ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

ভারতের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে

ভারতের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার সংখ্যালঘু ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর আখ্যান ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান ডেস্ক রিপোর্ট | জেটিভি নিউজ বাংলা ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, ৫:৫৬ পিএম। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্য বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। ভুল, অতিরঞ্জিত কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেকোনো আখ্যান বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন হিসেবে চিত্রিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে ভারতের বিভিন্ন অংশে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার জন্য এসব ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু মহলের সুস্পষ্ট ও অন্যায্য পক্ষপাতিত্বের কারণে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ, তার কূটনৈতিক মিশন এবং ভারতে অবস্থিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যাদের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তাদের একজন ছিলেন তালিকাভুক্ত অপরাধী। চাঁদাবাজির সময় তার মুসলমান সহযোগীর সঙ্গে জড়িত অবস্থায় ওই ব্যক্তির দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু ঘটে। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও সত্যবর্জিত। বাংলাদেশ সরকার সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে—এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও আখ্যান ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য ভারতের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, পুলিশের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আলোচিত ঘটনাটি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির ফল। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এলাকায় উপস্থিত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তিনি প্রাণ হারান। সম্রাটের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দায়ের করা হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি ছিল। পুলিশের বরাতে সরকার জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার কঠোর নিন্দা জানিয়ে স্পষ্টভাবে জানায়, আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করে না। ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে। একইসঙ্গে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, একটি মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। বিবৃতিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

ভারতের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার

আপডেট সময় ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার সংখ্যালঘু ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর আখ্যান ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান ডেস্ক রিপোর্ট | জেটিভি নিউজ বাংলা ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, ৫:৫৬ পিএম। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্য বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। ভুল, অতিরঞ্জিত কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেকোনো আখ্যান বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন হিসেবে চিত্রিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে ভারতের বিভিন্ন অংশে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার জন্য এসব ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু মহলের সুস্পষ্ট ও অন্যায্য পক্ষপাতিত্বের কারণে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ, তার কূটনৈতিক মিশন এবং ভারতে অবস্থিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যাদের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তাদের একজন ছিলেন তালিকাভুক্ত অপরাধী। চাঁদাবাজির সময় তার মুসলমান সহযোগীর সঙ্গে জড়িত অবস্থায় ওই ব্যক্তির দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু ঘটে। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও সত্যবর্জিত। বাংলাদেশ সরকার সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে—এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও আখ্যান ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য ভারতের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, পুলিশের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আলোচিত ঘটনাটি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির ফল। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এলাকায় উপস্থিত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তিনি প্রাণ হারান। সম্রাটের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দায়ের করা হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি ছিল। পুলিশের বরাতে সরকার জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার কঠোর নিন্দা জানিয়ে স্পষ্টভাবে জানায়, আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করে না। ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে। একইসঙ্গে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, একটি মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। বিবৃতিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।