জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২৭ জুন ২০২৬ ইং,সময়: রাত ০২:৫৪ মিনিট।রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার
রাজশাহীতে অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাংগো লাভার’-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা কার্যালয়ের ক্যাশ বাক্স থেকে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর পারিবারিক বিরোধ কাজ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ পারভেজ শুভর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মুরাদ পারভেজ। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মাসুদ পারভেজ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত ম্যাংগো লাভারের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি একটি ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত। এর মালিক মুরাদ পারভেজের বাড়ি নওহাটা পৌর এলাকার পাইকপাড়া মহল্লায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আশিকের সঙ্গে তার বড় ভাই রাসেলের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়ি নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ইকুঁড়ি এলাকায়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সেখানে যান প্রতিবেশী মাসুদ পারভেজ শুভ। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরেই পরে আশিক তার লোকজন নিয়ে ম্যাংগো লাভারের কার্যালয়ে যান। এ বিষয়ে মাসুদ পারভেজ শুভ বলেন, কলেজ মোড় এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন পুনরায় জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। ভবনের নিচতলায় ওয়ালটনের একটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। দ্বিতীয় তলা ফাঁকা এবং তৃতীয় তলায় ভবনের মালিক ও ওয়ালটন বিক্রয়কেন্দ্রের স্বত্বাধিকারী আলী ইমাম জুয়েল বসবাস করেন। মাসুদ পারভেজের দাবি, তিনি ভবনের নিচের গেটে অবস্থান করে লোকজনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি কাউকে ওপরে উঠতে দেননি এবং নিজেও ওপরে যাননি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই তার বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ভবনের নৈশপ্রহরী কাজী হাতেম (৩২) ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার দাবি, ঘটনার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ভবনের ওপরে উঠে হামলা ও মারধর চালায়। তাদের মধ্যে মাসুদ পারভেজ শুভকেও তিনি দেখেছেন। হামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী সাকিব (২৪) ও তানিম (২৮) আহত হন। তাদের বাড়ি পবা উপজেলার বায়া এলাকায়। রাতেই তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, আহত সাকিবের বাঁ হাঁটুতে ফোলা রয়েছে এবং তিনি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। তানিমের মুখের বাঁ পাশে ফোলা ও মাথায় হালকা আঘাত রয়েছে। তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। দুইজনের কারও আঘাত গুরুতর নয় এবং তারা শঙ্কামুক্ত। দ্রুতই তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তানিম জানান, অফিস ছুটির সময় তিনি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন দৌড়ে এসে তাকে ধরে ফেলেন। তাদের হাতে লাঠি, চাকুসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল। হামলাকারীরা জোরপূর্বক ভবনের ওপরে উঠে যায়। বাধা দিতে গেলে সিঁড়িতেই তাকে মারধর করা হয়। পরে তারা অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ম্যাংগো লাভারের স্বত্বাধিকারী মুরাদ পারভেজ অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স থেকে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়েছে। ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলাকারী কার্যালয়ে উঠে তাণ্ডব চালায় এবং তার দুই কর্মচারীকে আহত করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি নিজে সরে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। মুরাদ পারভেজ আরও জানান, হামলাকারীদের ধস্তাধস্তির সময় তার ব্যবহৃত তিনটি ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ পারভেজ শুভ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এসব কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এজাহারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করবেন। মুরাদ পারভেজ বলেন, "অনলাইনে আম বিক্রি করেই আমার জীবিকা নির্বাহ হয়। হামলাকারীরা আমার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।" এরই মধ্যে তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ঘটনার পর পবা থানার টহল দলের উপপরিদর্শক (এসআই) আসিব নাসিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সেখানে দুটি ল্যাপটপ তারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। একটি টি-টেবিল ভেঙে যাওয়ায় কাচের টুকরা ছড়িয়ে ছিল। তার প্রাথমিক ধারণা, ধস্তাধস্তি ও মারামারির সময় এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর চালানোর উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে বলে তাৎক্ষণিকভাবে তার মনে হয়নি। তিনি আরও জানান, ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভবনের মালিক জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত হয়নি। এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে....

রাজশাহী প্রতিনিধি 






















