“আবাসিক এলাকায় মৃত্যুফাঁদ সোয়েটার কারখানা! প্রভাবশালী মেম্বার ছানোয়ারের ছত্রছায়ায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি”
জেটিভি নিউজ বাংলা | অনুসন্ধ্যান দৃষ্টি
তারিখ: ০৮ মে ২০২৬ | সময়: ০৬:৪৩ মিনিট রাজধানীর ময়লার মোড় এলাকায় আবাসিক ভবনের ভেতরে গড়ে উঠেছে অনুমতিহীন ঝুঁকিপূর্ণ সোয়েটার কারখানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে এই কারখানা। আর এসবের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বার ছানোয়ারের ছত্রছায়া রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কারখানাটির নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ECC সনদ। নেই কোনো কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। কারখানার মেশিন, জেনারেটর ও রাসায়নিক বর্জ্যে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় ভারী মেশিন পরিচালনার কারণে তৈরি হয়েছে অগ্নিঝুঁকি ও শব্দ দূষণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেম্বার ছানোয়ার তার রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ এই কারখানা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে সানোয়ার মেম্বারকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মেম্বার ছানোয়ার জেটিভি নিউজ বাংলাকে বলেন অবৈধ সমস্যা তাই কি এসব কিছুর দায়িত্ব কি আপনাকে দিয়েছে কেউ? গোপন সূত্রে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা জেটিভি নিউজ বাংলার “অনুসন্ধ্যান দৃষ্টি” দ্বিতীয় পর্বে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। কারখানাটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউর আক্তার বলেন— “আমি আজকে আপনাদের মাধ্যমে এই অবৈধ কারখানার বিষয়ে জানলাম। তবে আপনাদের প্রচারিত সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছানোর পর আমরা শতভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কারখানাটি বন্ধ করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই কারখানা পরিচালনার বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন— “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে সিলগালা, জেল ও জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে, কারণ আপনাদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, কারখানাটিতে পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ নেই। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত ফায়ার ড্রিল করানো হয় কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া বৈদ্যুতিক তারের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ ও অপরিকল্পিত মেশিন স্থাপনের কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অবৈধ কারখানা বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। জেটিভি নিউজ বাংলার অনুসন্ধ্যান দৃষ্টি টিমের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে থাকছে— কারা দিচ্ছে এই অবৈধ কারখানার নিরাপত্তা, কোথায় যাচ্ছে অভিযোগের ফাইল, এবং কীভাবে চলছে অনুমতিহীন শিল্পকারখানার গোপন সিন্ডিকেট।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

বিশেষ অনুসন্ধ্যান রিপোর্ট 




















