ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

শেখ হাসিনা পলাতক—আইনজীবীও এলেন দেরিতে; ট্রাইব্যুনালের কড়া প্রতিক্রিয়া

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা, নিজস্ব প্রতিবেদক 


শেখ হাসিনা পলাতক—আইনজীবীও এলেন দেরিতে; ট্রাইব্যুনালের কড়া প্রতিক্রিয়া   বিরোধী মতাদর্শের নাগরিকদের গুম-নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি শুরু হয়। শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও শেখ হাসিনার পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী জেডআই খান পান্না আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাকে ফোন করে তলব করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রায় ১০ মিনিট পর অন্যান্য আইনজীবীদের সহায়তায় হুইলচেয়ারে করে হাজির হন তিনি। তার উপস্থিতির পর রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য থামিয়ে পান্নার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আপনার ক্লায়েন্ট হাজির নন, আপনিও আসেননি। আপনি নিজেই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন স্টেট ডিফেন্স হিসেবে দাঁড়াতে। উপস্থিত না হলে ট্রাইব্যুনালে এসে জানানোর কথা ছিল।” জবাবে জেডআই খান পান্না জানান, তিনি অসুস্থতার কারণে আদালতে আসতে পারেননি এবং এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাইব্যুনালকে অস্বীকার করার মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলে। পান্না সেখানে বলেছিলেন—তার ক্লায়েন্ট এই আদালত মানেন না, তাই তিনিও মানেন না। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে পান্না নিঃশর্ত ক্ষমা (Unconditional Apology) প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল তাকে জিজ্ঞেস করে—এ মামলায় তিনি দায়িত্ব পালন করবেন কি না। পান্না পুনরায় ‘না’ জবাব দিলে আদালত নতুন স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। পান্না কোনো প্রস্তাব না দেওয়ায় ট্রাইব্যুনাল মো. আমির হোসেনকে শেখ হাসিনার পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি পূর্বেও একই মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে লড়েছেন।

গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ ১০ সেনা কর্মকর্তাকে। তারা হলেন— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

পলাতক ৭ আসামি

পলাতক আসামির মধ্যে আছেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, সাবেক র‌্যাব ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলাম। আদালত শিগগিরই পরবর্তী শুনানির তারিখ ঘোষণা করবে।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

শেখ হাসিনা পলাতক—আইনজীবীও এলেন দেরিতে; ট্রাইব্যুনালের কড়া প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জেটিভি নিউজ বাংলা, নিজস্ব প্রতিবেদক 


শেখ হাসিনা পলাতক—আইনজীবীও এলেন দেরিতে; ট্রাইব্যুনালের কড়া প্রতিক্রিয়া   বিরোধী মতাদর্শের নাগরিকদের গুম-নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি শুরু হয়। শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও শেখ হাসিনার পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী জেডআই খান পান্না আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাকে ফোন করে তলব করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রায় ১০ মিনিট পর অন্যান্য আইনজীবীদের সহায়তায় হুইলচেয়ারে করে হাজির হন তিনি। তার উপস্থিতির পর রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য থামিয়ে পান্নার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আপনার ক্লায়েন্ট হাজির নন, আপনিও আসেননি। আপনি নিজেই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন স্টেট ডিফেন্স হিসেবে দাঁড়াতে। উপস্থিত না হলে ট্রাইব্যুনালে এসে জানানোর কথা ছিল।” জবাবে জেডআই খান পান্না জানান, তিনি অসুস্থতার কারণে আদালতে আসতে পারেননি এবং এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাইব্যুনালকে অস্বীকার করার মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলে। পান্না সেখানে বলেছিলেন—তার ক্লায়েন্ট এই আদালত মানেন না, তাই তিনিও মানেন না। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে পান্না নিঃশর্ত ক্ষমা (Unconditional Apology) প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল তাকে জিজ্ঞেস করে—এ মামলায় তিনি দায়িত্ব পালন করবেন কি না। পান্না পুনরায় ‘না’ জবাব দিলে আদালত নতুন স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। পান্না কোনো প্রস্তাব না দেওয়ায় ট্রাইব্যুনাল মো. আমির হোসেনকে শেখ হাসিনার পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি পূর্বেও একই মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে লড়েছেন।

গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ ১০ সেনা কর্মকর্তাকে। তারা হলেন— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

পলাতক ৭ আসামি

পলাতক আসামির মধ্যে আছেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, সাবেক র‌্যাব ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলাম। আদালত শিগগিরই পরবর্তী শুনানির তারিখ ঘোষণা করবে।