জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ৫ মে ২০২৬ ইং | সময়: ৯:৩৪ মিনিট।পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘিরে বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থানে ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস-এর দেড় দশকের ক্ষমতার ভিত্তি। বাংলাদেশের সঙ্গে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ঘনিষ্ঠ এই রাজ্যে বিজেপির সম্ভাব্য ক্ষমতায় আসা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একাধিক নেতা মনে করছেন, এই পরিবর্তন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তাদের মতে, ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় সম্পর্ক স্থিতিশীলই থাকবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক নির্ভরশীল। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, সম্পর্ক অবনতির কোনো যৌক্তিক কারণ তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, সম্পর্ক যদি একতরফা নিয়ন্ত্রণের দিকে না যায়, তাহলে তা স্থিতিশীল থাকবে। সোমবার (৪ মে) রাতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানান, পশ্চিমবঙ্গের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হলেও বিজেপির ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। তবে এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে তিনি মনে করেন। একইভাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একটি আঞ্চলিক বিষয় এবং একটি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারণ করে না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নতির দিকেই রয়েছে। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তির কারণেই চুক্তিটি এগোয়নি। সেই হিসেবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই বাধা দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আসাদুজ্জামান রিপন আরও বলেন, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর স্থিতিশীলতা প্রতিবেশী দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হলে তা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম খান হিরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য জয় বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না। কারণ, দলটি কেন্দ্রীয় সরকারে রয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। তার দাবি, এতদিন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অবস্থানের কারণে কিছু অমীমাংসিত ইস্যু আটকে ছিল। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দল থাকলে সেসব বাধা দূর হতে পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্য বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল বলেন, গত পাঁচ দশকে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দল কখনো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল না—এবারই বড় পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। তার মতে, এতদিন কেন্দ্র ও রাজ্যের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ বাম শাসনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে তরুণ ভোটাররা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের আশায় বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। তবে সবশেষে তিনি স্পষ্ট করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই তার ধারণাজেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....
#ভারত #বাংলাদেশ#রাজনীতি #সম্পর্ক

Reporter Name 




















