জবাবদিহিমূলক নতুন এলিট ফোর্স গঠনে আইন আনছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ | সময়: ৬:২৩ মিনিট জবাবদিহিমূলক, আধুনিক ও মানবাধিকারসম্মত এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে র্যাবের আইনি কাঠামোতে সংস্কার এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৭ মে) দুপুরে র্যাব সদর দফতরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, র্যাব মূলত বাংলাদেশ পুলিশ (৪৪ শতাংশ), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (৪৪ শতাংশ) এবং আনসার, বিজিবি ও সিভিল স্টাফদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত এলিট ফোর্স। তবে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। র্যাবের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে শেখ হাসিনা তার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এই বাহিনীকে পুতুলের মতো ব্যবহার করেছিলেন। কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আইনবহির্ভূত ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ পুরো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনও ব্যক্তি বা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপরাধের দায়-দায়িত্ব পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।” তিনি বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাহিনীর আইনি কাঠামো অনুযায়ী কঠোর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের আওতায় বাহিনীকে সংস্কার, পুনর্গঠন কিংবা নতুন নামে পরিচালিত করা হলে মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে র্যাব কোনও স্বাধীন ও সুনির্দিষ্ট আইনের অধীনে পরিচালিত হয়নি। বরং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) আইনের একটি বিশেষ ধারার ওপর ভিত্তি করে ‘অ্যাডহক’ কাঠামোয় বাহিনীটি পরিচালিত হয়ে এসেছে। একটি রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স দীর্ঘদিন এ ধরনের অন্তর্বর্তী কাঠামোয় চলতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘আইন প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করেছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটির কাজ তিনি নিজেই সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন। প্রস্তাবিত নতুন আইনে বাহিনীর সুনির্দিষ্ট কর্তৃত্ব, দায়িত্বের পরিধি, কঠোর জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিধান যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে র্যাবের বিদ্যমান সম্পদ, লজিস্টিকস ও সক্ষমতাও নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় প্রতিস্থাপিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে পুলিশ, র্যাব কিংবা অন্য কোনও বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা কোনও দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এই বাহিনীগুলোর একমাত্র লক্ষ্য।” গুম কমিশন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী গুম কমিশনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট আইনগত এখতিয়ার ছিল না, ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ অবস্থায় সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধন ও আরও কার্যকর করার কাজ করছে। মন্ত্রী জানান, আইন সংস্কার সম্পন্ন হলে গুমের শিকার ব্যক্তি, গুমের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তি কিংবা নিখোঁজদের সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অপরাধের বিচার সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় বিশেষ আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার সরাসরি ন্যায়বিচার পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, র্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশসহ বিভিন্ন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

ডেস্ক রিপোর্ট 




















