ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৬ মে ২০২৬ ইং | সময়: ০৯:৩৩ মিনিট

মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যক্তি যত বড় পদেই থাকুন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, অপরাধীকে শুধুমাত্র অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। সর্বশেষ গত ১০ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী আবারও একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছেও মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহি করতে হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের সভার মাধ্যমে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, অনিয়ম ও সরকারের উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কী প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে বিশ্লেষণ। ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে নির্বাচিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাৎ হোসেন সেলিম বলেন, সংসদীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং যেকোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন। তিনি বলেন, “কাউকেই জবাবদিহির বাইরে রাখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। ফলে আমরাও এখন যেকোনও কাজের আগে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি।” অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতারা সরকারের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, অতীতের প্রায় সব সরকারই শুরুতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ছিল। তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব চাইতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে সরকার পরিষ্কার অবস্থান দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কও সামনে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সরকার যেহেতু ছয় মাস সময় চেয়েছে, তাই আরও কিছু সময় দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, অতীতেও সরকারপ্রধানরা মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির বিষয়ে নানা কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য বাস্তবে কার্যকর হবে বলে তারা বিশ্বাস করতে চান। অন্যথায় জনগণ আগের সরকারগুলোর সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য খুঁজতে শুরু করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিভিন্ন সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপির প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে। দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধেই নন, পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছেন এবং সরকার সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, “কোনও অনিয়ম ও অন্যায়কারীকেই প্রধানমন্ত্রী ছাড় দেবেন না।”      

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

আপডেট সময় ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৬ মে ২০২৬ ইং | সময়: ০৯:৩৩ মিনিট

মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যক্তি যত বড় পদেই থাকুন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, অপরাধীকে শুধুমাত্র অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। সর্বশেষ গত ১০ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী আবারও একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছেও মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহি করতে হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের সভার মাধ্যমে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, অনিয়ম ও সরকারের উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কী প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে বিশ্লেষণ। ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে নির্বাচিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাৎ হোসেন সেলিম বলেন, সংসদীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং যেকোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন। তিনি বলেন, “কাউকেই জবাবদিহির বাইরে রাখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। ফলে আমরাও এখন যেকোনও কাজের আগে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি।” অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতারা সরকারের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, অতীতের প্রায় সব সরকারই শুরুতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ছিল। তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব চাইতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে সরকার পরিষ্কার অবস্থান দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কও সামনে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সরকার যেহেতু ছয় মাস সময় চেয়েছে, তাই আরও কিছু সময় দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, অতীতেও সরকারপ্রধানরা মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির বিষয়ে নানা কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য বাস্তবে কার্যকর হবে বলে তারা বিশ্বাস করতে চান। অন্যথায় জনগণ আগের সরকারগুলোর সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য খুঁজতে শুরু করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিভিন্ন সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপির প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে। দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধেই নন, পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছেন এবং সরকার সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, “কোনও অনিয়ম ও অন্যায়কারীকেই প্রধানমন্ত্রী ছাড় দেবেন না।”      

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....