ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়মের অভিযোগ: সচিব আফজাল হোসেনকে ঘিরে ভাতা কার্ড, ঘুষ ও সেবা বাণিজ্যের প্রশ্ন

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ২৩ মে ২০২৬ | সময়: বেলা ০৩:১২ মিনিট। ছবি সংগৃহীত

ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়মের অভিযোগ: সচিব আফজাল হোসেনকে ঘিরে ভাতা কার্ড, ঘুষ ও সেবা বাণিজ্যের প্রশ্ন

  সাভারের আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আফজাল হোসেনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও নাগরিক সেবা প্রদান নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী, সচেতন নাগরিক এবং একাধিক সূত্রের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি সেবা, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ভাতা কার্ড প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই আলোচনায় আসছে। অভিযোগ রয়েছে, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সেবার নির্ধারিত নিয়ম ও ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কাজ এগোতে চায় না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকের দাবি, টাকা দিতে না পারলে আবেদন ফাইল আটকে রাখা, বারবার ঘোরানো কিংবা অযথা সময়ক্ষেপণের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একজন বয়স্ক নারী ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি ভাতার কার্ড তো বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। চার মাস ধরে ঘুরছি, এখনো কাজ হয়নি।” স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কর্মচারী ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভাতা কার্ডকে কেন্দ্র করে একটি অনিয়মের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ব্যক্তি। তাদের দাবি, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন, আর প্রভাব বা আর্থিক সামর্থ্য থাকা ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এদিকে, অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে যাওয়া কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে আচরণ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রভাবিত বা ‘সমঝোতার’ চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ইউনিয়ন পরিষদ হলো তৃণমূল মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবা কেন্দ্র। সেখানে যদি মৌলিক সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পেতে অতিরিক্ত অর্থের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও আস্থাহীনতা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এটা শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়, এটা গরিব মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়। যারা সবচেয়ে অসহায়, তারাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকলেও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আফজাল হোসেনের সঙ্গে জেটিভি নিউজ বাংলা মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে উপস্থাাপন বলে মন্তব্য করেন। স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।    

বিস্তারিত আসছে জেটিভি নিউজ বাংলা এর ভিডিও নিউজ এ.....

   

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়মের অভিযোগ: সচিব আফজাল হোসেনকে ঘিরে ভাতা কার্ড, ঘুষ ও সেবা বাণিজ্যের প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ২৩ মে ২০২৬ | সময়: বেলা ০৩:১২ মিনিট। ছবি সংগৃহীত

ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়মের অভিযোগ: সচিব আফজাল হোসেনকে ঘিরে ভাতা কার্ড, ঘুষ ও সেবা বাণিজ্যের প্রশ্ন

  সাভারের আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আফজাল হোসেনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও নাগরিক সেবা প্রদান নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী, সচেতন নাগরিক এবং একাধিক সূত্রের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি সেবা, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ভাতা কার্ড প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই আলোচনায় আসছে। অভিযোগ রয়েছে, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সেবার নির্ধারিত নিয়ম ও ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কাজ এগোতে চায় না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকের দাবি, টাকা দিতে না পারলে আবেদন ফাইল আটকে রাখা, বারবার ঘোরানো কিংবা অযথা সময়ক্ষেপণের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একজন বয়স্ক নারী ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি ভাতার কার্ড তো বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। চার মাস ধরে ঘুরছি, এখনো কাজ হয়নি।” স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কর্মচারী ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভাতা কার্ডকে কেন্দ্র করে একটি অনিয়মের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ব্যক্তি। তাদের দাবি, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন, আর প্রভাব বা আর্থিক সামর্থ্য থাকা ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এদিকে, অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে যাওয়া কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে আচরণ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রভাবিত বা ‘সমঝোতার’ চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ইউনিয়ন পরিষদ হলো তৃণমূল মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবা কেন্দ্র। সেখানে যদি মৌলিক সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পেতে অতিরিক্ত অর্থের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও আস্থাহীনতা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এটা শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়, এটা গরিব মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়। যারা সবচেয়ে অসহায়, তারাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকলেও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আফজাল হোসেনের সঙ্গে জেটিভি নিউজ বাংলা মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে উপস্থাাপন বলে মন্তব্য করেন। স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।    

বিস্তারিত আসছে জেটিভি নিউজ বাংলা এর ভিডিও নিউজ এ.....

   

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....