জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২৯ মে ২০২৬ ইং,সময়: দুপুর ০২:১৬ মিনিট ফাইল ছবিকোরবানি থেকে রক্ষা পাওয়া ভাইরাল ‘অ্যালবিনো মহিষ’, চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল হওয়া বিরল অ্যালবিনো মহিষটি শেষ পর্যন্ত কোরবানির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সংরক্ষণের স্বার্থে মহিষটিকে রাখা হয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এই ব্যতিক্রমী প্রাণীটি। চিড়িয়াখানার ৭ নম্বর শেডে সাধারণ দর্শনার্থীদের দেখার জন্য মহিষটিকে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শেডের বাইরে মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ লেখা থাকায় অনেক দর্শনার্থীর মনেই প্রশ্ন উঠেছে—এটাই কি এখন প্রাণীটির আনুষ্ঠানিক নাম? তবে এ বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। এরই মধ্যে নামফলকে একটি মজার ভুলও নজরে এসেছে। সেখানে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ লেখার পরিবর্তে ভুলবশত লেখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’। ‘ট্র’ যুক্তাক্ষরের জায়গায় ‘ট্ট’ ব্যবহারের কারণে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে হাস্যরস ও ট্রলের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, গোলাপি-সাদা রঙের বিরল অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির মাথায় রয়েছে সোনালি আভাযুক্ত লোম এবং চোখে দেখা যায় ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য। এসব কারণেই খামারিরা শখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে এর নাম রাখেন। পরে মহিষটিকে ঘিরে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’, ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কী এই অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনিজম একটি জিনগত অবস্থা। এ অবস্থায় প্রাণীর শরীরে ‘মেলানিন’ নামের রঞ্জক পদার্থ খুব কম তৈরি হয় অথবা একেবারেই তৈরি হয় না। মূলত এই মেলানিনই প্রাণীর চামড়া, লোম ও চোখের স্বাভাবিক রং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেলানিনের ঘাটতির কারণে প্রাণীর শরীর সাদা, ফ্যাকাশে কিংবা গোলাপি আভাযুক্ত হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চোখও লালচে বা হালকা গোলাপি দেখা যায়, যা আলোর প্রতিফলনের কারণে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কতটা বিরল এই ধরনের প্রাণী জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী অত্যন্ত বিরল। বিশেষ করে গবাদিপশুর মধ্যে এ ধরনের বৈশিষ্ট্য খুব কম দেখা যায়। বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাজার কিংবা দশ হাজার প্রাণীর মধ্যে হয়তো একটি প্রাণীতে এমন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে বন্য পরিবেশে টিকে থাকার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও কম হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। কেন গুরুত্ব পায় এমন প্রাণী অ্যালবিনো প্রাণী শুধু ব্যতিক্রমী বা দৃষ্টিনন্দন বলেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; জীববৈচিত্র্য ও জিনগত গবেষণার ক্ষেত্রেও এদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রাণী নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে জিনগত পরিবর্তন এবং প্রাণীর অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

ডেস্ক রিপোর্ট 




















