ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ইং,সময়: সকাল ০৭:৩৫ মিনিট

দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ এবং মন্থর বিনিয়োগ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা বিএনপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেটটি উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার এই বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরির বাজেট হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেটের আকার যতটা বড়, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও ততটাই কঠিন।

বাজেটের আকারে বড় লাফ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বাজেট বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা (প্রায় ১৯ শতাংশ)। মূল্যস্ফীতি, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণে বাজেট সাধারণত বাড়ে। তবে বিনিয়োগ স্থবিরতা ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের মধ্যে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ রাজস্ব লক্ষ্য আগামী বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে— জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে: ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নন-এনবিআর উৎস: ২৫ হাজার কোটি টাকা করবহির্ভূত রাজস্ব: ৬৬ হাজার কোটি টাকা গত কয়েক বছর ধরে এনবিআর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবারও লক্ষ্য অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। রেকর্ড ঘাটতির বাজেট আগামী বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় ঘাটতি। ঘাটতি পূরণে পরিকল্পনা হলো— ব্যাংক ঋণ: ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত উৎস: ১৫ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা: ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়ে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সুদ পরিশোধে বড় চাপ আগামী অর্থবছরে সুদ ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, তবে প্রকৃত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যেখানে সুদ ব্যয় ছিল প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা, তা কয়েক বছরে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে বরাদ্দে চাপ তৈরি হচ্ছে। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি গত এক দশকে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে নেওয়া ঋণের কারণে এখন কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ সরকার মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবহন ব্যয় এবং দেশীয় জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের কারণে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে খাদ্য ও উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বনাম বাস্তবতা বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো, যেমন বিশ্বব্যাংক, তুলনামূলকভাবে ৫ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে। বিনিয়োগ স্থবিরতা ও উচ্চ সুদের হার এ লক্ষ্য অর্জনকে কঠিন করে তুলতে পারে। তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে— সরকারি অর্থায়ন: ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক অর্থায়ন: ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা অগ্রাধিকার খাত: পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা। সামাজিক সুরক্ষায় বড় সম্প্রসারণ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা ইত্যাদি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগ শিক্ষা খাত: ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা স্বাস্থ্য খাত: ৪৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এই বরাদ্দ বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য। কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়লেও অংশ কমছে কৃষি খাতে বরাদ্দ: ২৮ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা (বৃদ্ধি ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা) তবে মোট বাজেটে অংশ কমে দাঁড়াচ্ছে ৩.০৭ শতাংশ, যা আগে ছিল ৩.৪৫ শতাংশ। কৃষি অর্থনীতিবিদরা এ প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।

কালোটাকা বৈধ করার নতুন সুযোগ

আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন কেনাবেচায় দলিলমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ঘোষণা করে কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যাবে। সমালোচকদের মতে এটি কর ন্যায্যতার পরিপন্থী হলেও সরকার বলছে এতে অর্থনীতি আনুষ্ঠানিক খাতে আসবে। সৃজনশীল অর্থনীতিতে নতুন ফোকাস এই বাজেটে প্রথমবারের মতো ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, সাংস্কৃতিক শিল্প, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া ও উদ্ভাবন খাতে বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনা রয়েছে। এক ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং সংস্কার, রাজস্ব প্রশাসন আধুনিকীকরণ ও ব্যবসা সহজীকরণ ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে বিশ্লেষকদের মত।

সার্বিক বিশ্লেষণ

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একদিকে উচ্চাভিলাষী, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ। সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও— রেকর্ড ঘাটতি ঋণনির্ভরতা সুদ ব্যয়ের চাপ দুর্বল রাজস্ব আহরণ বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে আকারের ওপর নয়, বরং রাজস্ব আদায়, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার

আপডেট সময় ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ইং,সময়: সকাল ০৭:৩৫ মিনিট

দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ এবং মন্থর বিনিয়োগ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা বিএনপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেটটি উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার এই বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরির বাজেট হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেটের আকার যতটা বড়, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও ততটাই কঠিন।

বাজেটের আকারে বড় লাফ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বাজেট বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা (প্রায় ১৯ শতাংশ)। মূল্যস্ফীতি, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণে বাজেট সাধারণত বাড়ে। তবে বিনিয়োগ স্থবিরতা ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের মধ্যে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ রাজস্ব লক্ষ্য আগামী বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে— জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে: ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নন-এনবিআর উৎস: ২৫ হাজার কোটি টাকা করবহির্ভূত রাজস্ব: ৬৬ হাজার কোটি টাকা গত কয়েক বছর ধরে এনবিআর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবারও লক্ষ্য অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। রেকর্ড ঘাটতির বাজেট আগামী বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় ঘাটতি। ঘাটতি পূরণে পরিকল্পনা হলো— ব্যাংক ঋণ: ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত উৎস: ১৫ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা: ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়ে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সুদ পরিশোধে বড় চাপ আগামী অর্থবছরে সুদ ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, তবে প্রকৃত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যেখানে সুদ ব্যয় ছিল প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা, তা কয়েক বছরে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে বরাদ্দে চাপ তৈরি হচ্ছে। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি গত এক দশকে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে নেওয়া ঋণের কারণে এখন কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ সরকার মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবহন ব্যয় এবং দেশীয় জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের কারণে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে খাদ্য ও উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বনাম বাস্তবতা বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো, যেমন বিশ্বব্যাংক, তুলনামূলকভাবে ৫ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে। বিনিয়োগ স্থবিরতা ও উচ্চ সুদের হার এ লক্ষ্য অর্জনকে কঠিন করে তুলতে পারে। তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে— সরকারি অর্থায়ন: ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক অর্থায়ন: ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা অগ্রাধিকার খাত: পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা। সামাজিক সুরক্ষায় বড় সম্প্রসারণ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা ইত্যাদি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগ শিক্ষা খাত: ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা স্বাস্থ্য খাত: ৪৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এই বরাদ্দ বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য। কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়লেও অংশ কমছে কৃষি খাতে বরাদ্দ: ২৮ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা (বৃদ্ধি ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা) তবে মোট বাজেটে অংশ কমে দাঁড়াচ্ছে ৩.০৭ শতাংশ, যা আগে ছিল ৩.৪৫ শতাংশ। কৃষি অর্থনীতিবিদরা এ প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।

কালোটাকা বৈধ করার নতুন সুযোগ

আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন কেনাবেচায় দলিলমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ঘোষণা করে কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যাবে। সমালোচকদের মতে এটি কর ন্যায্যতার পরিপন্থী হলেও সরকার বলছে এতে অর্থনীতি আনুষ্ঠানিক খাতে আসবে। সৃজনশীল অর্থনীতিতে নতুন ফোকাস এই বাজেটে প্রথমবারের মতো ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, সাংস্কৃতিক শিল্প, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া ও উদ্ভাবন খাতে বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনা রয়েছে। এক ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং সংস্কার, রাজস্ব প্রশাসন আধুনিকীকরণ ও ব্যবসা সহজীকরণ ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে বিশ্লেষকদের মত।

সার্বিক বিশ্লেষণ

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একদিকে উচ্চাভিলাষী, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ। সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও— রেকর্ড ঘাটতি ঋণনির্ভরতা সুদ ব্যয়ের চাপ দুর্বল রাজস্ব আহরণ বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে আকারের ওপর নয়, বরং রাজস্ব আদায়, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....