জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ৪ জুন ২০২৬ ইং,সময়: দুপুর ০৩:৪০ মিনিট।ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস
ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধকে ঘিরে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন আইনপ্রণেতাও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। প্রতিনিধি পরিষদে ২১৫-২০৮ ভোটে যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখা কিংবা নতুন কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে এবং এর বাস্তব আইনি কার্যকারিতা কতটা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে হোয়াইট হাউস এই উদ্যোগকে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব করার একটি ‘অসাংবিধানিক প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর যৌক্তিকতা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারপরও প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাব পাস হওয়াকে হোয়াইট হাউসের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং যুদ্ধবিরোধী জনমত ও বিক্ষোভও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদে এটি ছিল চতুর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে গত মে মাসে সিনেটেও অনুরূপ একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল, যদিও সেখানে এখনও পূর্ণাঙ্গ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়নি। বুধবার পাস হওয়া এই যৌথ প্রস্তাবটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেটেও অনুমোদন পেলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। তবে পরবর্তীতে এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটাভুটিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সঙ্গে রিপাবলিকান সদস্য টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি অতীতে এ ধরনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, এবার সমর্থন জানান। মিশিগানের রিপাবলিকান সদস্য টম ব্যারেট বলেন, “যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক অধিকার শুধুমাত্র কংগ্রেসের এবং আমাদের অবশ্যই সেই ক্ষমতা সংরক্ষণ করতে হবে।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আমার বিবেকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোট দিয়েছি। আমি যা সঠিক মনে করেছি সেটিই করেছি এবং এর যেকোনো পরিণতি মেনে নিতে প্রস্তুত।” হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই ভোটকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবৈধ ও ব্যয়বহুল ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দ্বিদলীয় বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং তিনি দেশে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল করে তুলেছেন।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সূত্র: বিবিসিজেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ডেস্ক রিপোর্ট 



















