ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আগামী নির্বাচনের জন্য নতুন ভোটার হওয়ার সময়সীমা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ালো ইসি জুলাই-আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কা, সতর্ক করল বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক সংরক্ষিত নারী এমপি আশিকা সুলতানা কারাগারে ঢাকায় বিশেষ অভিযানে ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, জব্দ প্রাইভেটকার তিন বছরেও চালু হয়নি কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা, ২৯ বছরের জন্য ইজারা দিচ্ছে সরকার ২০২৮ সালেই আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে শুরু হচ্ছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেশজুড়ে চালু ‘বাংলা কিউআর’: এক কিউআরেই সব ব্যাংক, বিকাশ, নগদ ও এমএফএস থেকে পেমেন্ট, ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন যুগের সূচনা আবারও বদলালো পুলিশের ইউনিফর্ম, ফিরলো গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্ট চবি শাহজালাল হলে ছাত্রদল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ২; প্রক্টরিয়াল বডি ও সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ ফেনীর মহিপালে জুলাই আন্দোলনের চার হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে শোন অ্যারেস্ট, শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তাদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ

জুলাই-আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কা, সতর্ক করল বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০৩ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়: শুক্রবার বেলা ১২:০০ মিনিট।ছবি সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কা, সতর্ক করল বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানান, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাস সব সময়ই বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায়ই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, এ কারণেই চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের এই মধ্যবর্তী সময়েই দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির ফলে দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল। একইভাবে, ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক বন্যা জুলাই ও আগস্টজুড়ে দুই মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত বা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২০০৪ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। এ ছাড়া, ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি এসব ঘটনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে। সারদার উদয় রায়হান জানান, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। দেশের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। তিনি আরও জানান, অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগামী কয়েক দিন মেঘনা নদী অববাহিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। এফএফডব্লিউসির এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কমেছে। তবে আগামী চার দিনে পানির স্তর আবার বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। সূত্র: বাসস

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী নির্বাচনের জন্য নতুন ভোটার হওয়ার সময়সীমা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ালো ইসি

জুলাই-আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কা, সতর্ক করল বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র

আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০৩ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়: শুক্রবার বেলা ১২:০০ মিনিট।ছবি সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কা, সতর্ক করল বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানান, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাস সব সময়ই বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায়ই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, এ কারণেই চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের এই মধ্যবর্তী সময়েই দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির ফলে দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল। একইভাবে, ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক বন্যা জুলাই ও আগস্টজুড়ে দুই মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত বা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২০০৪ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। এ ছাড়া, ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি এসব ঘটনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে। সারদার উদয় রায়হান জানান, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। দেশের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। তিনি আরও জানান, অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগামী কয়েক দিন মেঘনা নদী অববাহিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। এফএফডব্লিউসির এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কমেছে। তবে আগামী চার দিনে পানির স্তর আবার বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। সূত্র: বাসস

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....