থিতি আগের মতো হয়েছে। তিনি হকারদের জন্য নির্দিষ্ট বিকল্প জায়গা তৈরির দাবি জানান। শিক্ষক আজমল হোসেন এবং বংশালের বাসিন্দা সুরাইয়া বেগমও অভিযোগ করেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম বারবার “নাটক” হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং এতে জনগণের ভোগান্তি কমছে না। সিটি করপোরেশনের অবস্থান ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, স্বচ্ছতার জন্য কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল হকার কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হকার ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে, যা নগর শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, তালিকাভুক্ত ৮২৯ জন হকারের মধ্যে ২০২ জনকে ইতোমধ্যে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ধাপে ধাপে বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে।  

জেটিভি নিউজ বাংলা বিশেষ পর্যবেক্ষন

ফুটপাত দখল, হকার পুনর্বাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে রাজধানীর হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারও বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

   

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....