তারিখ: ১৯ মে ২০২৬ ইং| সময়: সকাল,৭:৩০ মিনিট।
চাপারহাটে নির্ধারিত হাসিলের দ্বিগুণ আদায়ের অভিযোগ,
ইজারাদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রেতা-বিক্রেতাদের
লালমনিরহাট জেলার বড় হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাপারহাট। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগলের ক্রেতা ও ব্যাপারীরা এই হাটে আসেন। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আগেভাগেই জমে উঠেছে হাটটি। তবে সেই সুযোগে নির্ধারিত হাসিল বা খাজনার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হাটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে।
ক্রেতা-বিক্রেতা, ব্যাপারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চাপারহাট দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গরুর বাজার। সপ্তাহে প্রতি শুক্র ও সোমবার এখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। ব্যবসায়িক গুরুত্বের কারণে হাটটি উত্তর জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পশুর বাজার হিসেবে পরিচিত।
এবার হাটটির ইজারা পেয়েছেন হাবিবুর রহমান। তিনি নিজেকে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দিন বাবুলের ভাগনে হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। যদিও স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও দলীয় কোনো পদে নেই বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিধি অনুযায়ী হাটে প্রতি গরু বিক্রিতে ক্রেতার কাছ থেকে ৪৯৫ টাকা এবং প্রতি ছাগলে ১১০ টাকা হাসিল নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এই অর্থ শুধু ক্রেতার কাছ থেকেই নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রতি গরুতে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং প্রতি ছাগলে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু ক্রেতা নয়, বিক্রেতার কাছ থেকেও আলাদাভাবে হাসিল নেওয়া হচ্ছে। প্রতি গরুতে বিক্রেতার কাছ থেকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ক্রেতার কাছ থেকে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া হাসিল আদায়ের একাধিক রশিদে টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করে শুধু গরু বা ছাগলের বর্ণনা লেখা হচ্ছে।
গরু ব্যবসায়ী লেবু মিয়া জানান, প্রতি গরু বিক্রিতে বিক্রেতার কাছ থেকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ক্রেতার কাছ থেকে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমি চারটি গরু বিক্রি করে ৩ হাজার ২০০ টাকা খাজনা দিয়েছি। ক্রেতারা অনুরোধ করায় তাদের অংশও আমাকে দিতে হয়েছে। আশপাশের হাটে যেখানে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়, সেখানে চাপারহাটে প্রায় দ্বিগুণ খাজনা দিতে হয়।”
একই অভিযোগ করেন ক্রেতা মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, “আমি একটি গরু কিনেছি। বিক্রেতা ও ক্রেতা মিলিয়ে ৮০০ টাকা খাজনা দিতে হয়েছে। প্রতি ছাগলেও ৪০০ টাকা দিতে হয়। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী একটি গরুতে ৪৯৫ টাকা এবং ছাগলে ১১০ টাকা শুধু ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়ার কথা। বিক্রেতার কাছ থেকে খাজনা নেওয়ার নিয়ম নেই। রশিদে টাকার পরিমাণও স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার কথা। কিন্তু তা না করে দুজনের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কথা বললে ইজারাদার নিজেকে এমপির ভাগনে পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার হাবিবুর রহমান বলেন, “হাটের খাজনা দ্বিগুণ নিচ্ছি নাকি কম নিচ্ছি, এটা আপনার জানার দরকার নেই। এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল সব সময় আমার খবর রাখেন। তিনি সময় জানেন। আপনিও এসে চা খেয়ে যান। এসব নিয়ে কথা বলার দরকার নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দিন বাবুলের মোবাইল নম্বরে তিন দিন ধরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে রবিবার কালীগঞ্জ উপজেলার চামটাহাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নওশাদ আলম। অভিযান শেষে চাপারহাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ ক্রেতা-বিক্রেতারা তার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ জানান। তবে সে সময় চাপারহাটে অভিযান পরিচালনা না করে উপস্থিতদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আশ্বাস দিয়ে চলে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে ওঠা চাপারহাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের এই অভিযোগে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....