ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনায় একাধিক নাম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

jtvnewsbangla তারিখ: ৬ মে ২০২৬ ইং, সময়: ০৯:২৪ মিনিট।

 পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনায় একাধিক নাম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় পাওয়ার পর এখন শুধু শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই নির্বাচনী প্রচারে ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি জয়ী হলে তিনি নিজে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কে হচ্ছেন সেই মুখ্যমন্ত্রী? বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে বিজেপি কোনো নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করেনি। অতীতে রাজস্থান, দিল্লি, ওড়িশা কিংবা মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যেও বিজেপি আগে থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী না জানিয়ে পরে নতুন বা কম পরিচিত কাউকে দায়িত্ব দিয়েছে— সেই নজির এখানে আবারও দেখা যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গেও একই কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। তবে ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কয়েকটি নাম ঘুরছে আলোচনায়। শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্রেই জয় পেয়েছেন। বিশেষ করে ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জীকে হারানো তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। গত পাঁচ বছর ধরে বিজেপির পক্ষে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদের ‘ফ্রন্টরানার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর আগে— এর আগে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা। ফলে দলের পুরনো নেতাদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া আরএসএসের প্রভাবও তার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বপন দাশগুপ্ত স্বপন দাশগুপ্ত একজন ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির মনোনীত রাজ্যসভার সদস্য হন এবং ২০১৫ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান লাভ করেন। এবার দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রে জয় পেয়ে আলোচনায় আসেন। তবে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি ও সংগঠন পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে— যা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। তাকে দলের তুলনামূলক উদার ও সহিষ্ণু মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ উপনির্বাচনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম এমএলএ হন। তবে তিনি বড় মাপের জননেতা হিসেবে পরিচিত নন এবং সাংগঠনিক দক্ষতাও খুব বেশি পরীক্ষিত নয়। তবে সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে তার নাম সামনে আসতে পারে। অগ্নিমিত্রা পাল পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল প্রায় সাত বছর আগে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে আসানসোল থেকে প্রথমবার জয়ী হন এবং এবারও সেই আসন ধরে রেখেছেন। দলের একটি অংশ চাইছে, দীর্ঘদিন পর পরিবর্তনের পর নতুন সরকার একজন নারীর নেতৃত্বে হোক। সেই বিবেচনায় তার নাম উঠে আসছে। তবে তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ হওয়ায় তাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্মৃতি ইরানি সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেন এবং বাংলা ভাষায় সাবলীল। ২০১৯ সালে আমেঠিতে রাহুল গান্ধীকে হারিয়ে আলোচনায় আসেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি কিছুটা রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন। ফলে তাকে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী করে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে— এমন জল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন— তা এখনো নিশ্চিত নয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও পর্যবেক্ষকদের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সূত্র:jবিবিসি বাংলা    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনায় একাধিক নাম

আপডেট সময় ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

jtvnewsbangla তারিখ: ৬ মে ২০২৬ ইং, সময়: ০৯:২৪ মিনিট।

 পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনায় একাধিক নাম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় পাওয়ার পর এখন শুধু শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই নির্বাচনী প্রচারে ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি জয়ী হলে তিনি নিজে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কে হচ্ছেন সেই মুখ্যমন্ত্রী? বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে বিজেপি কোনো নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করেনি। অতীতে রাজস্থান, দিল্লি, ওড়িশা কিংবা মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যেও বিজেপি আগে থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী না জানিয়ে পরে নতুন বা কম পরিচিত কাউকে দায়িত্ব দিয়েছে— সেই নজির এখানে আবারও দেখা যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গেও একই কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। তবে ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কয়েকটি নাম ঘুরছে আলোচনায়। শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্রেই জয় পেয়েছেন। বিশেষ করে ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জীকে হারানো তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। গত পাঁচ বছর ধরে বিজেপির পক্ষে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদের ‘ফ্রন্টরানার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর আগে— এর আগে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা। ফলে দলের পুরনো নেতাদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া আরএসএসের প্রভাবও তার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বপন দাশগুপ্ত স্বপন দাশগুপ্ত একজন ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির মনোনীত রাজ্যসভার সদস্য হন এবং ২০১৫ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান লাভ করেন। এবার দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রে জয় পেয়ে আলোচনায় আসেন। তবে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি ও সংগঠন পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে— যা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। তাকে দলের তুলনামূলক উদার ও সহিষ্ণু মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ উপনির্বাচনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম এমএলএ হন। তবে তিনি বড় মাপের জননেতা হিসেবে পরিচিত নন এবং সাংগঠনিক দক্ষতাও খুব বেশি পরীক্ষিত নয়। তবে সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে তার নাম সামনে আসতে পারে। অগ্নিমিত্রা পাল পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল প্রায় সাত বছর আগে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে আসানসোল থেকে প্রথমবার জয়ী হন এবং এবারও সেই আসন ধরে রেখেছেন। দলের একটি অংশ চাইছে, দীর্ঘদিন পর পরিবর্তনের পর নতুন সরকার একজন নারীর নেতৃত্বে হোক। সেই বিবেচনায় তার নাম উঠে আসছে। তবে তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ হওয়ায় তাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্মৃতি ইরানি সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেন এবং বাংলা ভাষায় সাবলীল। ২০১৯ সালে আমেঠিতে রাহুল গান্ধীকে হারিয়ে আলোচনায় আসেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি কিছুটা রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন। ফলে তাকে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী করে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে— এমন জল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন— তা এখনো নিশ্চিত নয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও পর্যবেক্ষকদের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সূত্র:jবিবিসি বাংলা    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....