ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
করোনা থেকে জুলাই আন্দোলন: ছয় বছরের শিখন ঘাটতিতে সংকটে শিক্ষা, কোচিং নির্ভরতা বেড়েছে; ২০২৭ সালের পরীক্ষা এগিয়ে আনার উদ্যোগ প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই

বৃক্ষসেবার আড়ালে ‘পার্ক দখল’ — গুলশানের তাজউদ্দিন পার্কে শিশুদের খেলার অধিকার সংকুচিত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

 

বৃক্ষসেবার আড়ালে ‘পার্ক দখল’ — গুলশানের তাজউদ্দিন পার্কে শিশুদের খেলার অধিকার সংকুচিত

স্টাফ রিপোর্টার | জেটিভি নিউজ বাংলা রাজধানীর গুলশানের শহীদ তাজউদ্দিন পার্ক ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। একসময় শিশু-কিশোরদের দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা ও পরিবার নিয়ে হাঁটাচলার মুক্ত পরিবেশ থাকলেও এখন সেই সুযোগ সংকুচিত। অভিযোগ—পার্কের মাঠে নির্মিত ফুটবল টার্ফে ঘণ্টায় ৮ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও খেলার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ‘ইজারা’

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও গ্রিন সেভারর্স নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে পার্কের অংশ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। যেখানে ২০০০ সালের সংরক্ষণ আইনে স্পষ্ট বলা আছে—কোনো পার্ক, উদ্যান, জলাধার বা খেলার মাঠ ইজারা, ভাড়া বা হস্তান্তর করা যাবে না। এছাড়া ১৯৯৫, ২০০৯ ও ২০১৩ সালের হাইকোর্টের রায়েও পার্ক–মাঠে বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সেই রায় অমান্য করেই স্থাপনা, অফিস, টার্ফ ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগে মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু এখন প্রবেশ করতে হলে ক্লাবের অনুমতি নিতে হয়, বাইরে থেকে আসা কেউ খেললে ঘণ্টাভিত্তিক টাকা দিতে হচ্ছে। আলমগীর হোসেন নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন— “এটা জনগণের মাঠ। এখানে কোনো ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা চলতে পারে না। অথচ এখন বাইরে থেকে খেলতে এলে ঘণ্টায় টাকা দিতে হয়।” নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, ‘বৃক্ষসেবা ও ছাদবাগান’ কেন্দ্র স্থাপনের নামে পার্কে নতুন অস্থায়ী স্থাপনা তৈরির অনুমতি দিয়েছে ডিএনসিসি—যা বেআইনি।

নাগরিকদের দাবি—পার্ক সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হোক

‘মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলন’-এর সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন— “টার্ফটি পুরোপুরি অবৈধ। প্রতি ঘণ্টায় আট হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ এটি জনগণের মাঠ।” তিনি আরও জানান, ইউথ ক্লাবের মাধ্যমে ইজারার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। শিগগিরই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিআইপি সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন— “এটা জনগণের সম্পত্তি। কাউকে ভাড়া দেওয়া আইনত অপরাধ। সিটি করপোরেশন জনগণের জায়গা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে পারে না।” তিনি আরও বলেন— “একটি গণঅভ্যুত্থানের পরেও করপোরেশনের মানসিকতা বদলায়নি। শিশুদের খেলার অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।”

এ বিষয়ে ডিএনসিসির পরিবেশ ও জলবায়ু সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন— “এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।” ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনগণের দাবি

  • পার্কের সব অবৈধ চুক্তি বাতিল
  • স্থাপনা অপসারণ
  • টার্ফ–কেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ
  • তাজউদ্দিন পার্ক শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত ঘোষণা
নাগরিকদের প্রশ্ন—যেখানে খেলার মাঠ শিশুদের মৌলিক অধিকার, সেখানে পার্ক দখল ও বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধে কর্তৃপক্ষ কেন নিরব?

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

করোনা থেকে জুলাই আন্দোলন: ছয় বছরের শিখন ঘাটতিতে সংকটে শিক্ষা, কোচিং নির্ভরতা বেড়েছে; ২০২৭ সালের পরীক্ষা এগিয়ে আনার উদ্যোগ

বৃক্ষসেবার আড়ালে ‘পার্ক দখল’ — গুলশানের তাজউদ্দিন পার্কে শিশুদের খেলার অধিকার সংকুচিত

আপডেট সময় ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
 

বৃক্ষসেবার আড়ালে ‘পার্ক দখল’ — গুলশানের তাজউদ্দিন পার্কে শিশুদের খেলার অধিকার সংকুচিত

স্টাফ রিপোর্টার | জেটিভি নিউজ বাংলা রাজধানীর গুলশানের শহীদ তাজউদ্দিন পার্ক ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। একসময় শিশু-কিশোরদের দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা ও পরিবার নিয়ে হাঁটাচলার মুক্ত পরিবেশ থাকলেও এখন সেই সুযোগ সংকুচিত। অভিযোগ—পার্কের মাঠে নির্মিত ফুটবল টার্ফে ঘণ্টায় ৮ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও খেলার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ‘ইজারা’

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও গ্রিন সেভারর্স নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে পার্কের অংশ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। যেখানে ২০০০ সালের সংরক্ষণ আইনে স্পষ্ট বলা আছে—কোনো পার্ক, উদ্যান, জলাধার বা খেলার মাঠ ইজারা, ভাড়া বা হস্তান্তর করা যাবে না। এছাড়া ১৯৯৫, ২০০৯ ও ২০১৩ সালের হাইকোর্টের রায়েও পার্ক–মাঠে বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সেই রায় অমান্য করেই স্থাপনা, অফিস, টার্ফ ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগে মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু এখন প্রবেশ করতে হলে ক্লাবের অনুমতি নিতে হয়, বাইরে থেকে আসা কেউ খেললে ঘণ্টাভিত্তিক টাকা দিতে হচ্ছে। আলমগীর হোসেন নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন— “এটা জনগণের মাঠ। এখানে কোনো ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা চলতে পারে না। অথচ এখন বাইরে থেকে খেলতে এলে ঘণ্টায় টাকা দিতে হয়।” নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, ‘বৃক্ষসেবা ও ছাদবাগান’ কেন্দ্র স্থাপনের নামে পার্কে নতুন অস্থায়ী স্থাপনা তৈরির অনুমতি দিয়েছে ডিএনসিসি—যা বেআইনি।

নাগরিকদের দাবি—পার্ক সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হোক

‘মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলন’-এর সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন— “টার্ফটি পুরোপুরি অবৈধ। প্রতি ঘণ্টায় আট হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ এটি জনগণের মাঠ।” তিনি আরও জানান, ইউথ ক্লাবের মাধ্যমে ইজারার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। শিগগিরই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিআইপি সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন— “এটা জনগণের সম্পত্তি। কাউকে ভাড়া দেওয়া আইনত অপরাধ। সিটি করপোরেশন জনগণের জায়গা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে পারে না।” তিনি আরও বলেন— “একটি গণঅভ্যুত্থানের পরেও করপোরেশনের মানসিকতা বদলায়নি। শিশুদের খেলার অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।”

এ বিষয়ে ডিএনসিসির পরিবেশ ও জলবায়ু সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন— “এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।” ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনগণের দাবি

  • পার্কের সব অবৈধ চুক্তি বাতিল
  • স্থাপনা অপসারণ
  • টার্ফ–কেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ
  • তাজউদ্দিন পার্ক শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত ঘোষণা
নাগরিকদের প্রশ্ন—যেখানে খেলার মাঠ শিশুদের মৌলিক অধিকার, সেখানে পার্ক দখল ও বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধে কর্তৃপক্ষ কেন নিরব?