হাটিকুমরুলে স্বস্তির বার্তা: নতুন ফ্লাইওভার লেনে ঈদযাত্রায় কমবে উত্তরবঙ্গের ভোগান্তি
জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২৪ মে ২০২৬ | সময়: ১১:১৯ মিনিট। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের যানজট ও দুর্ভোগ কমাতে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের বগুড়া-রংপুরমুখী ফ্লাইওভার লেন চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই লেন চালুর ফলে এবারের ঈদযাত্রা হবে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন। শনিবার (২৩ মে) হাটিকুমরুল এলাকায় যানবাহন চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন আশাবাদের চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের মতে, বহু বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নতুন লেন ঈদযাত্রায় গতি আনবে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল থেকেই ঢাকা-পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহন পৃথক হয়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে, ঈদের সময় সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছে যায়। ফলে প্রতিবছরই এখানে দীর্ঘ যানজট ও চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে গত ২১ মে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নতুন লেন খুলে দেওয়া হয়। এতে যানজট কমে মানুষের যাতায়াত সহজ হবে বলে আশা করছেন যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা থেকে রংপুরগামী বাসচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগেই লেনটি চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাত্রা এবার অনেকটাই স্বস্তির হবে। তার ভাষায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও আগের মতো দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হবে না এবং কয়েক মিনিটেই এই এলাকা পার হওয়া সম্ভব হবে। বগুড়াগামী বাসযাত্রী কামাল হোসেন বলেন, হাটিকুমরুল মোড় একসময় দুর্ভোগের প্রতীক ছিল। নতুন লেন চালুর ফলে এবার ঈদযাত্রা সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন। গাবতলী পশুর হাটে গরু নামিয়ে পলাশবাড়ীর পথে থাকা ট্রাকচালক হামিদুল হক জানান, ঈদের সময় পশুবাহী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নতুন লেন চালু হওয়ায় মালবাহী পরিবহন দ্রুত চলাচল করতে পারবে এবং সময়ও কম লাগবে। মিরপুর থেকে মোটরসাইকেলে রংপুরগামী শাকিল শেখও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি জানান, ঈদে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হতো এই এলাকায়, তবে এবার দ্রুত ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের দ্বিমুখী চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় চাপ বাড়বে। তার মতে, নতুন এই লেন সেই চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রকল্প সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত হাটিকুমরুলে এতদিন একটি মাত্র গোলচত্বর ঘিরেই উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করত। ফলে প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের শিকার হতেন চালক ও যাত্রীরা। অনেক সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটত। যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে যান চলাচল নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালে আন্তর্জাতিকমানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পে বিভিন্ন জেলার যানবাহনের জন্য আলাদা লেন এবং তিন চাকার যান চলাচলের জন্য পৃথক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন। ইতোমধ্যে বাউন্ডারি ওয়াল, এসএম বিডির ব্রিজ নির্মাণ ও সার্ভিস এরিয়াসহ যান চলাচলের জন্য ছয়টি সার্ভিস লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে যানজটের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাচ্ছেন এই পথে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকরা। সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সরফরাজ হোসাইন বলেন, উত্তরবঙ্গগামী প্রায় ৬০ শতাংশ যানবাহন এই লেন ব্যবহার করবে। তার মতে, এর ফলে এবারের ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে। তিনি জানান, ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিকমানের ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে জেলার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষ ও গরুর ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সে জন্য জেলা পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে। তিনি আরও জানান, গত ঈদে জেলায় ৫৮৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারের ঈদে যানবাহনের বাড়তি চাপ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

ডেস্ক রিপোর্ট 




















