ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

সৌরবিদ্যুতে বড় কর সুবিধা দিচ্ছে সরকার, উৎপাদন ও ব্যবহারে মিলবে কর অব্যাহতি ও রেয়াত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০২ জুন ২০২৬ ইং| সময়: মঙ্গলবার, দুপুর ০২:৪৮ মিনিট। 

সৌরবিদ্যুতে বড় কর সুবিধা দিচ্ছে সরকার, উৎপাদন ও ব্যবহারে মিলবে কর অব্যাহতি ও রেয়াত

নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের কর সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আয়ের ওপর কর অব্যাহতি এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানকে কর রেয়াত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবসায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানায়, কর অব্যাহতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে আয়কর আইন-২০২৩ এর আওতায় নির্ধারিত সব বিধান অনুসরণ করতে হবে। কর সুবিধা পেতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পাদিত নির্দিষ্ট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা পিপিএ অনুযায়ী সরবরাহ করতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকলে তা নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনাও থাকতে পারে। আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কেটে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বিশেষ কর রেয়াত ঘোষণা করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তাদের মোট ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুতের বিপরীতে পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ মোট প্রদেয় আয়করের বিপরীতে কর রেয়াত হিসেবে পাওয়া যাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ শুল্ক আরোপের পরও সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বছরে ২০ কোটি টাকারও কম। যা দেশের মোট রাজস্ব আয়ের তুলনায় খুবই সামান্য অংশ। ২০২২-২০২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত তিন বছরের হিসাব অনুযায়ী, এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা থেকে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা পর্যন্ত। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সামান্য রাজস্ব আয়ের বিপরীতে উচ্চ করহার দেশের সবুজ জ্বালানির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ব্যবহৃত অধিকাংশ যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত করভার আরোপিত রয়েছে, যা এ খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এইচএস কোড অনুযায়ী দেখা যায়, সোলার পিভি মডিউল, ফোটোভোল্টাইক সেল এবং সোলার ইনভার্টারের ওপর যথাক্রমে প্রায় ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ শুল্ক-কর রয়েছে। একইভাবে ডিসি কেবল ও অ্যালুমিনিয়াম মাউন্টিং স্ট্রাকচারের ওপর প্রায় ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ করভার বহাল রয়েছে। এছাড়া সোলার প্ল্যান্ট পরিচালনায় ব্যবহৃত মনিটরিং ইউনিট বা ডাটা লগার, সার্কিট বোর্ড বা বিএমএস এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের ওপর ৩১ থেকে ৩৭ শতাংশের বেশি করহার কার্যকর রয়েছে। বিশেষ করে রেডিমেড ব্যাটারি প্যাক ও ব্যাটারি সেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপরও প্রায় ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ শুল্ক-কর আরোপ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি করভার রয়েছে পিভি ডিজি কন্ট্রোলার বা হাইব্রিড কন্ট্রোলারের ওপর, যেখানে বর্তমান করহার প্রায় ৮৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এ ধরনের উচ্চ করহার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সামগ্রিক খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আগ্রহ থাকলেও তারা বাস্তবে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারছেন না। এছাড়া সোলার প্ল্যান্টে ব্যবহৃত সেফটি অ্যালুমিনিয়াম ও ওয়াকওয়ে মেশের মতো অবকাঠামোগত উপকরণের ওপরও ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ শুল্ক-কর আরোপ রয়েছে। এতে পুরো সোলার সিস্টেম স্থাপনের ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব যন্ত্রাংশে কর অব্যাহতি ও অন্যান্য কর সুবিধা দেওয়া হলে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়বে, আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে দেশের অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে শিল্প ও আবাসিক পর্যায়ে সোলার ব্যবহারের ব্যয় কমে আসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

সৌরবিদ্যুতে বড় কর সুবিধা দিচ্ছে সরকার, উৎপাদন ও ব্যবহারে মিলবে কর অব্যাহতি ও রেয়াত

আপডেট সময় ০২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০২ জুন ২০২৬ ইং| সময়: মঙ্গলবার, দুপুর ০২:৪৮ মিনিট। 

সৌরবিদ্যুতে বড় কর সুবিধা দিচ্ছে সরকার, উৎপাদন ও ব্যবহারে মিলবে কর অব্যাহতি ও রেয়াত

নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের কর সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আয়ের ওপর কর অব্যাহতি এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানকে কর রেয়াত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবসায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানায়, কর অব্যাহতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে আয়কর আইন-২০২৩ এর আওতায় নির্ধারিত সব বিধান অনুসরণ করতে হবে। কর সুবিধা পেতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পাদিত নির্দিষ্ট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা পিপিএ অনুযায়ী সরবরাহ করতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকলে তা নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনাও থাকতে পারে। আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কেটে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বিশেষ কর রেয়াত ঘোষণা করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তাদের মোট ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুতের বিপরীতে পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ মোট প্রদেয় আয়করের বিপরীতে কর রেয়াত হিসেবে পাওয়া যাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ শুল্ক আরোপের পরও সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বছরে ২০ কোটি টাকারও কম। যা দেশের মোট রাজস্ব আয়ের তুলনায় খুবই সামান্য অংশ। ২০২২-২০২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত তিন বছরের হিসাব অনুযায়ী, এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা থেকে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা পর্যন্ত। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সামান্য রাজস্ব আয়ের বিপরীতে উচ্চ করহার দেশের সবুজ জ্বালানির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ব্যবহৃত অধিকাংশ যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত করভার আরোপিত রয়েছে, যা এ খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এইচএস কোড অনুযায়ী দেখা যায়, সোলার পিভি মডিউল, ফোটোভোল্টাইক সেল এবং সোলার ইনভার্টারের ওপর যথাক্রমে প্রায় ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ শুল্ক-কর রয়েছে। একইভাবে ডিসি কেবল ও অ্যালুমিনিয়াম মাউন্টিং স্ট্রাকচারের ওপর প্রায় ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ করভার বহাল রয়েছে। এছাড়া সোলার প্ল্যান্ট পরিচালনায় ব্যবহৃত মনিটরিং ইউনিট বা ডাটা লগার, সার্কিট বোর্ড বা বিএমএস এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের ওপর ৩১ থেকে ৩৭ শতাংশের বেশি করহার কার্যকর রয়েছে। বিশেষ করে রেডিমেড ব্যাটারি প্যাক ও ব্যাটারি সেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপরও প্রায় ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ শুল্ক-কর আরোপ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি করভার রয়েছে পিভি ডিজি কন্ট্রোলার বা হাইব্রিড কন্ট্রোলারের ওপর, যেখানে বর্তমান করহার প্রায় ৮৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এ ধরনের উচ্চ করহার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সামগ্রিক খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আগ্রহ থাকলেও তারা বাস্তবে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারছেন না। এছাড়া সোলার প্ল্যান্টে ব্যবহৃত সেফটি অ্যালুমিনিয়াম ও ওয়াকওয়ে মেশের মতো অবকাঠামোগত উপকরণের ওপরও ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ শুল্ক-কর আরোপ রয়েছে। এতে পুরো সোলার সিস্টেম স্থাপনের ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব যন্ত্রাংশে কর অব্যাহতি ও অন্যান্য কর সুবিধা দেওয়া হলে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়বে, আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে দেশের অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে শিল্প ও আবাসিক পর্যায়ে সোলার ব্যবহারের ব্যয় কমে আসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।