জেটিভি নিউজ বাংলা
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | রবিবার,সময় ১১:৪১ মিনিট।
পূর্ব লন্ডনের সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খান ২১টি যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত,
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খান (৫৪) আধ্যাত্মিক ক্ষমতার দোহাই ও ধর্মীয় পদের অপব্যবহার করে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। গত সপ্তাহে Snaresbrook Crown Court-এ দীর্ঘ শুনানি শেষে জুরি বোর্ড তাকে মোট ২১টি পৃথক যৌন অপরাধে দোষী ঘোষণা করে।
আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার ওল্ড ফোর্ড রোডের বাসিন্দা খান তার ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে এসব অপরাধ সংঘটিত করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে জানায়, তিনি নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে উপস্থাপন করতেন এবং দাবি করতেন যে তিনি ‘অশুভ শক্তি’ বা ‘কালো জাদু’ থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে পারেন। এই ভীতি ও ধর্মীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি অন্তত সাতজন ভুক্তভোগীকে টার্গেট করেন, যাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুও ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, খান ভুক্তভোগীদের নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে ‘জ্বিন দ্বারা আবিষ্ট’ বলে দাবি করে ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করতেন, যাতে তারা বিষয়টি প্রকাশ না করে।
ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন কনিষ্ঠতম এক ভুক্তভোগী সাহস করে তার স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। এরপর Metropolitan Police ‘অপারেশন স্পেয়ারব্যাঙ্ক’ নামে বিশেষ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে ৫০ জনেরও বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং ১০টি মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হালিম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এটি তার বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক ষড়যন্ত্র’। তবে আদালত তার এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামী ১৪ মে তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করা হবে বলে আদালত জানিয়েছে।
এই রায়ের পর স্থানীয় কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশু ও নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। এক ভুক্তভোগী আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, “এই অবিচার আমার জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তবে আজকের রায় প্রমাণ করেছে—অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানো হবে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....